গাইবান্ধায় প্রাধান শিক্ষক শূন্য ১৩৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০২৩
  • ১৬৮৮ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৩৬৬ জন শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৬৬টি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। ওইসব বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। সাত উপজেলায় শুণ্য পদে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২১জন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২২জন, পলাশবাড়ীতে ১৩জন, সুন্দরগঞ্জে ২৮ জন, সাদুল্যাপুরে ১৭জন, ফুলছড়িতে ১১জন এবং সাঘাটায় ২৩জন।

এছাড়াও জেলার দুই শতাধিক বিদ্যালয়ে ২৩১টি সহকারি শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪৯জন, পলাশবাড়ী ২৫জন, গোবিন্দগঞ্জ ৫৮ জন, সাদুল্যাপুরে ২৯জন, ফুলছড়ি ১৪জন, সাঘাটায় ২১জন এবং সুন্দরগঞ্জ ৩৫জন। সহকারী শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে মারাত্মকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধা সদর উপজেলার কয়েকজন সহকারি শিক্ষক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। অনেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়। এসব কারণে একদিন পাঠদান বন্ধ থাকে, আরেকদিন প্রশাসনিক কাজে সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে করে কোন কাজেরই ঠিকমত দায়িত্ব পালন করা যাচ্ছেনা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামের অবিভাবক জয়নাল আবেদীন বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে তেমন একটা পড়াশুনা হচ্ছে না। আমরা ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।

উপজেলার সহকারি শিক্ষক আহমেদ শরিফ বলেন, এমনিতেই আমাদের বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক তিনজন। তার মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তিনি কোনো কাজে উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে দুইজনই সব সামলাতে হয়। পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান করতে হিমশিমে পড়ে যাই।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, অনেক শিক্ষক অবসরে যাওয়ার কারণে পদ শুণ্য হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে যাদের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের অনেকই ব্যাংকে বা ভালো চাকরি পেলে চলে যান। ফলে ওই পদগুলো শুণ্য হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই। সেসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি উর্ধŸতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধায় প্রাধান শিক্ষক শূন্য ১৩৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুলাই ২০২৩

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৩৬৬ জন শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৬৬টি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। ওইসব বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। সাত উপজেলায় শুণ্য পদে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২১জন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২২জন, পলাশবাড়ীতে ১৩জন, সুন্দরগঞ্জে ২৮ জন, সাদুল্যাপুরে ১৭জন, ফুলছড়িতে ১১জন এবং সাঘাটায় ২৩জন।

এছাড়াও জেলার দুই শতাধিক বিদ্যালয়ে ২৩১টি সহকারি শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৪৯জন, পলাশবাড়ী ২৫জন, গোবিন্দগঞ্জ ৫৮ জন, সাদুল্যাপুরে ২৯জন, ফুলছড়ি ১৪জন, সাঘাটায় ২১জন এবং সুন্দরগঞ্জ ৩৫জন। সহকারী শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে মারাত্মকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধা সদর উপজেলার কয়েকজন সহকারি শিক্ষক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। অনেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়। এসব কারণে একদিন পাঠদান বন্ধ থাকে, আরেকদিন প্রশাসনিক কাজে সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে করে কোন কাজেরই ঠিকমত দায়িত্ব পালন করা যাচ্ছেনা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামের অবিভাবক জয়নাল আবেদীন বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে তেমন একটা পড়াশুনা হচ্ছে না। আমরা ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।

উপজেলার সহকারি শিক্ষক আহমেদ শরিফ বলেন, এমনিতেই আমাদের বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক তিনজন। তার মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তিনি কোনো কাজে উপজেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে দুইজনই সব সামলাতে হয়। পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান করতে হিমশিমে পড়ে যাই।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, অনেক শিক্ষক অবসরে যাওয়ার কারণে পদ শুণ্য হচ্ছে। এছাড়া নতুন করে যাদের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের অনেকই ব্যাংকে বা ভালো চাকরি পেলে চলে যান। ফলে ওই পদগুলো শুণ্য হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নেই। সেসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারি শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি উর্ধŸতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।