বগুড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩
  • ২৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপের  দেশ সুইডেন । সুইডেনের   স্টকহোমের সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে দুই ব্যক্তি। ইউরোপে ঈদের দিন এই ঘটনা ঘটেছিলো । ইরাক থেকে আসা অভিবাসী সলমন মোমিকা ও এক ব্যক্তি এই কাজ করেছিলো ।  সুইডেনের সরকারি ব্রডকাস্টার এসটিভি জানিয়েছিলো , এই ব্যক্তি কোরআন নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। সে এই কাজ করার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিল। আদালত তাকে অনুমতি দেয়। তারপর পুলিশের উপস্থিতিতে সে এই কাজ করে। প্রথমে সে পবিত্র কোরআনের পাতা ছেঁড়ে, তারপর তা পোড়ায়। আরেকজন ব্যক্তি তাকে সাহায্য করে। শ-দুয়েক মানুষ এই ঘটনা দেখে।

সুইডেনে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ডাকা বগুড়ায় আগামীকাল (শুক্রবার) জামায়াত ইসলামী বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এই কর্মসূচিতে সায় দেয়নি জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল জেলা পুলিশের সঙ্গে আলাপের পর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। প্রতিনিধি দল দাবি করছে, তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

এ দিন দুপুর দেড়টার দিকে শহর জামায়াত ইসলামীর সাবেক নেতা ও বগুড়া বার সমিতির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচ আইনজীবী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রতিনিধি দল জানায়, সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছে। এ জন্য জেলা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়ে অনুমতির জন্য তাদের কাছে যাওয়া হয়। তারা বিষয়ে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল বের করা হবে।

অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা জামায়াতের ইসলামের ব্যানারে করতে চেয়েছিলাম। তবে পুলিশ রাজনৈতিক ব্যানারে করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আমরা লিখিত আবেদন নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেটিও তারা নেননি। যেহেতু এটি একটি ধর্মীয় কর্মসূচি, এ জন্য তারা করতে নিষেধ করেননি। শুধু তারা রাজনৈতিক (কালার) পরিচয় বাদ দিতে বলেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত কথা হয়ে আছে।

রিয়াজ উদ্দিন দাবি করেন, ‘দীর্ঘদিন জামায়াত ইসলাম মিছিল মিটিং সমাবেশ করেনি। আমাদের সক্রিয়ভাবে কোনো কিছু করতে দেয়া হয়নি। আজকেও আমরা রাজনৈতিক ব্যানারে কর্মসূচি করতে চেয়েছি। সেখানেও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা জামায়াত ইসলামের ব্যানার ছাড়াই মিছিল করব।’

এ বিষয়ে জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমরা জামায়াত ইসলামের কোনো কর্মসূচির আবেদন পাইনি, কোনো অনুমতিও দিইনি। তারা এসেছিলেন কথা বলতে। আমরা বলেছি, কর্মসূচি বা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। এখানে আমাদের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার কিছু নেই।’

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩

ইউরোপের  দেশ সুইডেন । সুইডেনের   স্টকহোমের সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে দুই ব্যক্তি। ইউরোপে ঈদের দিন এই ঘটনা ঘটেছিলো । ইরাক থেকে আসা অভিবাসী সলমন মোমিকা ও এক ব্যক্তি এই কাজ করেছিলো ।  সুইডেনের সরকারি ব্রডকাস্টার এসটিভি জানিয়েছিলো , এই ব্যক্তি কোরআন নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। সে এই কাজ করার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিল। আদালত তাকে অনুমতি দেয়। তারপর পুলিশের উপস্থিতিতে সে এই কাজ করে। প্রথমে সে পবিত্র কোরআনের পাতা ছেঁড়ে, তারপর তা পোড়ায়। আরেকজন ব্যক্তি তাকে সাহায্য করে। শ-দুয়েক মানুষ এই ঘটনা দেখে।

সুইডেনে ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে ডাকা বগুড়ায় আগামীকাল (শুক্রবার) জামায়াত ইসলামী বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এই কর্মসূচিতে সায় দেয়নি জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল জেলা পুলিশের সঙ্গে আলাপের পর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। প্রতিনিধি দল দাবি করছে, তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।

এ দিন দুপুর দেড়টার দিকে শহর জামায়াত ইসলামীর সাবেক নেতা ও বগুড়া বার সমিতির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি হিসেবে পাঁচ আইনজীবী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রতিনিধি দল জানায়, সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভের কর্মসূচি নিয়েছে। এ জন্য জেলা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়ে অনুমতির জন্য তাদের কাছে যাওয়া হয়। তারা বিষয়ে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল বের করা হবে।

অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা জামায়াতের ইসলামের ব্যানারে করতে চেয়েছিলাম। তবে পুলিশ রাজনৈতিক ব্যানারে করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আমরা লিখিত আবেদন নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেটিও তারা নেননি। যেহেতু এটি একটি ধর্মীয় কর্মসূচি, এ জন্য তারা করতে নিষেধ করেননি। শুধু তারা রাজনৈতিক (কালার) পরিচয় বাদ দিতে বলেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত কথা হয়ে আছে।

রিয়াজ উদ্দিন দাবি করেন, ‘দীর্ঘদিন জামায়াত ইসলাম মিছিল মিটিং সমাবেশ করেনি। আমাদের সক্রিয়ভাবে কোনো কিছু করতে দেয়া হয়নি। আজকেও আমরা রাজনৈতিক ব্যানারে কর্মসূচি করতে চেয়েছি। সেখানেও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা জামায়াত ইসলামের ব্যানার ছাড়াই মিছিল করব।’

এ বিষয়ে জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমরা জামায়াত ইসলামের কোনো কর্মসূচির আবেদন পাইনি, কোনো অনুমতিও দিইনি। তারা এসেছিলেন কথা বলতে। আমরা বলেছি, কর্মসূচি বা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। এখানে আমাদের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার কিছু নেই।’