বাংলাদেশ একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে : মির্জা ফখরুল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩
  • ১৬৭৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ একদলীয় শাসনের দিকে যাত্রা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে তারা অনির্বাচিত। তাদের পরাজিত করতে এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য দরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন শুরু করেছি।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ মহান নেতা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সমস্ত জাতি যখন অসহায়, তখন তিনি পুরো জাতিকে দিশা দেখানোর জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় যখন দেশ রাজনৈতিক ব্যর্থতায় চলছিল তখন এ মহান মুক্তিযোদ্ধা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ত্রাণকর্তা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছিলেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি পুরো বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের তার সহধর্মিণী ও গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রেখেছে বর্তমান সরকার। তার সন্তান তারেক রহমান আজ প্রবাসে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। ৩৫ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, তাদের দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময়ে আমাদের এ নেতার শাহাদাতবার্ষিকী নতুন করে প্রেরণা জোগাবে। নতুন করে শপথ নিয়েছি হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।

সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা এ শপথ এখান থেকে নিয়েছি বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, মামলাগুলোর রায়ে বোঝা যায় সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আমাদের দমন করতে চায়। তারা নানাভাবে আমাদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চায়। এ আন্দোলনে একদিনের না দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছি।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন ‘লাল-সবুজের পতাকায়, জিয়া তোমায় দেখা যায়, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম, জিয়া তোমার স্মরণে ভয় করি না মরণে, জিয়া আমার চেতনা, জিয়া আমার বিশ্বাস প্রভৃতি।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শামা ওবায়েদসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে : মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০২:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩

বাংলাদেশ একদলীয় শাসনের দিকে যাত্রা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে তারা অনির্বাচিত। তাদের পরাজিত করতে এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য দরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন শুরু করেছি।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ মহান নেতা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সমস্ত জাতি যখন অসহায়, তখন তিনি পুরো জাতিকে দিশা দেখানোর জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় যখন দেশ রাজনৈতিক ব্যর্থতায় চলছিল তখন এ মহান মুক্তিযোদ্ধা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ত্রাণকর্তা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছিলেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি পুরো বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের তার সহধর্মিণী ও গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রেখেছে বর্তমান সরকার। তার সন্তান তারেক রহমান আজ প্রবাসে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। ৩৫ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, তাদের দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময়ে আমাদের এ নেতার শাহাদাতবার্ষিকী নতুন করে প্রেরণা জোগাবে। নতুন করে শপথ নিয়েছি হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।

সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা এ শপথ এখান থেকে নিয়েছি বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, মামলাগুলোর রায়ে বোঝা যায় সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আমাদের দমন করতে চায়। তারা নানাভাবে আমাদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চায়। এ আন্দোলনে একদিনের না দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছি।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন ‘লাল-সবুজের পতাকায়, জিয়া তোমায় দেখা যায়, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম, জিয়া তোমার স্মরণে ভয় করি না মরণে, জিয়া আমার চেতনা, জিয়া আমার বিশ্বাস প্রভৃতি।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শামা ওবায়েদসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।