রাজধানীর দক্ষিণখানে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩
  • ১৬৬৮ বার পড়া হয়েছে

বুধবার (৩১ মে) রাতে সাড়ে ৮টায় রাজধানীর দক্ষিণখানের দক্ষিণ পাড়া থেকে মাটি খুঁড়ে আফরোজা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম গত সোমবার দক্ষিণখান থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আফরোজার লাশের সন্ধান পায়।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোর্শেদ আলম বলেন,লাশটিতে পচন ধরেছে। আফরোজা বেগম পাঁচ বছর ধরে কানাডা থাকেন। তিনি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার নীজভোগডাবুড়ি গ্রামের মো. আতাউল্লাহ মন্ডলের মেয়ে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর প্রবাসী আশরাফুল আলমকে বিয়ে করেন আফরোজা। আশরাফুল ও আফরোজার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তারা দুজনেই কানাডার সিটিজেন। আগের ঘরে তাঁদের দুজনেরই সন্তান আছে।

গত এপ্রিলে রোজার আগে তারা কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসেন। কানাডায় তাঁদের বিয়ে হলেও কাবিন হয়নি। কিছুদিন আগে আফরোজার বাড়ি নীলফামারীতে তাঁদের এক কোটি টাকার কাবিন করা হয়। কাবিনের পরিমাণ নিয়ে আশরাফুল তাঁর স্ত্রীর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। গত শুক্রবার এ নিয়ে দক্ষিণখানের দক্ষিণ পাড়ার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর কলহ হয়। একপর্যায়ে আশরাফুল বঁটি দিয়ে আফরোজার মাথায় কোপ দেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।  ওই দিনই আফরোজার লাশ আশরাফুলের বাসার পাশের ফাঁকা জায়গায় মাটিতে পুঁতে রেখে আশরাফুল কানাডা চলে যান।

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মোসাম্মৎ রেজিয়া খাতুন বলেন, ‘জিডির পর আমি গতকাল মঙ্গলবার মেয়েটির স্বামীর বাড়িতে যাই। সেখানে বাড়ির কেউ কিছুই বলে নাই। এরপর থেকেই বাড়িতে আমি আমার সোর্স লাগিয়ে রাখি। অতঃপর আমি বুদ্ধি খাটিয়ে মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের থেকে জানতে পারি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পরে নিহতের স্বামীর কাছ থেকে কৌশলে তথ্য নেই। পরে তাকে ভিডিও কল দিলে সে লাশ পুঁতে রাখার জায়গা দেখিয়ে দেয়।’

এর আগে কয়েক দফা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ভিডিও কলে ফোন করে ঘটনা আড়াল করতে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিবারের দুই সদস্যকে কানাডায় বিনা খরচে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম। আফরোজার বাবা জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি এলাকায়। তিন ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর। আফরোজা প্রায় ৫ বছর ধরে কানাডায় থাকেন। প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর বছরখানেক আগে আশরাফুলকে বিয়ে করেন। প্রথম সংসারে আফরোজার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। আশরাফুলের প্রথম ঘরে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছিল। আফরোজাও (৪০) গত ৫ বছর ধরে কানাডায় ছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর আশরাফুল (৫০) তাঁর স্ত্রী ও দ্বিতীয় ঘরের মেয়েকে নিয়ে দেশে আসেন।

আশরাফুল রাজধানীর দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়া দক্ষিণপাড়ার শামছুদ্দিন সরকারের ছেলে। এ ঘটনার পর আশরাফুল ইসলাম গত শুক্রবার কানাডা চলে গেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর দক্ষিণখানে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:১১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩

বুধবার (৩১ মে) রাতে সাড়ে ৮টায় রাজধানীর দক্ষিণখানের দক্ষিণ পাড়া থেকে মাটি খুঁড়ে আফরোজা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম গত সোমবার দক্ষিণখান থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আফরোজার লাশের সন্ধান পায়।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোর্শেদ আলম বলেন,লাশটিতে পচন ধরেছে। আফরোজা বেগম পাঁচ বছর ধরে কানাডা থাকেন। তিনি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার নীজভোগডাবুড়ি গ্রামের মো. আতাউল্লাহ মন্ডলের মেয়ে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর প্রবাসী আশরাফুল আলমকে বিয়ে করেন আফরোজা। আশরাফুল ও আফরোজার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তারা দুজনেই কানাডার সিটিজেন। আগের ঘরে তাঁদের দুজনেরই সন্তান আছে।

গত এপ্রিলে রোজার আগে তারা কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসেন। কানাডায় তাঁদের বিয়ে হলেও কাবিন হয়নি। কিছুদিন আগে আফরোজার বাড়ি নীলফামারীতে তাঁদের এক কোটি টাকার কাবিন করা হয়। কাবিনের পরিমাণ নিয়ে আশরাফুল তাঁর স্ত্রীর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। গত শুক্রবার এ নিয়ে দক্ষিণখানের দক্ষিণ পাড়ার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর কলহ হয়। একপর্যায়ে আশরাফুল বঁটি দিয়ে আফরোজার মাথায় কোপ দেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।  ওই দিনই আফরোজার লাশ আশরাফুলের বাসার পাশের ফাঁকা জায়গায় মাটিতে পুঁতে রেখে আশরাফুল কানাডা চলে যান।

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মোসাম্মৎ রেজিয়া খাতুন বলেন, ‘জিডির পর আমি গতকাল মঙ্গলবার মেয়েটির স্বামীর বাড়িতে যাই। সেখানে বাড়ির কেউ কিছুই বলে নাই। এরপর থেকেই বাড়িতে আমি আমার সোর্স লাগিয়ে রাখি। অতঃপর আমি বুদ্ধি খাটিয়ে মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের থেকে জানতে পারি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পরে নিহতের স্বামীর কাছ থেকে কৌশলে তথ্য নেই। পরে তাকে ভিডিও কল দিলে সে লাশ পুঁতে রাখার জায়গা দেখিয়ে দেয়।’

এর আগে কয়েক দফা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ভিডিও কলে ফোন করে ঘটনা আড়াল করতে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিবারের দুই সদস্যকে কানাডায় বিনা খরচে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম। আফরোজার বাবা জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি এলাকায়। তিন ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর। আফরোজা প্রায় ৫ বছর ধরে কানাডায় থাকেন। প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর বছরখানেক আগে আশরাফুলকে বিয়ে করেন। প্রথম সংসারে আফরোজার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। আশরাফুলের প্রথম ঘরে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছিল। আফরোজাও (৪০) গত ৫ বছর ধরে কানাডায় ছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর আশরাফুল (৫০) তাঁর স্ত্রী ও দ্বিতীয় ঘরের মেয়েকে নিয়ে দেশে আসেন।

আশরাফুল রাজধানীর দক্ষিণখানের নদ্দাপাড়া দক্ষিণপাড়ার শামছুদ্দিন সরকারের ছেলে। এ ঘটনার পর আশরাফুল ইসলাম গত শুক্রবার কানাডা চলে গেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।