বগুড়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়েছিল স্বামী আরিফিন

ছবি- বাংলাপ্রেস।

বগুড়ায় নিজ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা পায়নি স্বামী সাজ্জাতুল আরিফিন। রোববার (২৩ জুলাই) ভোর রাতে সদরের গোকুল বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি, বগুড়া সদরের ধাওয়াকোলা এলাকার মোঃ শাহাবুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন (৩৩)।

জানা গেছে, গত ২০ জুলাই বিকালে অপরিচিত মোবাইলের মাধ্যমে বগুড়া সদর থানায় সংবাদ আসে। বগুড়া সদর থার ধাওয়াকোলা দক্ষিণপাড়ায় একজন মহিলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তৎক্ষণিকভাবে জরুরী ডিউটিতে নিয়োজিত থাকা এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ফজলুল হক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল ধাওয়াকোলা দক্ষিণ পাড়ায় উপস্থিত হয়ে গলায় ফাঁস দেয়া ব্যক্তির লাশ রিপোর্ট প্রস্তুত করে শজিমেক মর্গে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় মৃতের বাবা মোঃ আব্দুল মান্নান প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানান, তার মেয়ে মৃত্যুর বিষয়ে কাউকে সন্দেহ করছেন না এবং বিষয়টি আত্মহত্যা হওয়ায় তিনি বাদী হয়ে ওই রাতেই বগুড়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের চৌকস টিম ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে এবং ময়না তদন্তকারী ডাক্তার সাথে আলোচনাসহ মৃত মাহমুদা আক্তার মারুফার স্বামী মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন এর গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে। এরমধ্যে
কিছু চাঞ্চলকর তথ্য আসে পুলিশের হাতে। তাছাড়া মৃতের বাবা মোঃ আব্দুল মান্নানেরও এই বিষয়ে সন্দেহ হয় এবং তিনি নিশ্চিত হন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করে নি। এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

পরে মৃতের বাবা আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন ও তার চাচা মোঃ সরাফ উদ্দিন’কে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামি মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মারুফা’কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অতঃপর হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন ও তার সহযোগীদের সহযোগিতায় সাজ্জাতুল আরিফিন তার ঘরের বাঁশের তিরের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মৃতের লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।

বগুড়া জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২৩ জুলাই রাত দেড়টার সময় বগুড়া সদর থানার গোকুল বন্দর থেকে আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বগুড়ায় হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়েছিল স্বামী আরিফিন

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩

বগুড়ায় নিজ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা পায়নি স্বামী সাজ্জাতুল আরিফিন। রোববার (২৩ জুলাই) ভোর রাতে সদরের গোকুল বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি, বগুড়া সদরের ধাওয়াকোলা এলাকার মোঃ শাহাবুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন (৩৩)।

জানা গেছে, গত ২০ জুলাই বিকালে অপরিচিত মোবাইলের মাধ্যমে বগুড়া সদর থানায় সংবাদ আসে। বগুড়া সদর থার ধাওয়াকোলা দক্ষিণপাড়ায় একজন মহিলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তৎক্ষণিকভাবে জরুরী ডিউটিতে নিয়োজিত থাকা এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ফজলুল হক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল ধাওয়াকোলা দক্ষিণ পাড়ায় উপস্থিত হয়ে গলায় ফাঁস দেয়া ব্যক্তির লাশ রিপোর্ট প্রস্তুত করে শজিমেক মর্গে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় মৃতের বাবা মোঃ আব্দুল মান্নান প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানান, তার মেয়ে মৃত্যুর বিষয়ে কাউকে সন্দেহ করছেন না এবং বিষয়টি আত্মহত্যা হওয়ায় তিনি বাদী হয়ে ওই রাতেই বগুড়া সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের চৌকস টিম ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে এবং ময়না তদন্তকারী ডাক্তার সাথে আলোচনাসহ মৃত মাহমুদা আক্তার মারুফার স্বামী মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন এর গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে। এরমধ্যে
কিছু চাঞ্চলকর তথ্য আসে পুলিশের হাতে। তাছাড়া মৃতের বাবা মোঃ আব্দুল মান্নানেরও এই বিষয়ে সন্দেহ হয় এবং তিনি নিশ্চিত হন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করে নি। এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

পরে মৃতের বাবা আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন ও তার চাচা মোঃ সরাফ উদ্দিন’কে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামি মোঃ সাজ্জাতুল আরিফিন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মারুফা’কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। অতঃপর হত্যার ঘটনাকে আড়াল করতে আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন ও তার সহযোগীদের সহযোগিতায় সাজ্জাতুল আরিফিন তার ঘরের বাঁশের তিরের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মৃতের লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।

বগুড়া জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২৩ জুলাই রাত দেড়টার সময় বগুড়া সদর থানার গোকুল বন্দর থেকে আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বগুড়ায় হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।