অনলাইনে তেল-চিনি-ডাল কিনতে গিয়ে হারালো ২২৬৫০ টাকা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩
  • ১৬৬১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে তেল, চিনি, ডাল কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ২২ হাজার ৬৫০ টাকা খুইয়েছেন এক ভুক্তভোগী নারী। পরে সাইবার পুলিশ সেন্টারের মাধ্যমে নাম্বার সংগ্রহ করে প্রতিকার পেতে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কল সেন্টারের মাধ্যমে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুততার ভিক্তিতে গত ১১ জানুয়ারি ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগটি দাখিল করেছে ক্যাব কল সেন্টার।
দাখিলকৃত অভিযোগ থেকে জানা ‍যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাজার থেকে কম মূল্যে তেল, চিনি, ডাল, চাল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখেন তিনি। এতে অনেকটা লোভে পড়ে এবং বাজার থেকে কম মূল্যে পাওয়ায় পণ্য অর্ডার করতে চান ভুক্তভোগী। পরে ভুক্তভোগীর চাহিদামত তেল, চিনি এবং ডালের মূল্য আসে ২২ হাজার ৬৫০ টাকা। অর্ডারও করে ফেলেন। তবে ওপাস থেকে পেইজের ম্যাসেজ অপশন থেকে জানানো হয় অগ্রিম টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে ভুক্তভোগী প্রথমে অগ্রিম টাকা পাঠাতে চাননি। কিন্তু বিভিন্ন কথা এবং রিসিটসহ প্রমাণাদি পাঠানোর মাধ্যমে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। পরে সম্পূর্ণ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, টাকা পরিশোধের পর শুরু হয়, তালবাহানা। ফোন দিলে ধরে না। বেশ কয়েকবার ফোন করলে ধরার পর অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। টাকার জন্য বার বার কল করলে একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী মুঠোফোনে বলেন, ‘এখনও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করছে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। তাদের নামবারটাও খোলা আছে। আমার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করেছেন যারা প্রতারিত হয়েছেন। আমার তো ২২ হাজার ৬৫০ টাকা নিছে। আমরা মধ্যবিত্ত। এই টাকা নেওয়ায় আমি অনেক সমস্যায় পড়েছি। যেভাবে হোক আমার টাকাটা উদ্ধার করে দেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার অনেক কষ্টের টাকা। নিজের কাছে সে সময় টাকা না থাকায় ধার করে টাকা দিয়েছিলাম। পরে সেই টাকা কানের দুল বিক্রি করে পরিশোধ করতে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের ফেসবুক পেইজে ম্যাসেজ করলে অটো রিপ্লাই আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়,  ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, আপনাকে স্বাগতম। আমরা আমাদের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রোডাক্ট ডেলিভারি করে থাকি। যোগাযোগ- সোনামসজিদ শ্যামনগর ২১২ নং দোকান ২ নং গলি মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, প্রোপ্রাইটরঃ মোহাম্মদ রবিন। মোবাইলঃ ০১৬৭৪-০–২৯১, নগদ পারসোনালঃ ০১৬৭৪-০–২৯১, উপায় পারসোনালঃ ০১৬৭৪-০–২৯১ ইমো, ওয়াটসআপঃ ০১৬৭৪-০–২৯১। (অভিযোগ প্রক্রিয়াধিন থাকায় সম্পূর্ণ নাম্বার দেওয়া হয়নি।)
তবে প্রাপ্ত নাম্বারে কল করে বন্ধ পাওয়া ‍যায়। ম্যাসেজ করে কোনো সাড়া না পাওয়ায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভোক্তা হিসেবে আপনার থেকে পণ্যের দাম বেশি নিলে, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দিলে, এক পণ্যের স্থলে অন্য পণ্য দিলে, পণ্যের মূল্যের উপর ঘষামাজা করা থাকলে আপনি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
সরাসরি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যাবে। এছাড়া কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অনলাইনে তেল-চিনি-ডাল কিনতে গিয়ে হারালো ২২৬৫০ টাকা

আপডেট সময় : ১২:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩
অনলাইনে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে তেল, চিনি, ডাল কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ২২ হাজার ৬৫০ টাকা খুইয়েছেন এক ভুক্তভোগী নারী। পরে সাইবার পুলিশ সেন্টারের মাধ্যমে নাম্বার সংগ্রহ করে প্রতিকার পেতে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কল সেন্টারের মাধ্যমে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুততার ভিক্তিতে গত ১১ জানুয়ারি ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগটি দাখিল করেছে ক্যাব কল সেন্টার।
দাখিলকৃত অভিযোগ থেকে জানা ‍যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাজার থেকে কম মূল্যে তেল, চিনি, ডাল, চাল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখেন তিনি। এতে অনেকটা লোভে পড়ে এবং বাজার থেকে কম মূল্যে পাওয়ায় পণ্য অর্ডার করতে চান ভুক্তভোগী। পরে ভুক্তভোগীর চাহিদামত তেল, চিনি এবং ডালের মূল্য আসে ২২ হাজার ৬৫০ টাকা। অর্ডারও করে ফেলেন। তবে ওপাস থেকে পেইজের ম্যাসেজ অপশন থেকে জানানো হয় অগ্রিম টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে ভুক্তভোগী প্রথমে অগ্রিম টাকা পাঠাতে চাননি। কিন্তু বিভিন্ন কথা এবং রিসিটসহ প্রমাণাদি পাঠানোর মাধ্যমে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। পরে সম্পূর্ণ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, টাকা পরিশোধের পর শুরু হয়, তালবাহানা। ফোন দিলে ধরে না। বেশ কয়েকবার ফোন করলে ধরার পর অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। টাকার জন্য বার বার কল করলে একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী মুঠোফোনে বলেন, ‘এখনও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করছে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। তাদের নামবারটাও খোলা আছে। আমার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করেছেন যারা প্রতারিত হয়েছেন। আমার তো ২২ হাজার ৬৫০ টাকা নিছে। আমরা মধ্যবিত্ত। এই টাকা নেওয়ায় আমি অনেক সমস্যায় পড়েছি। যেভাবে হোক আমার টাকাটা উদ্ধার করে দেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার অনেক কষ্টের টাকা। নিজের কাছে সে সময় টাকা না থাকায় ধার করে টাকা দিয়েছিলাম। পরে সেই টাকা কানের দুল বিক্রি করে পরিশোধ করতে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের ফেসবুক পেইজে ম্যাসেজ করলে অটো রিপ্লাই আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়,  ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, আপনাকে স্বাগতম। আমরা আমাদের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রোডাক্ট ডেলিভারি করে থাকি। যোগাযোগ- সোনামসজিদ শ্যামনগর ২১২ নং দোকান ২ নং গলি মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, প্রোপ্রাইটরঃ মোহাম্মদ রবিন। মোবাইলঃ ০১৬৭৪-০–২৯১, নগদ পারসোনালঃ ০১৬৭৪-০–২৯১, উপায় পারসোনালঃ ০১৬৭৪-০–২৯১ ইমো, ওয়াটসআপঃ ০১৬৭৪-০–২৯১। (অভিযোগ প্রক্রিয়াধিন থাকায় সম্পূর্ণ নাম্বার দেওয়া হয়নি।)
তবে প্রাপ্ত নাম্বারে কল করে বন্ধ পাওয়া ‍যায়। ম্যাসেজ করে কোনো সাড়া না পাওয়ায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভোক্তা হিসেবে আপনার থেকে পণ্যের দাম বেশি নিলে, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দিলে, এক পণ্যের স্থলে অন্য পণ্য দিলে, পণ্যের মূল্যের উপর ঘষামাজা করা থাকলে আপনি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
সরাসরি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যাবে। এছাড়া কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।