গত সোমবার ঢাকা ও গাজীপুরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ১৬ জন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে অপহরণ ডাকাতি ও ছিনতাই এর সঙ্গে জড়িত।ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন ডাকাত দলের প্রধান শহীদুল ইসলাম মাঝি ওরফে শহীদ মাঝি এক সময় পুলিশের সোর্স ছিলেন। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে তিনি পুলিশের বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করেন, গড়ে তোলেন ডাকাত দল। পরবর্তীতে পুলিশ পরিচয় করে।এই আসামির বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
দলটিতে গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন সাগর চন্দ্রমালী, শাহ আলম হাওলাদার, কামরুল ইসলাম ওরফে রোমিল তালুকদার,মাকসুদুল মমিন ওরফে শামীম, মোঃ হাসান, নুরুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, আকরাম হোসেন দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউসার আহমেদ, ইলিয়াস আহমেদ ওরফে নীরব, ফারহাদ আলী, রিয়াজ হোসেন হাওলাদার ওরফে রিয়াজুল, শফিকুল ইসলাম লিটন, সিরাজুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম পিন্টু।
ডিবি প্রধান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ১৭ জুন ক্যান্টনমেন্ট থানার জিয়া কলোনির সামনে ডিবি পরিচয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা বিকাশের এক এজেন্টকে গাড়িতে তোলেন। এ সময় ডিবি লেখা পোশাক ছিল। বিকাশে ঐ এজেন্টকে হাত, পা, চোখ বেঁধে পাশাপাশি সঙ্গে থাকা ১৩ লাখ টাকা, মানিব্যাগে থাকা ১৯ হাজার টাকা এবং বিকাশ একাউন্ট থেকে ৩৭ হাজার টাকা তুলে নেন তারা। মারধর ও লুটপাটের পর বিকাশের ওই এজেন্টকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকায় ফেলে যায় ডাকাত দল।
ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন বিকাশের ওই এজেন্ট এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পরিচয় অপহরণ ও ছিনতাই এ জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় মৌচাক এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ডেমরা এলাকা থেকে আরো ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফুট সড়ক এলাকায় ডাকাতের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আরো ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাদাদের মাধ্যমে জানা যায়, ঢাকার মতিঝিল- পল্টন -ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকার ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হয়, এবং তাদের পিছু নিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে অনুসরণ করে সুবিধা জনক স্থানে মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে লক্ষ্যবস্তুকে মাইক্রোবাসের তুলে নেওয়া হতো এবং সর্বস্ব লুট করে তাকে নির্জন কোন স্থানে পেলে পালিয়ে যেত দুর্বৃত্তরা।
চেয়ারম্যান : মিসেস সাজিয়া আইরিন
সম্পাদক মন্ডলির সদস্যআবু জাফর মনসুর আহম্মেদ
মোঃ লুৎফর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক : রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
©Dynamic Media Action Ltd