পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

  • স্বর্গ হাসান
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩
  • ১৭০০ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাসকে পুঁজি করে এরই মধ্যে কয়েক দফা বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত উভয় পণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া।রমজান মাস শুরুর আগে পণ্যমূল্য সহনীয় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। কিন্তু সংগঠনটির সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

রোজার আগেই বাজারে বেড়ে গেছে অনেক পণ্যের দাম।সব ধরনের খাদ্যসামগ্রীর দাম এবার আগের বছরের তুলনায় কেজিতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্য যেমন: গরুর মাংস, মাছ ও শাকসবজি ইত্যাদির দামও বেড়েছে সমানতালে। এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন নিজেই হতাশা ব্যক্ত করেন রাজধানীর মতিঝিলে বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বিভিন্ন বাজার কমিটি ও পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়।

জানা গেছে, স্থানীয় সরবরাহের মাধ্যমে গরুর মাংসের চাহিদা সম্পূর্ণভাবে মেটানো হলেও রমজানের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিয়েছে। ফলে গরুর মাংসের দাম এক সপ্তাহ আগের ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা কেজিতে উঠেছে।অর্থনীতিবিদরা যা বলছেন
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লেগেছে আমদানি করা খাদ্যসামগ্রীর ওপর। এ যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। আর সেই সঙ্গে কয়েক দশকের মধ্যে ডলারও সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আমদানিকারকরা বলছেন, ডলারের দামকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করার পর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার ফলে আমদানি পণ্যে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে গ্যাস, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্য— এসবই উৎপাদন ও পরিবহন খরচে ভূমিকা রেখেছে। গত বছরের তুলনায় এবারের রমজানে ভোক্তাদের খরচ বাড়াচ্ছে।১৯ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘পুলিশ যদি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় অব্যাহত রাখে, তাহলে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।

আগের দুই বছরও রমজান-পূর্ব বৈঠকে একই অভিযোগ এসেছিল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কঠোরভাবে মনিটরিং না থাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। চালাক-চতুর ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সেগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

আপডেট সময় : ০৮:২৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

পবিত্র রমজান মাসকে পুঁজি করে এরই মধ্যে কয়েক দফা বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত উভয় পণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া।রমজান মাস শুরুর আগে পণ্যমূল্য সহনীয় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। কিন্তু সংগঠনটির সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

রোজার আগেই বাজারে বেড়ে গেছে অনেক পণ্যের দাম।সব ধরনের খাদ্যসামগ্রীর দাম এবার আগের বছরের তুলনায় কেজিতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্য যেমন: গরুর মাংস, মাছ ও শাকসবজি ইত্যাদির দামও বেড়েছে সমানতালে। এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন নিজেই হতাশা ব্যক্ত করেন রাজধানীর মতিঝিলে বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বিভিন্ন বাজার কমিটি ও পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়।

জানা গেছে, স্থানীয় সরবরাহের মাধ্যমে গরুর মাংসের চাহিদা সম্পূর্ণভাবে মেটানো হলেও রমজানের আগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিয়েছে। ফলে গরুর মাংসের দাম এক সপ্তাহ আগের ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা কেজিতে উঠেছে।অর্থনীতিবিদরা যা বলছেন
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লেগেছে আমদানি করা খাদ্যসামগ্রীর ওপর। এ যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। আর সেই সঙ্গে কয়েক দশকের মধ্যে ডলারও সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আমদানিকারকরা বলছেন, ডলারের দামকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করার পর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার ফলে আমদানি পণ্যে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে গ্যাস, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্য— এসবই উৎপাদন ও পরিবহন খরচে ভূমিকা রেখেছে। গত বছরের তুলনায় এবারের রমজানে ভোক্তাদের খরচ বাড়াচ্ছে।১৯ মার্চ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘পুলিশ যদি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় অব্যাহত রাখে, তাহলে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না।

আগের দুই বছরও রমজান-পূর্ব বৈঠকে একই অভিযোগ এসেছিল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, কঠোরভাবে মনিটরিং না থাকায় লাফিয়ে লাফিয়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। চালাক-চতুর ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সেগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।