খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ-আদার বাজারে উত্তাপ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩
  • ১৬৬১ বার পড়া হয়েছে
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। এই অজুহাতে বেড়েই চলেছে সংসারের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম।
মাত্র ১০ দিন আগে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা করে। খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি। বর্তমানে বাজারে ভারতের পেঁয়াজ সরবরাহ নেই বললেই চলে। তবে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। বিক্রিও হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। তবে সরবরাহ এবং মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে।
এছাড়া, উত্তাপ ছড়াচ্ছে আদার বাজারও। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিন আগে খাতুনগঞ্জে ভারতের কেরালা থেকে আসা আদা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি কমবেশি ১১০ টাকা করে। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা করে।
আবার রমজানে বন্ধ থাকলেও এখন শুরু হয়েছে চীন থেকে আদা আমদানি। খাতুনগঞ্জে এখন চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা করে। আবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশটি থেকে আরও আদা আমদানি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে ১০ দিন আগে মিয়ানমারের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা করে। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭০ করে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। গত ১৫ মার্চ থেকে আমদানি অনুমতিপত্র দিচ্ছে না সরকার। চাহিদার পুরোটা মেটানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ দিয়ে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। গত অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ লাখ টন। এ হিসেবে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হয়েছে। তারপরও অজানা কারণে পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বছরে তিন লাখ টন আদার চাহিদা রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে এখন আদার উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৮২ হাজার টন। বাকি আদার চাহিদা মেটানো হচ্ছে আমদানি করে। মিয়ানমার, ভারত এবং চীন থেকে আদা আমদানি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাঝে চীন থেকে আদা আমদানি বন্ধ থাকায় খাতুনগঞ্জের বাজারে মসলাটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়ৎদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এজন্য দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি। তবে বাজারে পর্যাপ্ত দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ আছে। দেশি পেঁয়াজের দাম একটু বেশি হলেও ভালো। আমাদের দেশের কৃষকরা টাকা পাচ্ছে। এছাড়া আদা মাঝখানে আমদানি কম হয়েছে। এজন্য দাম একটু বাড়তির দিকে। এখন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চীন এবং মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি হচ্ছে। দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা কম।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা গত বছর আমাদের পকেট কাটতে পারেনি। এজন্য এ বছর দাম বাড়াচ্ছে। কৃষকরা দাম পাচ্ছে- এটা একটা অজুহাত। বাস্তবে কৃষকরা তো দাম পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা কখনো কৃষকের কথা বলেন আবার কখনো ভোক্তার কথা বলেন। সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ নজরদারি নেই। এ কারণে তারা দাম বাড়ালে কিছু যায়-আসে না। ভোক্তারাই ভুক্তভোগী হচ্ছেন।
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ-আদার বাজারে উত্তাপ

আপডেট সময় : ১০:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। এই অজুহাতে বেড়েই চলেছে সংসারের অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম।
মাত্র ১০ দিন আগে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা করে। খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি। বর্তমানে বাজারে ভারতের পেঁয়াজ সরবরাহ নেই বললেই চলে। তবে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। বিক্রিও হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। তবে সরবরাহ এবং মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে।
এছাড়া, উত্তাপ ছড়াচ্ছে আদার বাজারও। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ দিন আগে খাতুনগঞ্জে ভারতের কেরালা থেকে আসা আদা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি কমবেশি ১১০ টাকা করে। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা করে।
আবার রমজানে বন্ধ থাকলেও এখন শুরু হয়েছে চীন থেকে আদা আমদানি। খাতুনগঞ্জে এখন চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা করে। আবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশটি থেকে আরও আদা আমদানি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে ১০ দিন আগে মিয়ানমারের আদা বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা করে। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭০ করে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে সরকার। গত ১৫ মার্চ থেকে আমদানি অনুমতিপত্র দিচ্ছে না সরকার। চাহিদার পুরোটা মেটানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ দিয়ে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। গত অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ লাখ টন। এ হিসেবে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হয়েছে। তারপরও অজানা কারণে পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বছরে তিন লাখ টন আদার চাহিদা রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে এখন আদার উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৮২ হাজার টন। বাকি আদার চাহিদা মেটানো হচ্ছে আমদানি করে। মিয়ানমার, ভারত এবং চীন থেকে আদা আমদানি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাঝে চীন থেকে আদা আমদানি বন্ধ থাকায় খাতুনগঞ্জের বাজারে মসলাটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়ৎদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এজন্য দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি। তবে বাজারে পর্যাপ্ত দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ আছে। দেশি পেঁয়াজের দাম একটু বেশি হলেও ভালো। আমাদের দেশের কৃষকরা টাকা পাচ্ছে। এছাড়া আদা মাঝখানে আমদানি কম হয়েছে। এজন্য দাম একটু বাড়তির দিকে। এখন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চীন এবং মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি হচ্ছে। দাম আর বাড়ার সম্ভাবনা কম।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা গত বছর আমাদের পকেট কাটতে পারেনি। এজন্য এ বছর দাম বাড়াচ্ছে। কৃষকরা দাম পাচ্ছে- এটা একটা অজুহাত। বাস্তবে কৃষকরা তো দাম পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা কখনো কৃষকের কথা বলেন আবার কখনো ভোক্তার কথা বলেন। সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ নজরদারি নেই। এ কারণে তারা দাম বাড়ালে কিছু যায়-আসে না। ভোক্তারাই ভুক্তভোগী হচ্ছেন।