দেড় মাস ধরে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ বন্ধ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩
  • ১৬৬৫ বার পড়া হয়েছে

প্রায় দেড় মাস বন্ধ রয়েছে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ বা ছাপানো কার্যক্রম। আর্থিক জটিলতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে এ অচলাবস্থা চলছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অত্যাবশ্যকীয় এ কার্ডের সেবাপ্রার্থী ও আবেদনকারীরা। যদিও আগামী সপ্তাহ থেকে স্মার্টকার্ড ছাপানো কার্যক্রম আবারও শুরু হবে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি, স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন বাবদ বকেয়া থাকায় বর্তমানে কার্ড ছাপানো বন্ধ আছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে প্রায় এক মাস স্মার্টকার্ড ছাপানো বন্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৎকালীন প্রায় একশ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ছিল। পরে আলোচনা সাপেক্ষে পুনরায় এ সেবা চালু করা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, কারিগরি ত্রুটি এবং আর্থিক জটিলতার কারণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে নাগরিকদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্মার্টকার্ড ছাপানো কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) স্মার্টকার্ড মুদ্রণ বন্ধ রেখেছে। যদিও বিএমটিএফ দাবি করছে, কারিগরি ত্রুটির কারণেই কার্ড ছাপানো বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। তবে দ্রুতই এটি চালু হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমটিএফের একজন কর্মকর্তা জানান, স্মার্টকার্ড কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়ে আমাদের নির্বাচন কমিশন থেকে অফিসিয়ালি কিছুই জানানো হয়নি। তবে আনঅফিসিয়ালি জেনেছি স্মার্টকার্ড কার্যক্রম বন্ধ আছে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

জানা গেছে, স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করার জন্য ফ্রান্স থেকে দশটি মেশিন আনা হয়েছিল। তার মধ্যে মাত্র ৭টি মেশিন সচল রয়েছে। সেগুলোর প্রায় সাত বছর পার হয়েছে। মেশিনগুলোতে মাঝেমধ্যেই সমস্যা হচ্ছে। যদিও আনার সময় এগুলোর মেয়াদকাল দশ বছর বলা হয়েছিল। মেশিনগুলো প্রতিদিন, সপ্তাহে ও মাসে একবার করে পরিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে ডিপ ক্লিনিংও করা হয়। আর ডিপ ক্লিনিংয়ের সময় পুরো মেশিন খুলতে হয়। ফলে তখন কয়েকদিন স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ রাখতে হয়। এ কারণে এর আগেও মাঝেমধ্যে স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ ছিল। তবে এবার স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ রয়েছে অন্য কারণে। স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন বাবদ ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি

(বিএমটিএফ) থেকে জানানো হয়েছে। এই টাকা পরিশোধ নিয়ে ইসি ও বিএমটিএফের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। এই বকেয়া টাকা না দেওয়ার কারণেই মূলত এবার স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের আলোচনায় বেশিরভাগ টাকা পরিশোধের শর্তে পুনরায় স্মার্টকার্ড প্রিন্ট কার্যক্রম শুরু শিগগিরই শুরু হতে পারে।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রথম স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হয় নাগরিকদের। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৭ কোটি ১০ লাখের বেশি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমদিকে ফ্রান্সের কোম্পানি ওবার্থুর টেকনোলজির মাধ্যমে স্মার্টকার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু নানান জটিলতার কারণে সেটি থেকে সরে গিয়ে বিএমটিএফের মাধ্যমে স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন করে নির্বাচন কমিশন। পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পরিবর্তে দেশের ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিস (আইডিইএ)’ প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে গৃহীত হওয়ার পর এক যুগে ছয়বার মেয়াদ বেড়েছে প্রকল্পটির। আরও ৩ কোটি নাগরিককে স্মার্টকার্ড দিতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সময়ও দুই বছর পেরিয়ে গেছে। নতুন প্রকল্প ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা। যদিও এখন পর্যন্ত কেবল সমঝোতা স্মারক চুক্তিই স্বাক্ষর হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, মূলত মেশিন নষ্ট থাকার কারণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্মার্টকার্ড ছাপানো বন্ধ রয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকেই পুনরায় স্মার্টকার্ড ছাপানো কার্যক্রম শুরু হবে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় মাস ধরে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ বন্ধ

আপডেট সময় : ১২:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

প্রায় দেড় মাস বন্ধ রয়েছে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ বা ছাপানো কার্যক্রম। আর্থিক জটিলতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে এ অচলাবস্থা চলছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অত্যাবশ্যকীয় এ কার্ডের সেবাপ্রার্থী ও আবেদনকারীরা। যদিও আগামী সপ্তাহ থেকে স্মার্টকার্ড ছাপানো কার্যক্রম আবারও শুরু হবে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি, স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন বাবদ বকেয়া থাকায় বর্তমানে কার্ড ছাপানো বন্ধ আছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে প্রায় এক মাস স্মার্টকার্ড ছাপানো বন্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৎকালীন প্রায় একশ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ছিল। পরে আলোচনা সাপেক্ষে পুনরায় এ সেবা চালু করা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, কারিগরি ত্রুটি এবং আর্থিক জটিলতার কারণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে নাগরিকদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্মার্টকার্ড ছাপানো কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) স্মার্টকার্ড মুদ্রণ বন্ধ রেখেছে। যদিও বিএমটিএফ দাবি করছে, কারিগরি ত্রুটির কারণেই কার্ড ছাপানো বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। তবে দ্রুতই এটি চালু হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমটিএফের একজন কর্মকর্তা জানান, স্মার্টকার্ড কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়ে আমাদের নির্বাচন কমিশন থেকে অফিসিয়ালি কিছুই জানানো হয়নি। তবে আনঅফিসিয়ালি জেনেছি স্মার্টকার্ড কার্যক্রম বন্ধ আছে। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

জানা গেছে, স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করার জন্য ফ্রান্স থেকে দশটি মেশিন আনা হয়েছিল। তার মধ্যে মাত্র ৭টি মেশিন সচল রয়েছে। সেগুলোর প্রায় সাত বছর পার হয়েছে। মেশিনগুলোতে মাঝেমধ্যেই সমস্যা হচ্ছে। যদিও আনার সময় এগুলোর মেয়াদকাল দশ বছর বলা হয়েছিল। মেশিনগুলো প্রতিদিন, সপ্তাহে ও মাসে একবার করে পরিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজনে ডিপ ক্লিনিংও করা হয়। আর ডিপ ক্লিনিংয়ের সময় পুরো মেশিন খুলতে হয়। ফলে তখন কয়েকদিন স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ রাখতে হয়। এ কারণে এর আগেও মাঝেমধ্যে স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ ছিল। তবে এবার স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ রয়েছে অন্য কারণে। স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন বাবদ ১১৪ কোটি টাকা বকেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি

(বিএমটিএফ) থেকে জানানো হয়েছে। এই টাকা পরিশোধ নিয়ে ইসি ও বিএমটিএফের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। এই বকেয়া টাকা না দেওয়ার কারণেই মূলত এবার স্মার্টকার্ড প্রিন্ট বন্ধ রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের আলোচনায় বেশিরভাগ টাকা পরিশোধের শর্তে পুনরায় স্মার্টকার্ড প্রিন্ট কার্যক্রম শুরু শিগগিরই শুরু হতে পারে।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রথম স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হয় নাগরিকদের। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৭ কোটি ১০ লাখের বেশি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমদিকে ফ্রান্সের কোম্পানি ওবার্থুর টেকনোলজির মাধ্যমে স্মার্টকার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু নানান জটিলতার কারণে সেটি থেকে সরে গিয়ে বিএমটিএফের মাধ্যমে স্মার্টকার্ড পারসোনালাইজেশন করে নির্বাচন কমিশন। পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পরিবর্তে দেশের ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিস (আইডিইএ)’ প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১১ সালে গৃহীত হওয়ার পর এক যুগে ছয়বার মেয়াদ বেড়েছে প্রকল্পটির। আরও ৩ কোটি নাগরিককে স্মার্টকার্ড দিতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার সময়ও দুই বছর পেরিয়ে গেছে। নতুন প্রকল্প ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা। যদিও এখন পর্যন্ত কেবল সমঝোতা স্মারক চুক্তিই স্বাক্ষর হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, মূলত মেশিন নষ্ট থাকার কারণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্মার্টকার্ড ছাপানো বন্ধ রয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকেই পুনরায় স্মার্টকার্ড ছাপানো কার্যক্রম শুরু হবে।