বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় আটক তিনজন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩
  • ১৬৭৮ বার পড়া হয়েছে

বর্ণবাদ নিয়ে ভিনি-বোমা বিস্ফোরণের পর স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছিল, লা লিগা ও ভ্যালেন্সিয়া পরশু ম্যাচের ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দুজনকে শনাক্ত করেছে। ভিনিসিয়ুসকে গ্যালারি থেকে তাঁরা ‘বানর’ ডেকে কটূক্তি করেছেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্পেনের পুলিশ এ ঘটনায় আজ তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।

লা লিগায় গত রোববার ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ১-০ গোলে হারে রিয়াল মাদ্রিদ। এ ম্যাচে দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন রিয়াল উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস। গ্যালারি থেকে তাঁকে ‘বানর’ ডেকে কটূক্তি করা হয়।

ভিনিসিয়ুস প্রতিবাদ জানিয়ে কটূক্তিটা কোত্থেকে এসেছে, মাঠেই তা দেখিয়ে দেন। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবলে বর্ণবাদ নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন ভিনিসিয়ুস, ‘এটা প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার নয়। লা লিগায় বর্ণবাদ স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ কর্তৃপক্ষ ও স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন এটা মনে করে…স্পেন এখন ব্রাজিলিয়ানদের কাছে বর্ণবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।’

ঘটনার ব্যাপ্তি এরপরই স্পেনের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট থেকে ফিফা সভাপতি ভিনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়েরাও ব্রাজিল উইঙ্গারের পক্ষ নিয়ে মুখ খুলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ ‘হেট ক্রাইম’ (ঘৃণা থেকে উদ্ভূত অপরাধ) এর অভিযোগে মামলা করেছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ ভিনির বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়া নিয়ে তদন্তে নেমেছে।

স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ আজ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রোববার ভ্যালেন্সিয়া-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে যে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যালেন্সিয়া থেকে পুলিশ তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।’ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার পর খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ ছিল। রেফারি ম্যাচ শেষে তাঁর প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে ‘বানর’ বলে কটূক্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে ফুটবল বিশ্ব সোচ্চার হওয়ার পর স্পেনের পুলিশের অবশেষে টনক নড়েছে। স্প্যানিশ সময় আজ ভোরে এই তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমনই এক বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছিল। সে তদন্তেই সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিয়ালের অনুশীলন মাঠের সামনে এক ব্রিজে ভিনিসিয়ুসের জার্সি পরা পুতুলের গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন কিছু লোক। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গত ২৬ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে যে চারজনকে আটক করা হয়েছে, পুলিশ বলছে, তাঁদের মধ্যে তিনজন ‘মাদ্রিদের একটি ক্লাবের উগ্র সমর্থক’।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় আটক তিনজন

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩

বর্ণবাদ নিয়ে ভিনি-বোমা বিস্ফোরণের পর স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছিল, লা লিগা ও ভ্যালেন্সিয়া পরশু ম্যাচের ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দুজনকে শনাক্ত করেছে। ভিনিসিয়ুসকে গ্যালারি থেকে তাঁরা ‘বানর’ ডেকে কটূক্তি করেছেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্পেনের পুলিশ এ ঘটনায় আজ তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।

লা লিগায় গত রোববার ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ১-০ গোলে হারে রিয়াল মাদ্রিদ। এ ম্যাচে দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন রিয়াল উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস। গ্যালারি থেকে তাঁকে ‘বানর’ ডেকে কটূক্তি করা হয়।

ভিনিসিয়ুস প্রতিবাদ জানিয়ে কটূক্তিটা কোত্থেকে এসেছে, মাঠেই তা দেখিয়ে দেন। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবলে বর্ণবাদ নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন ভিনিসিয়ুস, ‘এটা প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার নয়। লা লিগায় বর্ণবাদ স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ কর্তৃপক্ষ ও স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন এটা মনে করে…স্পেন এখন ব্রাজিলিয়ানদের কাছে বর্ণবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।’

ঘটনার ব্যাপ্তি এরপরই স্পেনের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট থেকে ফিফা সভাপতি ভিনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়েরাও ব্রাজিল উইঙ্গারের পক্ষ নিয়ে মুখ খুলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ ‘হেট ক্রাইম’ (ঘৃণা থেকে উদ্ভূত অপরাধ) এর অভিযোগে মামলা করেছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ ভিনির বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়া নিয়ে তদন্তে নেমেছে।

স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ আজ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রোববার ভ্যালেন্সিয়া-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে যে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যালেন্সিয়া থেকে পুলিশ তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।’ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার পর খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ ছিল। রেফারি ম্যাচ শেষে তাঁর প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে ‘বানর’ বলে কটূক্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে ফুটবল বিশ্ব সোচ্চার হওয়ার পর স্পেনের পুলিশের অবশেষে টনক নড়েছে। স্প্যানিশ সময় আজ ভোরে এই তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমনই এক বর্ণবাদী আচরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছিল। সে তদন্তেই সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিয়ালের অনুশীলন মাঠের সামনে এক ব্রিজে ভিনিসিয়ুসের জার্সি পরা পুতুলের গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন কিছু লোক। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গত ২৬ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে যে চারজনকে আটক করা হয়েছে, পুলিশ বলছে, তাঁদের মধ্যে তিনজন ‘মাদ্রিদের একটি ক্লাবের উগ্র সমর্থক’।