ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব নারিকেল দিবস আজ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬৩৭ বার পড়া হয়েছে

রিকেল আমাদের কাছে খুব পরিচিত একটি ফল। কাঁচা অবস্থায় ডাবের পানি ও শাঁস, আর পাকা নারিকেল দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম খাবার। কেবল স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারিকেলের ব্যাপক কদর রয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষ, উৎপাদন ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবার ও নানা কাজে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে। এর আদি উৎস নিয়ে নানা মত থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নারিকেলের সম্পর্ক বেশ গভীর।

সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারিকেলও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইউরোপে নারিকেলের পরিচিতি ঘটে প্রায় ১৬ শতকের দিকে। ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের হাত ধরে ধীরে ধীরে এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তে।

নারিকেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা ও এই শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে গঠিত এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (এপিসিসি)। সংস্থাটি নারিকেল উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে প্রথম পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষিদের উৎসাহ দেওয়া, নারিকেলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দিবসটির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে নারিকেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহারগুলোর একটি হলো ডাব। গরমে ডাবের পানি যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি কাঁচা নারিকেলের শাঁসও অনেকের প্রিয়। পাকা নারিকেল ব্যবহৃত হয় রান্না ও মিষ্টান্ন তৈরিতে। নারিকেলের দুধ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন পদ। নারিকেলের তেলও রান্না, প্রসাধনীসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। এমনকি নারিকেলের ছোবড়া ও খোল দড়ি, মাদুর, জ্বালানি কিংবা বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অর্থাৎ নারিকেল এমন একটি ফল, যার গাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কোনো না কোনোভাবে মানুষের কাজে আসে।

পুষ্টিতেও পিছিয়ে নেই নারিকেল। এর শাঁসে রয়েছে চর্বি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। অন্যদিকে ডাবের পানিতে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট থাকে। তবে ডাবের পানি বা নারিকেলকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

বিশ্ব নারিকেল দিবস পালনের সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে দেশীয় এই ফলটির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জানা ও অন্যদের জানানো। ডাবের পানি পান করা, নারিকেল দিয়ে কোনো খাবার তৈরি করা কিংবা নারিকেল চাষিদের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।

বাংলাদেশের গ্রামবাংলার সঙ্গে নারিকেল গাছের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। বাড়ির উঠানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নারিকেলগাছ কেবল ফলই দেয় না, ছায়া, জ্বালানি ও নানা উপকরণও জোগায়।

তাই বিশ্ব নারিকেল দিবস কেবল একটি ফল উদযাপনের দিন নয়; এটি নারিকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং এই বহুমুখী গাছের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব মনে করারও একটি উপলক্ষ।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব নারিকেল দিবস আজ

আপডেট সময় : ১১:৩১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিকেল আমাদের কাছে খুব পরিচিত একটি ফল। কাঁচা অবস্থায় ডাবের পানি ও শাঁস, আর পাকা নারিকেল দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম খাবার। কেবল স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারিকেলের ব্যাপক কদর রয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষ, উৎপাদন ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবার ও নানা কাজে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে। এর আদি উৎস নিয়ে নানা মত থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নারিকেলের সম্পর্ক বেশ গভীর।

সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারিকেলও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইউরোপে নারিকেলের পরিচিতি ঘটে প্রায় ১৬ শতকের দিকে। ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের হাত ধরে ধীরে ধীরে এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তে।

নারিকেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা ও এই শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে গঠিত এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (এপিসিসি)। সংস্থাটি নারিকেল উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে প্রথম পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষিদের উৎসাহ দেওয়া, নারিকেলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দিবসটির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে নারিকেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহারগুলোর একটি হলো ডাব। গরমে ডাবের পানি যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি কাঁচা নারিকেলের শাঁসও অনেকের প্রিয়। পাকা নারিকেল ব্যবহৃত হয় রান্না ও মিষ্টান্ন তৈরিতে। নারিকেলের দুধ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন পদ। নারিকেলের তেলও রান্না, প্রসাধনীসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। এমনকি নারিকেলের ছোবড়া ও খোল দড়ি, মাদুর, জ্বালানি কিংবা বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অর্থাৎ নারিকেল এমন একটি ফল, যার গাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কোনো না কোনোভাবে মানুষের কাজে আসে।

পুষ্টিতেও পিছিয়ে নেই নারিকেল। এর শাঁসে রয়েছে চর্বি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। অন্যদিকে ডাবের পানিতে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট থাকে। তবে ডাবের পানি বা নারিকেলকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

বিশ্ব নারিকেল দিবস পালনের সবচেয়ে সহজ উপায় হতে পারে দেশীয় এই ফলটির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জানা ও অন্যদের জানানো। ডাবের পানি পান করা, নারিকেল দিয়ে কোনো খাবার তৈরি করা কিংবা নারিকেল চাষিদের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি।

বাংলাদেশের গ্রামবাংলার সঙ্গে নারিকেল গাছের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। বাড়ির উঠানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নারিকেলগাছ কেবল ফলই দেয় না, ছায়া, জ্বালানি ও নানা উপকরণও জোগায়।

তাই বিশ্ব নারিকেল দিবস কেবল একটি ফল উদযাপনের দিন নয়; এটি নারিকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং এই বহুমুখী গাছের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব মনে করারও একটি উপলক্ষ।