শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় বাবার সাথে চা বেচে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন বেলায়েত হোসেন ইমরোজ। অদম্য এই তরুণকে কোন প্রতিবন্ধকতা আটকে রাখতে পারেনি। ৪১ তম বিসিএসে সাধারন শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন। মেধা তালিকায় তার অবস্থান দ্বিতীয়।
তার গল্পে উঠে এসেছে বিসিএস জয়ের গল্পকথা। অর্থের অভাবে বেলায়েতকে পড়াশোনা না করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার বাবা শামসুল তালুকদার। তবে বেলায়েতের ছিল পড়াশোনার প্রতি তীব্র ঝোঁক। সেই সফলতা দেখিয়েছেন ইমরোজ।
পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় দায়িত্ব নেওয়াটা ভালোভাবেই রপ্ত করেন তিনি। একদিকে সামলে নিয়েছেন বাবার চায়ের দোকান, অন্যদিকে চালিয়ে গেছেন তার বিসিএস যুদ্ধ।
ইমরোজের বাবা শামসুল তালুকদার বলেন, যখন আমি বাইরে কৃষিকাজ করতে যেতাম তখন আমার ছেলে দোকানে বসে কাজ করেছে। দোকানে বসেই লেখাপড়া করতো। আমাকে সাহায্য করেছে। ক্লাস না ইনের ওঠার পর আর্থিক অনটনের কারণে পড়ালেখা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু ছেলের আগ্রহ দেখে পড়ালেখা আর বন্ধ করিনি। তার মামারাও সাহায্য করেছে। আমার ছেলেটা কষ্ট করেছে। সে সফল হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া প্রকাশ করছি।
নিজের এই অসামান্য অর্জনের জন্য মা-বাবা, সহধর্মিণী, পরিবার-পরিজন, শিক্ষক, বন্ধুসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইমরোজ। তিনি বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সঠিক কৌশলে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বিনোদপুর মৌলভী কান্দি দাখিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল এবং ২০১৪ সালে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণহন বেলায়েত। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্সসম্পন্ন করেন। তার এমন সাফল্যে শিক্ষকরাও গর্বিত।
চেয়ারম্যান : মিসেস সাজিয়া আইরিন
সম্পাদক মন্ডলির সদস্যআবু জাফর মনসুর আহম্মেদ
মোঃ লুৎফর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক : রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
©Dynamic Media Action Ltd