শিগগিরই যুগপৎ আন্দোলনের ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩
  • ১৬৭১ বার পড়া হয়েছে

যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে শিগগিরই ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। বিএনপির ১০ দফা দাবি ও ২৭ দফা রূপরেখার সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফার সমন্বয়ে এই যৌথ ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আজ রোববার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে যৌথ ঘোষণার ভিত্তি।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আমরা যে যুগপৎ ধারায় আন্দোলন করছি, এই আন্দোলনকে সারা দেশে যেসব রাজনৈতিক দল এই সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না, নির্বাচনের আগে এই সরকারের পদত্যাগ চায় এবং নির্বাচনের পরে বাংলাদেশ কোন পথে পরিচালিত হবে, কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা হবে, কী ধরনের শাসনব্যবস্থা হবে, এগুলো নিয়ে এক ধরনের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।

এই যৌথ ঘোষণা নিয়ে আমরা বিএনপির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেনবিএনপির পক্ষে যিনি দায়িত্বশীল ছিলেন তিনি দেশের বাইরে আছেন অসুস্থ অবস্থায়। তাই সব কার্যক্রম এখনো শেষ করতে পারেনি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণা আসবে। অচিরেই তা আমরা উপস্থাপন করতে পারব।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই রমজানে বিএনপি একতরফাভাবে যুগপতের কর্মসূচি ঘোষণা করায় শরিকরা অসন্তুষ্ট হন। বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে তাদের কোনো ছন্দপতন নেই। এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে দিচ্ছি আপনাদের। দেখা যায়, বিএনপির কর্মসূচি সারা দেশজুড়ে হয়। আমাদের নিজস্ব কর্মসূচি থাকলেও অনেকে সেটাকে যুগপৎ ভাবেন। আমাদের মধ্যে বুঝাপড়া আছে, অনেক কর্মসূচি আছে যেগুলো প্রত্যেক দল তাদের মতো করে পালন করবে, আবার গণতন্ত্র মঞ্চের ব্যানারেও করতে পারেন। আমরা আমাদের মতো করব। কিন্তু মূল দাবি অর্থাৎ এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি—একই সঙ্গে রাষ্ট্রের যে সংস্কারের কথাগুলো রয়েছে সে দাবিগুলোতে আমরা একমত রয়েছি।’

এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি প্রণয়ন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্যের অবসান হয়েছে বলে জানান মঞ্চের দুই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই কালো আইন বাতিলের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।

নওগাঁয় র‌্যাবের হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একজন নিরীহ নারীকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যাওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন—এই বিষয়ে আমাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি, এটা একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এর নিন্দা জানিয়েছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন, আরও দৃঢ় করা যায় এবং আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আশা করি, যৌথ যুগপৎ কর্মসূচির আন্দোলন আরও বেগবান হবে, ‘অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারব এবং আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এই দানবীয় সরকারকে সরিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি—এই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না।’

বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে হাসনাত কাইয়ূম ছাড়াও ছিলেন—জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল ও গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন—দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিগগিরই যুগপৎ আন্দোলনের ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’

আপডেট সময় : ১০:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩

যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে শিগগিরই ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। বিএনপির ১০ দফা দাবি ও ২৭ দফা রূপরেখার সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফার সমন্বয়ে এই যৌথ ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আজ রোববার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এই বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে যৌথ ঘোষণার ভিত্তি।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আমরা যে যুগপৎ ধারায় আন্দোলন করছি, এই আন্দোলনকে সারা দেশে যেসব রাজনৈতিক দল এই সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না, নির্বাচনের আগে এই সরকারের পদত্যাগ চায় এবং নির্বাচনের পরে বাংলাদেশ কোন পথে পরিচালিত হবে, কী ধরনের সরকার ব্যবস্থা হবে, কী ধরনের শাসনব্যবস্থা হবে, এগুলো নিয়ে এক ধরনের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।

এই যৌথ ঘোষণা নিয়ে আমরা বিএনপির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেনবিএনপির পক্ষে যিনি দায়িত্বশীল ছিলেন তিনি দেশের বাইরে আছেন অসুস্থ অবস্থায়। তাই সব কার্যক্রম এখনো শেষ করতে পারেনি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণা আসবে। অচিরেই তা আমরা উপস্থাপন করতে পারব।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই রমজানে বিএনপি একতরফাভাবে যুগপতের কর্মসূচি ঘোষণা করায় শরিকরা অসন্তুষ্ট হন। বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে তাদের কোনো ছন্দপতন নেই। এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে দিচ্ছি আপনাদের। দেখা যায়, বিএনপির কর্মসূচি সারা দেশজুড়ে হয়। আমাদের নিজস্ব কর্মসূচি থাকলেও অনেকে সেটাকে যুগপৎ ভাবেন। আমাদের মধ্যে বুঝাপড়া আছে, অনেক কর্মসূচি আছে যেগুলো প্রত্যেক দল তাদের মতো করে পালন করবে, আবার গণতন্ত্র মঞ্চের ব্যানারেও করতে পারেন। আমরা আমাদের মতো করব। কিন্তু মূল দাবি অর্থাৎ এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি—একই সঙ্গে রাষ্ট্রের যে সংস্কারের কথাগুলো রয়েছে সে দাবিগুলোতে আমরা একমত রয়েছি।’

এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি প্রণয়ন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্যের অবসান হয়েছে বলে জানান মঞ্চের দুই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই কালো আইন বাতিলের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।

নওগাঁয় র‌্যাবের হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একজন নিরীহ নারীকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যাওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন—এই বিষয়ে আমাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি, এটা একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এর নিন্দা জানিয়েছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন, আরও দৃঢ় করা যায় এবং আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আশা করি, যৌথ যুগপৎ কর্মসূচির আন্দোলন আরও বেগবান হবে, ‘অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা আরও বাড়াতে পারব এবং আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এই দানবীয় সরকারকে সরিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি—এই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না।’

বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে হাসনাত কাইয়ূম ছাড়াও ছিলেন—জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল ও গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন—দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।