
জাতীয় বা বিশেষ দিবস ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তোলন হয় না জাতীয় পতাকা। বিষয়টি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, এর মাধ্যমে অবমূল্যায়ন হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বাহক জাতীয় পতাকার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পূর্ব পর্যন্ত কোন সময়ই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে না। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের সামনেই পতাকা মঞ্চ থাকলেও দন্ডগুলো দেখা গেছে শুধু রশি নিয়ে দন্ডায়মান।
হাসপাতাল সংলগ্ন দোকানের ব্যবসায়ি ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন চোখে পড়ে না। এ নিয়ে কাউকে কিছু বলতেও দেখি না। যেই পতাকার মাধ্যমে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। সেই জাতীয় পতাকা নিয়মিত উত্তোলন না করে সেটির অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সিরাজদিখান উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন হাওলাদার বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করে না এটা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ এ বলা হয়েছে, ‘জাতীয় ও বিশেষ দিবস ছাড়াও প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন এবং অফিস সমূহে যেমন, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, সংসদ ভবন প্রভৃতি, সকল মন্ত্রণালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশ সচিবালয় ভবন সমূহ, হাইকোর্টের অফিস সমূহ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত সমূহ, বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার/ কালেক্টর, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ অফিস সমূহ, হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারসমূহ, পুলিশ স্টেশন, শুল্ক পোস্ট অফিস সমূহ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এই রকম অন্যান্য ভবনে সরকার কর্তৃক সময় নির্ধারিত ভবন সমূহে সকল কর্মদিবসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আঞ্জুমান আরা বলেন, জাতীয় দিবসগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শোক দিবসে অর্ধনমিত থাকে। অন্য দিনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা নেই।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলম তানভীর বলেন, সকল প্রতিষ্ঠানেই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধান রয়েছে।