সানসিল্ক ডিভা মৌমিতার দিনকাল

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত সানসিল্ক ডিভা নামক রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের চেনা মুখ ফেরদৌসী মৌমিতা।  ব্যান্ড, ক্ল্যাসিকাল, গজল, আধুনিক সব ধরণের গানে পারদর্শীতা মৌমিতাক শ্রোতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
জন্ম ঢাকায়  ছেলেবেলাও কেটেছে ঢাকাতেই। এরই মধ্যে তিনি ইংলিশ লিটারেচারে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন । প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ইদানীং তার ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয়

 

ছোটবেলার মজার স্মৃতি জিজ্ঞেস করতে হাসতে হাসতে বললেন, ছোটবেলায় ৬/৭ জন বন্ধু মিলে বিকেলে খেলার সময় বিটিভিতে দেখানো যে কোন সিরিজ যেমন, সিনবাদ, আলিফ লায়লা, রবিনহুড, রবোকপ এসবের কন্ঠ মিমিক্রি(নকল) করতাম যদিও বেশিরভাগ সময় আমাকে খলনায়িকার রোলই দেয়া হতো, তবে খুব মজা লাগতো।
আর কষ্টের স্মৃতি জানতে চাইলে ছোটবেলায় তার নানাভাই, নানুমনি আর ২০২১ এ বাবাকে হারানোর স্মৃতি শেয়ার করলেন।
শিল্পী না হলে কি হতেন জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলেন, গান নিয়েই থাকতে চাই। গান ছাড়া মৌমিতা আর কিছুই করতে চান না। “শিল্পী” না হলে কি হতাম এরকম কিছু ভাবার কখনো সময়ই হয়নি।

 

বাবা ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস নিতেন ও অবসর সময় মা বাবা গান শুনতেন। সেটা শুনে শুনে ৩ বছরের ছোট্ট মৌমিতা শ্রদ্ধেয় নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর “জীবন আনন্দ হয়ে সংসারে আজও আমি” গানটি শুনিয়ে তাক লাগিয়ে দেন বাবা মা কে। বাবা খুশি হলেও মায়ের আপত্তি আগে ছড়া গান শিখতে হবে। ৩ বছর বয়সে মায়ের কাছে ছড়াগান শেখার মাধ্যমে গান শেখা শুরু । তারপর বাবার কাছে ক্লাসিকালের হাতেখড়ি। ২০১২ সালে ভারতের লাখনৌতে হৃষিকেষ গাঙ্গুর্দে’র কাছে হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল তালিম নেয়া শুরু  এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালে হিন্দুস্তানি ক্লাসিকালের অন্যতম বিখ্যাত ঘরানা “কিরানা” শেখা শুরু করেন ভারতের অনুপ কুমার সিং- এর কাছে জানালেন মৌমিতা।

 

সামনে মৌমিতার কি কি গান শুনতে পারবো জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আসলে শিল্পীরা তো গান করেন শ্রোতাদের জন্যই। তাদের চাহিদা অনুযায়ী গান গাইবার চেষ্টা করি সব সময়। সফট মেলোডি, সেমি ক্লাসিকাল, পপ এই ধরনের গানই বেশিরভাগ করা হয়। তবে আশা আছে গজল করবার সামনে। গজল আমার অতি প্রিয় সাবজেক্ট। এছাড়াও ঈদুল ফিতরে নিজের লেখা, নিজের সুরে এবং শান্ত শান- এর সঙ্গীতায়োজনে পপ জনরার একটি গান রিলিজ করছি। আশাকরি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

 

গান ছাড়া মৌমিতা নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন, না চাইলেও মনের অজান্তে গানের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বহুবার। সঙ্গীত পরিবারে জন্ম বলে বরাবরই বাবা, মা এবং বোনের পরিপূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন মৌমিতা।মৌমিতার স্বপ্ন তার কণ্ঠের মাধ্যমে সকলকে ভালো কিছু গান শুনানো। সুস্থ্য কথা ও সুর যা মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। আর নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান তা সম্পূর্ণ ভাবে শ্রোতাদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন মৌমিতা। স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোন বাধা আসছে কিনা জিজ্ঞেস করতে মৌমিতা বলেন, বিভিন্ন রকম বাঁধা, বিচ্ছিন্ন অনেক ঘটনা ঘটে যায় অনেক সময় তবে সেগুলো বাঁধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করেই যাচ্ছি। আমি বেশ আশাবাদী, একদিন স্বপ্ন বাস্তবায়নে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।

 

 

শিশু শিল্পী হিসেবে মৌমিতা বিটিভিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। বাবা প্রয়াত সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ এর সুর ও শামসুদ্দিন হাসুর লেখা, “আমার তান পুরাটা আর বাজেনা” সহ বর্ণ চক্রবর্তী সুরে, “আনমনে, গোধুলি লগন, ধন্য” মৌমিতার মৌলিক গান। এ ছাড়াও লেইসফিতা ব্যান্ডের মেম্বার হিসেবে রাবেথ খানের লেখা ও হৃদয় খানের সুরে “স্বপ্ন এখন আমার হাতে” গানটিও বেশ সাড়া ফেলেছিলো।

One thought on “সানসিল্ক ডিভা মৌমিতার দিনকাল

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানসিল্ক ডিভা মৌমিতার দিনকাল

আপডেট সময় : ১২:১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত সানসিল্ক ডিভা নামক রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের চেনা মুখ ফেরদৌসী মৌমিতা।  ব্যান্ড, ক্ল্যাসিকাল, গজল, আধুনিক সব ধরণের গানে পারদর্শীতা মৌমিতাক শ্রোতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
জন্ম ঢাকায়  ছেলেবেলাও কেটেছে ঢাকাতেই। এরই মধ্যে তিনি ইংলিশ লিটারেচারে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন । প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ইদানীং তার ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয়

 

ছোটবেলার মজার স্মৃতি জিজ্ঞেস করতে হাসতে হাসতে বললেন, ছোটবেলায় ৬/৭ জন বন্ধু মিলে বিকেলে খেলার সময় বিটিভিতে দেখানো যে কোন সিরিজ যেমন, সিনবাদ, আলিফ লায়লা, রবিনহুড, রবোকপ এসবের কন্ঠ মিমিক্রি(নকল) করতাম যদিও বেশিরভাগ সময় আমাকে খলনায়িকার রোলই দেয়া হতো, তবে খুব মজা লাগতো।
আর কষ্টের স্মৃতি জানতে চাইলে ছোটবেলায় তার নানাভাই, নানুমনি আর ২০২১ এ বাবাকে হারানোর স্মৃতি শেয়ার করলেন।
শিল্পী না হলে কি হতেন জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠলেন, গান নিয়েই থাকতে চাই। গান ছাড়া মৌমিতা আর কিছুই করতে চান না। “শিল্পী” না হলে কি হতাম এরকম কিছু ভাবার কখনো সময়ই হয়নি।

 

বাবা ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস নিতেন ও অবসর সময় মা বাবা গান শুনতেন। সেটা শুনে শুনে ৩ বছরের ছোট্ট মৌমিতা শ্রদ্ধেয় নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর “জীবন আনন্দ হয়ে সংসারে আজও আমি” গানটি শুনিয়ে তাক লাগিয়ে দেন বাবা মা কে। বাবা খুশি হলেও মায়ের আপত্তি আগে ছড়া গান শিখতে হবে। ৩ বছর বয়সে মায়ের কাছে ছড়াগান শেখার মাধ্যমে গান শেখা শুরু । তারপর বাবার কাছে ক্লাসিকালের হাতেখড়ি। ২০১২ সালে ভারতের লাখনৌতে হৃষিকেষ গাঙ্গুর্দে’র কাছে হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল তালিম নেয়া শুরু  এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালে হিন্দুস্তানি ক্লাসিকালের অন্যতম বিখ্যাত ঘরানা “কিরানা” শেখা শুরু করেন ভারতের অনুপ কুমার সিং- এর কাছে জানালেন মৌমিতা।

 

সামনে মৌমিতার কি কি গান শুনতে পারবো জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আসলে শিল্পীরা তো গান করেন শ্রোতাদের জন্যই। তাদের চাহিদা অনুযায়ী গান গাইবার চেষ্টা করি সব সময়। সফট মেলোডি, সেমি ক্লাসিকাল, পপ এই ধরনের গানই বেশিরভাগ করা হয়। তবে আশা আছে গজল করবার সামনে। গজল আমার অতি প্রিয় সাবজেক্ট। এছাড়াও ঈদুল ফিতরে নিজের লেখা, নিজের সুরে এবং শান্ত শান- এর সঙ্গীতায়োজনে পপ জনরার একটি গান রিলিজ করছি। আশাকরি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

 

গান ছাড়া মৌমিতা নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন, না চাইলেও মনের অজান্তে গানের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বহুবার। সঙ্গীত পরিবারে জন্ম বলে বরাবরই বাবা, মা এবং বোনের পরিপূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন মৌমিতা।মৌমিতার স্বপ্ন তার কণ্ঠের মাধ্যমে সকলকে ভালো কিছু গান শুনানো। সুস্থ্য কথা ও সুর যা মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। আর নিজেকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান তা সম্পূর্ণ ভাবে শ্রোতাদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন মৌমিতা। স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোন বাধা আসছে কিনা জিজ্ঞেস করতে মৌমিতা বলেন, বিভিন্ন রকম বাঁধা, বিচ্ছিন্ন অনেক ঘটনা ঘটে যায় অনেক সময় তবে সেগুলো বাঁধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করেই যাচ্ছি। আমি বেশ আশাবাদী, একদিন স্বপ্ন বাস্তবায়নে সফল হবো ইনশাআল্লাহ।

 

 

শিশু শিল্পী হিসেবে মৌমিতা বিটিভিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। বাবা প্রয়াত সাংবাদিক চঞ্চল মাহমুদ এর সুর ও শামসুদ্দিন হাসুর লেখা, “আমার তান পুরাটা আর বাজেনা” সহ বর্ণ চক্রবর্তী সুরে, “আনমনে, গোধুলি লগন, ধন্য” মৌমিতার মৌলিক গান। এ ছাড়াও লেইসফিতা ব্যান্ডের মেম্বার হিসেবে রাবেথ খানের লেখা ও হৃদয় খানের সুরে “স্বপ্ন এখন আমার হাতে” গানটিও বেশ সাড়া ফেলেছিলো।