রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় যুগ্ম সচিবের মামলা থেকে অব্যাহতি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩
  • ১৬৫৭ বার পড়া হয়েছে

তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলেও বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যুগ্ম সচিব আলতাফ হোসেনকে। গত ২৯ জুন অবসরে যাওয়া প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অনিয়মের জন্য লঘুদণ্ড দিতে সুপারিশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে রাষ্ট্রপতি তাঁকে মামলা থেকেই রেহাই দেন।

আলতাফ হোসেন সর্বশেষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিয়া) প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। ২০১৯ থেকে দুই বছর ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইমার্জেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স (ইএমআরসিআর) প্রকল্পের পরিচালক। বিশ্বব্যাংকের ১৬৫ মিলিয়ন ডলার অনুদানের একটি প্রকল্পের আওতায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া কেন্দ্রে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, হাটবাজার, সড়ক, নালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ প্রকল্পের পরিচালক থাকাকালে আলতাফ হোসেন সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে মালপত্র কেনেন। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মালপত্র ক্রয়ের শর্ত ছিল। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে, অর্থাৎ ঠিকাদারের দেওয়া মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকার মালপত্র কেনেন।

প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য গাড়ি ভাড়ায়ও অনিয়ম হয়। এখানেও আরএফকিউ পদ্ধতিতে গাড়ি ব্যবহার করা হয়। ভাড়া দেওয়া হয় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। গত বছরের ২৯ নভেম্বর অভিযোগ বিবরণী জারি করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি শুনানির পর অভিযোগ তদন্ত শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৯ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে অসদাচরণের সন্দেহাতীত প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছেন বিবেচনায় তাঁকে লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার করার সুপারিশ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী।

জনপ্রশাসনের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে জানিয়েছেন, যুগ্ম সচিব এবং ততোর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সাজা দিতে পারেন না সচিব। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাজা দিতে পারেন।

মন্ত্রণালয় তিরস্কারের মতো লঘুদণ্ডের সুপারিশ করলেও, এ সাজাও পেতে হয়নি আলতাফ হোসেনকে। গত ২৬ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি বিভাগীয় মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর তিন দিন পর তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন।

আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অপরাধ প্রমাণের পরও সাজা না দিয়ে ক্ষমা করে দেওয়া ভয়ংকর নজির তৈরি করবে। দুর্নীতিতে জড়াতে অন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবে।

 

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় যুগ্ম সচিবের মামলা থেকে অব্যাহতি

আপডেট সময় : ০৮:১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলেও বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যুগ্ম সচিব আলতাফ হোসেনকে। গত ২৯ জুন অবসরে যাওয়া প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অনিয়মের জন্য লঘুদণ্ড দিতে সুপারিশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে রাষ্ট্রপতি তাঁকে মামলা থেকেই রেহাই দেন।

আলতাফ হোসেন সর্বশেষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিয়া) প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। ২০১৯ থেকে দুই বছর ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইমার্জেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স (ইএমআরসিআর) প্রকল্পের পরিচালক। বিশ্বব্যাংকের ১৬৫ মিলিয়ন ডলার অনুদানের একটি প্রকল্পের আওতায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া কেন্দ্রে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, হাটবাজার, সড়ক, নালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ প্রকল্পের পরিচালক থাকাকালে আলতাফ হোসেন সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে মালপত্র কেনেন। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মালপত্র ক্রয়ের শর্ত ছিল। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে, অর্থাৎ ঠিকাদারের দেওয়া মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকার মালপত্র কেনেন।

প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য গাড়ি ভাড়ায়ও অনিয়ম হয়। এখানেও আরএফকিউ পদ্ধতিতে গাড়ি ব্যবহার করা হয়। ভাড়া দেওয়া হয় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৪১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। গত বছরের ২৯ নভেম্বর অভিযোগ বিবরণী জারি করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি শুনানির পর অভিযোগ তদন্ত শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৯ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে অসদাচরণের সন্দেহাতীত প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছেন বিবেচনায় তাঁকে লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার করার সুপারিশ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী।

জনপ্রশাসনের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে জানিয়েছেন, যুগ্ম সচিব এবং ততোর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সাজা দিতে পারেন না সচিব। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাজা দিতে পারেন।

মন্ত্রণালয় তিরস্কারের মতো লঘুদণ্ডের সুপারিশ করলেও, এ সাজাও পেতে হয়নি আলতাফ হোসেনকে। গত ২৬ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি বিভাগীয় মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর তিন দিন পর তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন।

আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অপরাধ প্রমাণের পরও সাজা না দিয়ে ক্ষমা করে দেওয়া ভয়ংকর নজির তৈরি করবে। দুর্নীতিতে জড়াতে অন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবে।