আম রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মে ২০২৩
  • ১৬৯৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বে আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম হলেও রপ্তানিতে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে ভালো মানের হওয়ায় এ ফলটির রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। এ বছর ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বাগানের ৯৩০টি আম যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশের বাজারে পাওয়া যাবে।

দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফল আম। বছরে এই উৎপাদন বাড়ছে। বছরের পর বছর নতুন আমের আবাদ হচ্ছে। দেশের অন্তত ছয়টি জেলায় আম অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কৃষিপণ্যে পরিণত হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম।

গত কয়েক বছর ধরে দেশে আমের উৎপাদন ২০ থেকে ২৪ লাখ টন ওঠানামা করছে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আর ২০১৯-২২ অর্থবছরে যা ছিল ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায়সাড়ে ২১ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

দেশের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন হওয়ায় গত কয়েকবছর ধরে চলছে রপ্তানি। প্রথমদিকে শুধু ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের গেলেও গতবছর এ তালিকায় যুক্তহয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সরকারি তথ্যঅনুযায়ী এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলার আম। তবে উৎপাদনে সপ্তম হয়েও নানা কারণে প্রত্যাশিত বাজার ধরা যায়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাত্র ৩০৯ টন আম রপ্তানি হয়েছে। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ২৩১। এরপর বছর বছর রপ্তানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। গত বছর ৬৬ ব্যবসায়ী ১৮০০ টন আম রপ্তানি করেছিলেন।

স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে ভালো মানের কারণে আম যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইউরোপে সুনাম কুড়িয়েছে। তাই গত বছরের তুলনায় এ বছর রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আমের অর্ধেক বিদেশের বাজারে পাঠানোই কৃষি বিভাগের লক্ষ্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অর্টিকালচার উইং’র পরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে উৎপাদিত আম সবচেয়ে সুস্বাদু। তাই বাংলাদেশি আমের চাহিদা সারা বিশ্বে। এ ছাড়া গত বছর ১৭০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হলেও এ বছর এর লক্ষ মাত্রা বেশি ধরা হয়েছে।

প্রায় ২৪ লাখ টান উৎপাদনের পর আম রপ্তানিকারক দেশের শীর্ষ দশে নেই বাংলাদেশ।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তান। ২০২২ সালে ভারত ১ লাখ ৭৩ হাজার টন এবং পাকিস্তান রপ্তানি করেছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার টন। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করেছে মেক্সিকো ৪ লাখ ৬৮ হাজার টন। থাইল্যান্ড প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টন আম রপ্তানি করে ৮০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে।

বাংলাদেশ অবশ্য থাইল্যান্ডের তুলনায় অর্ধেক রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করে। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ২৬ লাখ টন। কিন্তু পাকিস্তানে মাত্র ৬টি জেলায় প্রায় সমান উৎপাদন রয়েছে। তবে বিপুল সম্ভাবনা ও বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো রপ্তানিতে পিছিয়ে।

এর পেছনে যেসব কারণ চিহ্নিত হয়েছে তার অন্যতম হলো আম সংগ্রহের পর গুণগত মান বজায় রেখে বাছাই ও মোড়কজাত করে পরিবহনে অব্যবস্থাপনা। আছে উৎপাদনকারী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, গবেষক এবং রপ্তানিকারকদের সমন্বয়ের অভাব।

তবে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিমানভাড়াকে। ভারতের চেয়ে দ্বিগুনের বেশি খরচ করে আম পাঠাতে হয় ইউরোপ-অ্যামেরিকাতে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে শুধু রপ্তানি বাড়াতে নয় রপ্তানিযোগ্য আমের উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ প্রকল্প শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। এ প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে বিদেশে রপ্তানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৯৩০ জন কৃষি উদ্যোক্তা আম উৎপাদন করছেন। ২০২৭ সালের মধ্যে, এটিকে৮ হাজারে-এ উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তাই সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাজ্যে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি হয়েছে আম। চলতি বছর আরও বেশকিছু দেশের বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আম রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মে ২০২৩

বিশ্বে আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম হলেও রপ্তানিতে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে ভালো মানের হওয়ায় এ ফলটির রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। এ বছর ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বাগানের ৯৩০টি আম যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ২৮টি দেশের বাজারে পাওয়া যাবে।

দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফল আম। বছরে এই উৎপাদন বাড়ছে। বছরের পর বছর নতুন আমের আবাদ হচ্ছে। দেশের অন্তত ছয়টি জেলায় আম অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কৃষিপণ্যে পরিণত হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম।

গত কয়েক বছর ধরে দেশে আমের উৎপাদন ২০ থেকে ২৪ লাখ টন ওঠানামা করছে। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আর ২০১৯-২২ অর্থবছরে যা ছিল ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায়সাড়ে ২১ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

দেশের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন হওয়ায় গত কয়েকবছর ধরে চলছে রপ্তানি। প্রথমদিকে শুধু ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের গেলেও গতবছর এ তালিকায় যুক্তহয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সরকারি তথ্যঅনুযায়ী এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলার আম। তবে উৎপাদনে সপ্তম হয়েও নানা কারণে প্রত্যাশিত বাজার ধরা যায়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাত্র ৩০৯ টন আম রপ্তানি হয়েছে। পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ২৩১। এরপর বছর বছর রপ্তানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। গত বছর ৬৬ ব্যবসায়ী ১৮০০ টন আম রপ্তানি করেছিলেন।

স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে ভালো মানের কারণে আম যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইউরোপে সুনাম কুড়িয়েছে। তাই গত বছরের তুলনায় এ বছর রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আমের অর্ধেক বিদেশের বাজারে পাঠানোই কৃষি বিভাগের লক্ষ্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অর্টিকালচার উইং’র পরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে উৎপাদিত আম সবচেয়ে সুস্বাদু। তাই বাংলাদেশি আমের চাহিদা সারা বিশ্বে। এ ছাড়া গত বছর ১৭০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হলেও এ বছর এর লক্ষ মাত্রা বেশি ধরা হয়েছে।

প্রায় ২৪ লাখ টান উৎপাদনের পর আম রপ্তানিকারক দেশের শীর্ষ দশে নেই বাংলাদেশ।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তান। ২০২২ সালে ভারত ১ লাখ ৭৩ হাজার টন এবং পাকিস্তান রপ্তানি করেছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার টন। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করেছে মেক্সিকো ৪ লাখ ৬৮ হাজার টন। থাইল্যান্ড প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টন আম রপ্তানি করে ৮০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে।

বাংলাদেশ অবশ্য থাইল্যান্ডের তুলনায় অর্ধেক রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করে। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ২৬ লাখ টন। কিন্তু পাকিস্তানে মাত্র ৬টি জেলায় প্রায় সমান উৎপাদন রয়েছে। তবে বিপুল সম্ভাবনা ও বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো রপ্তানিতে পিছিয়ে।

এর পেছনে যেসব কারণ চিহ্নিত হয়েছে তার অন্যতম হলো আম সংগ্রহের পর গুণগত মান বজায় রেখে বাছাই ও মোড়কজাত করে পরিবহনে অব্যবস্থাপনা। আছে উৎপাদনকারী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, গবেষক এবং রপ্তানিকারকদের সমন্বয়ের অভাব।

তবে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিমানভাড়াকে। ভারতের চেয়ে দ্বিগুনের বেশি খরচ করে আম পাঠাতে হয় ইউরোপ-অ্যামেরিকাতে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে শুধু রপ্তানি বাড়াতে নয় রপ্তানিযোগ্য আমের উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ প্রকল্প শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। এ প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে বিদেশে রপ্তানির জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৯৩০ জন কৃষি উদ্যোক্তা আম উৎপাদন করছেন। ২০২৭ সালের মধ্যে, এটিকে৮ হাজারে-এ উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তাই সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাজ্যে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি হয়েছে আম। চলতি বছর আরও বেশকিছু দেশের বাজার ধরতে চায় বাংলাদেশ।