ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে চাপে ভোক্তা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অগাস্ট ২০২৩
  • ১৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি- বাংলাপ্রেস।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঊর্ধ্বমুখী বাজারের প্রায় সব নিত্যপণ্য। চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি। রসুনের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা আর ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা আমদানি ও সরবরাহ কমার অজুহাত দিয়ে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসেছে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মোটা চালের একটি হলো- পাইজম চাল। এই চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা কেজিতে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ টাকা কেজি। নিম্নআয়ের মানুষের খাবারের আরেকটি চাল হলো বিআর-২৮। এই চাল গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকা কেজিতে। এখনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। শুধু এই দুই ধরনের চালই নয়, কম বেশি সব চালের দাম বেড়েছে।

জানতে চাইলে নিকেতন বাজার গেটের ব্যবসায়ী আল আমিন স্টোরের মালিক মনির হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, শুনেছি ভারত থেকে চাল আমদানি করবে সরকার, কিন্তু আমদানি না করার কারণে চালের দাম বাড়ছে।

চালের দাম যেমন-তেমন পেঁয়াজ-রসুন ডিমের বাজার আগুন বললেন রামপুরা বাজারে আসা ক্রেতা রাইসুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। কথা নেই, বার্তা নেই নিজের ইচ্ছামতো পেঁয়াজ, রসুনের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ কিনেছি ৬৫ টাকা কেজি। আজকে কিনেছি ৮০ টাকা কেজি। দোকানদার যেভাবে দিচ্ছে আমাকে সেভাবেই নিতে হচ্ছে। রসুনের দামও ৪০ টাকা বাড়তি। তাই ২৫০ গ্রাম রসুন কিনেছি।

কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ী ছায়েদুর ইসলাম বলেন, ভারতের রসুনের দাম বাড়ায়। তিন চারদিন ধরে রসুন আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে রসুনের দাম বাড়ছে।

বাজারগুলোতে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। আর মাঝারি মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। দেশি-বিদেশি মিক্সড পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর বিদেশি নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। এই পেঁয়াজ এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

রসুনের মধ্যে দেশি ভালো মানের রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। আর মাঝারি মানের রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। আর ভালো মানের বিদেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। আর ছোট কোয়া রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি।

বাজারে সবচেয়ে আলোচিত পণ্যের নাম ডিম। ফার্মের মুরগির ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা হালি। অর্থাৎ এক পিস ডিমের দাম ১৫ টাকা। যা এক সপ্তাহে আগেও প্রতি পিস ডিমের মূল্য ছিল ১১ থেকে ১২ টাকা। অর্থাৎ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা হালি। আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। এছাড়াও আমদানিকৃত আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর তথ্য মতে, রাজধানীতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। রসুনের মধ্যে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। যা এক সপ্তাহে আগেও ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। আমদানি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি।

ডিমের মধ্যে ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হালি। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা হালি। আর ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, ডজন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা হালি, ডজন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। সোনালী মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। দেশি মুরগির ডিশের শত বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়।

বেড়েছে বরবটির দাম, কমেছে অধিকাংশ সবজির

সবজির মধ্যে গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে। গাজর ১৪০ টাকা কেজি। করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, কাঁকরোল ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা, ৫০ টাকার লাউ ৬০ টাকা।

পটল বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে, আলু ৪০ টাকা, ৮০ টাকার ঝিঙে ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় (কাটা পিস), ফুলকপি ৫০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা কেজি, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, শিম ২০০ টাকা কেজি, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১৬০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও মাংস

মাছের মধ্যে গরিব খাবার পাঙাশ মাছের কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। আকার বড় পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। চিংড়ির মধ্যে বড় চিংড়ি কেজি ৮০০ টাকা। ছোট চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজিতে। ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাঝারি মানের পাবদা। রুই কেজি ৩৫০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা। ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজিতে।

মাংসের মধ্যে মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ