এক স্কুলেই লেখাপড়া করছে ২০ যমজ ভাই-বোন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩
  • ১৭১৪ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে একসঙ্গে এক বিদ্যালয়ে ১০ জোড়া যমজ ভাই-বোন পড়াশোনা করছে৷ বিষয়টি আলোড়ন ফেলেছে পুরো জেলাজুড়ে৷

সদর উপজেলার মথুরাপুর পাবলিক হাইস্কুলে একসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়াশোনা করে ২০ জন যমজ ভাই-বোন।

বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে তাহসিন-তাসনিম ও সান-মুন, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে কার্তিক-গণেশ, হাবিব-হাফিজ ও সুমাইয়া-সাদিয়া, অষ্টম শ্রেণিতে শুভ-সৌরভ, নবম শ্রেণিতে হাসি-খুশি ও তাহবি-তাসবি এবং দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করেন আবিদ-অমিত ও রাহুল রাহা- চঞ্চল রাহা। তারা সবাই যমজ ভাইবোন৷

যমজ ভাই-বোনদের চেহারায় মিল থাকায় তাদের নিশ্চিত করতে খানিকটা বিড়ম্বনা হলেও তাদের সাথে নিয়ে বেশ উপভোগ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

দুইজন একসঙ্গে বেড়ে ওঠাকে বেশ গর্বের সাথে দেখছে যমজ ভাই-বোনেরা৷

ষষ্ঠ শ্রেণীর যমজ দুই ভাই সান ও মুন বলে, “আমরা দুই ভাই একসঙ্গে খাওয়া, খেলাধুলা ও স্কুলে আসা-যাওয়া করে থাকি৷ আমাদের দুজনের পছন্দ মাংস-ভাত৷ শুধু দুজনের দুই রঙ পছন্দ ৷ একজনের লাল আরেকজনের নীল ৷ আমরা একই পোশাক
পরে বিভিন্ন জায়গায় যাই ৷ শুধু পোশাক না আমাদের জুতা, চশমা, প্যান্ট সব একরকম। এসব আমাদের খুব ভালো লাগে৷ তবে আমরা কে কোনটা তা অনেকে চিনতে পারেন না। আমরা এ বিষয়টাকে বেশি উপভোগ করি।”

সপ্তম শ্রেণীর যমজ দুই বোন সুমাইয়া ও সাদিয়া বলে, “আমাদের সবকাজগুলো আমরা একসঙ্গে করি। আমাদের দুজনের প্রিয় রঙ হল নীল ৷ আমরা একসঙ্গে স্কুলে আসি, একসঙ্গে ক্লাসে বসি৷ টিফিনের সময় আবার একসঙ্গে খেলাধুলা করে থাকি। সব কাজগুলো আমরা একসঙ্গে করি৷ ক্লাসের সময় একজনকে বকা দিলে আমাদের আরেকজনের খুব খারাপ লাগে৷ স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা আমাদের চিনতে পারেনা৷ তখন একসঙ্গে দুজনকে ডাকে বিষয়টি খুব ভালো লাগে।”

নবম শ্রেণির যমজ দুই বোন হাসি ও খুশি বলে, “আমাদের একটা বড় সুবিধা হল কেউ কোন কিছু ভুল করলে একজন আরেকজনকে চাপিয়ে দেওয়া যায়৷ পরে আবার আমরা একসঙ্গে মিলে যাই ৷ আর পরিবার, আত্নীয়-স্বজন ও শিক্ষকদের কাছেও আমরা বেশ আদর পাই ৷ আমরা পুরো সময়টা একসঙ্গে কাঁটাই। আমরা জমজ হয়ে অনেক খুশি “

এছাড়াও সুমাইয়া-সাদিয়া, হাবিব-হাফিজ, তাহবি-তাসবি সহ অন্যান্য যমজ ছাত্রছাত্রীরা একই কথা ব্যক্ত করে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, যমজ বিষয়টি আমি বেশ উপভোগ করি৷ তারা যখন পাশাপাশি বসে তখন তাদের দেখতেও ভালো লাগে। তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। তারা যাতে ভালো কিছু করে সেই বিষয়ে উৎসাহিত করি৷”

মথুরাপুর পাবলিক হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে ২০ জন যমজ ভাই-বোন পড়াশোনা করেন৷ তাদের নামগুলো প্রায় একই রকম ও চেহারার মিলও দেখা যায়। সে কারণে কোনটা কে সেটা বুঝতে মাঝে মাঝে বিড়ম্বনায় পরতে হয়। তবুও আমরা যমজ বিষয়টি বেশ উপভোগ করছি। এ ছাড়াও লক্ষ্য করেছি তাদের মেধাও প্রায় সমান হয়৷ একজনের শ্রেণীর রোল নাম্বার দুই হলে অপরজনের তিন হয়। তাদের আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ একই রকম৷ তারা একসঙ্গে থাকতে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। আশা করছি, তারা সকলে ভালো কিছু করবে “

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক স্কুলেই লেখাপড়া করছে ২০ যমজ ভাই-বোন

আপডেট সময় : ০১:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩

ঠাকুরগাঁওয়ে একসঙ্গে এক বিদ্যালয়ে ১০ জোড়া যমজ ভাই-বোন পড়াশোনা করছে৷ বিষয়টি আলোড়ন ফেলেছে পুরো জেলাজুড়ে৷

সদর উপজেলার মথুরাপুর পাবলিক হাইস্কুলে একসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়াশোনা করে ২০ জন যমজ ভাই-বোন।

বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে তাহসিন-তাসনিম ও সান-মুন, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে কার্তিক-গণেশ, হাবিব-হাফিজ ও সুমাইয়া-সাদিয়া, অষ্টম শ্রেণিতে শুভ-সৌরভ, নবম শ্রেণিতে হাসি-খুশি ও তাহবি-তাসবি এবং দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করেন আবিদ-অমিত ও রাহুল রাহা- চঞ্চল রাহা। তারা সবাই যমজ ভাইবোন৷

যমজ ভাই-বোনদের চেহারায় মিল থাকায় তাদের নিশ্চিত করতে খানিকটা বিড়ম্বনা হলেও তাদের সাথে নিয়ে বেশ উপভোগ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

দুইজন একসঙ্গে বেড়ে ওঠাকে বেশ গর্বের সাথে দেখছে যমজ ভাই-বোনেরা৷

ষষ্ঠ শ্রেণীর যমজ দুই ভাই সান ও মুন বলে, “আমরা দুই ভাই একসঙ্গে খাওয়া, খেলাধুলা ও স্কুলে আসা-যাওয়া করে থাকি৷ আমাদের দুজনের পছন্দ মাংস-ভাত৷ শুধু দুজনের দুই রঙ পছন্দ ৷ একজনের লাল আরেকজনের নীল ৷ আমরা একই পোশাক
পরে বিভিন্ন জায়গায় যাই ৷ শুধু পোশাক না আমাদের জুতা, চশমা, প্যান্ট সব একরকম। এসব আমাদের খুব ভালো লাগে৷ তবে আমরা কে কোনটা তা অনেকে চিনতে পারেন না। আমরা এ বিষয়টাকে বেশি উপভোগ করি।”

সপ্তম শ্রেণীর যমজ দুই বোন সুমাইয়া ও সাদিয়া বলে, “আমাদের সবকাজগুলো আমরা একসঙ্গে করি। আমাদের দুজনের প্রিয় রঙ হল নীল ৷ আমরা একসঙ্গে স্কুলে আসি, একসঙ্গে ক্লাসে বসি৷ টিফিনের সময় আবার একসঙ্গে খেলাধুলা করে থাকি। সব কাজগুলো আমরা একসঙ্গে করি৷ ক্লাসের সময় একজনকে বকা দিলে আমাদের আরেকজনের খুব খারাপ লাগে৷ স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা আমাদের চিনতে পারেনা৷ তখন একসঙ্গে দুজনকে ডাকে বিষয়টি খুব ভালো লাগে।”

নবম শ্রেণির যমজ দুই বোন হাসি ও খুশি বলে, “আমাদের একটা বড় সুবিধা হল কেউ কোন কিছু ভুল করলে একজন আরেকজনকে চাপিয়ে দেওয়া যায়৷ পরে আবার আমরা একসঙ্গে মিলে যাই ৷ আর পরিবার, আত্নীয়-স্বজন ও শিক্ষকদের কাছেও আমরা বেশ আদর পাই ৷ আমরা পুরো সময়টা একসঙ্গে কাঁটাই। আমরা জমজ হয়ে অনেক খুশি “

এছাড়াও সুমাইয়া-সাদিয়া, হাবিব-হাফিজ, তাহবি-তাসবি সহ অন্যান্য যমজ ছাত্রছাত্রীরা একই কথা ব্যক্ত করে।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, যমজ বিষয়টি আমি বেশ উপভোগ করি৷ তারা যখন পাশাপাশি বসে তখন তাদের দেখতেও ভালো লাগে। তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। তারা যাতে ভালো কিছু করে সেই বিষয়ে উৎসাহিত করি৷”

মথুরাপুর পাবলিক হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে ২০ জন যমজ ভাই-বোন পড়াশোনা করেন৷ তাদের নামগুলো প্রায় একই রকম ও চেহারার মিলও দেখা যায়। সে কারণে কোনটা কে সেটা বুঝতে মাঝে মাঝে বিড়ম্বনায় পরতে হয়। তবুও আমরা যমজ বিষয়টি বেশ উপভোগ করছি। এ ছাড়াও লক্ষ্য করেছি তাদের মেধাও প্রায় সমান হয়৷ একজনের শ্রেণীর রোল নাম্বার দুই হলে অপরজনের তিন হয়। তাদের আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ একই রকম৷ তারা একসঙ্গে থাকতে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। আশা করছি, তারা সকলে ভালো কিছু করবে “