
নাটক সমাজের দর্পন। আর এ কথাটির নান্দনিক প্রকাশ যেন বাতিঘরের নতুন পরিবেশনা ‘ভগবান পালিয়ে গেছে’ নাটকটি।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ৯ জুন শুক্রবার মঞ্চস্থ হয়েছে প্রতিশ্রুতিশীল নাট্যদল বাতিঘরের নতুন নাটক ‘ভগবান পালিয়ে গেছে’।
মানুষের মন অসীম ক্ষমতার অধিকারী। এই ক্ষমতার বলে মানুষ যেমন অজানাকে জানার জন্য খোলা মনে প্রশ্ন করতে পারে একি ভাবে মানুষ এই বিশ্বাসের দাস হয়ে তলিয়ে যেতে পারে অন্ধকার অতলে। মানুষের সব বিশ্বাস একি সুতায় গেঁথে এই বিশ্বাসের পরিবর্তনগুলো কেন ও কিভাবে আসে তা ভগবান পালিয়ে গেছে’ নাটকটিতে দেখানো হয়েছে।

আমাদের সামাজিক বিশ্বাস, ধর্মীয় বিশ্বাস, আবহমানকালের ধর্মীয় গোড়ামী একিসাথে রূপক ও বাস্তব রুপে এ নাটকে প্রকাশ পেয়েছে। গল্প বলার ক্ষেত্রে এ নাটকের লেখক মুক্তনীল সচেতন ভাবেই দর্শকদের উপযোগী একটি সহজ ভাষা খুঁজে নিয়েছেন ।
গল্পের ভীন্ন আঙ্গিক পরিবেশনা, রুপ সজ্জা এবং আলোক সজ্জা বিশেষভাবে দর্শক উপভোগ করেছেন। তবে সঙ্গীত সংযোজনে নাটকটি বিশেষ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। চরিত্র বিকাশে প্রত্যেকে অভিনয় শিল্পীই তাদের সর্বোচ্চটুকু দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
বাতিঘরের পরিবেশনায় এ নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশক মুক্তনীল বলেন ‘ভগবান পালিয়ে গেছে নাটকের ভগবান আক্ষরিক অর্থে ভগবান বা ঈশ্বর নন, এই ভগবান আসলে আমার ভেতরে যে আমার আমি নামক সত্বা থাকে সেই সত্বা যে আসলে আমাদের মধ্য থেকে পালিয়ে গেছে।‘
শিল্পীর দায়বদ্ধতার যায়গা থেকে তিনি আরো বলেন ‘ আমাদের প্রত্যেকেরই প্রত্যেকের যায়গা থেকে একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে সেখান থেকে আমরা যারা শিল্পী আমরা যাতে সময়ের সাথে থাকি সময়ের কথা বলি’
সর্বপরি বাতিঘরের পরিবেশনায় এ নাটকটি সকল শ্রেণীর দর্শক উপভোগ করেছেন।