নোবেলের মাদকাসক্তির পেছনে নারী এয়ার হোস্টেজ জড়িত: সালসাবিল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩
  • ১৬৭২ বার পড়া হয়েছে

নোবেলের সাবেক স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, গায়ক নোবেলের মাদকাসক্তির পেছনে কয়েকজন শিল্পী ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করা বিমানের এয়ার হোস্টেজ জড়িত। তারাই নোবেলকে মাদক সাপ্লাই দিতো। এমনকি এসব বিষয় নিয়ে আমি কথা বলায় আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হতো। তবে জড়িত কারও নাম প্রকাশ করেননি সালসাবিল।

শনিবার (২০ মে) বিকালে ডিবি কার্যালয়ে থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালসাবিল। এর আগে তাকে আজ ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হলে তিনি আসেন।সালসাবিল আরও বলেন, ‘নোবেল মাদক সেবন করে বাসায় এসে আমাকে নির্যাতন করতো। একদিন ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ ডাকি। তারা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নোবেল তখন পুলিশ সদস্যদের কাছে স্বীকার করেছে মাদক সেবনের কারণে আমাকে মারধর করেছে। এরপর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যদিও পরে আর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিইনি।

তিনি বলেন, ‘আজ ডিবি পুলিশ থেকে আমাকে ডাকা হয়েছে। আমি তাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। তারা পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তারা।’

নোবেলের গ্রেফতারের বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘নোবেল একজন প্রতিষ্ঠিত গায়ক। কিন্তু সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হাইস্কুলে সাবেক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গান গাওয়ার চুক্তি করেন নোবেল। তাদের কাছ থেকে অগ্রিম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেন। নিজেও যাওয়ার কথা জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কিন্তু পরে অনুষ্ঠানে যাননি। টাকা চাওয়ার পর তা ফেরতও দেননি। এ ঘটনায় আয়োজক মামলা করেন। কিন্তু নোবেল মামলার পরও পুলিশ কিংবা আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, ‘এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্টেজ প্রোগ্রামে গিয়ে ভাঙচুর ও মাতলামি করার অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অপকর্মের বিষয়ে আমরা তাকে একাধিকবার বুঝিয়েছি। কিন্তু তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করছেন, স্ত্রীকে মারধর করছেন। মাদকাসক্ত থাকার কারণে কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা দিলেও যেতে পারেন না’ বলে জানান ডিবি প্রধান।

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘তার এসব কার্যক্রমের কারণে তার বাবা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছেন। উত্তরবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে মাতলামি করেছেন, মঞ্চ ভাঙচুর করেছেন, স্ত্রীকে মারধর করেছেন। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোবেলের মাদকাসক্তির পেছনে নারী এয়ার হোস্টেজ জড়িত: সালসাবিল

আপডেট সময় : ০৭:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩

নোবেলের সাবেক স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, গায়ক নোবেলের মাদকাসক্তির পেছনে কয়েকজন শিল্পী ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করা বিমানের এয়ার হোস্টেজ জড়িত। তারাই নোবেলকে মাদক সাপ্লাই দিতো। এমনকি এসব বিষয় নিয়ে আমি কথা বলায় আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হতো। তবে জড়িত কারও নাম প্রকাশ করেননি সালসাবিল।

শনিবার (২০ মে) বিকালে ডিবি কার্যালয়ে থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালসাবিল। এর আগে তাকে আজ ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হলে তিনি আসেন।সালসাবিল আরও বলেন, ‘নোবেল মাদক সেবন করে বাসায় এসে আমাকে নির্যাতন করতো। একদিন ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশ ডাকি। তারা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নোবেল তখন পুলিশ সদস্যদের কাছে স্বীকার করেছে মাদক সেবনের কারণে আমাকে মারধর করেছে। এরপর আমি গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যদিও পরে আর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিইনি।

তিনি বলেন, ‘আজ ডিবি পুলিশ থেকে আমাকে ডাকা হয়েছে। আমি তাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। তারা পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তারা।’

নোবেলের গ্রেফতারের বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘নোবেল একজন প্রতিষ্ঠিত গায়ক। কিন্তু সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হাইস্কুলে সাবেক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গান গাওয়ার চুক্তি করেন নোবেল। তাদের কাছ থেকে অগ্রিম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেন। নিজেও যাওয়ার কথা জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কিন্তু পরে অনুষ্ঠানে যাননি। টাকা চাওয়ার পর তা ফেরতও দেননি। এ ঘটনায় আয়োজক মামলা করেন। কিন্তু নোবেল মামলার পরও পুলিশ কিংবা আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, ‘এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্টেজ প্রোগ্রামে গিয়ে ভাঙচুর ও মাতলামি করার অভিযোগ রয়েছে। তার এসব অপকর্মের বিষয়ে আমরা তাকে একাধিকবার বুঝিয়েছি। কিন্তু তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করছেন, স্ত্রীকে মারধর করছেন। মাদকাসক্ত থাকার কারণে কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা দিলেও যেতে পারেন না’ বলে জানান ডিবি প্রধান।

এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘তার এসব কার্যক্রমের কারণে তার বাবা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছেন। উত্তরবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে মাতলামি করেছেন, মঞ্চ ভাঙচুর করেছেন, স্ত্রীকে মারধর করেছেন। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে।