
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদ হত্যা মামলার আসামি বাসার কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলম। আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলমের করা সবশেষ আবেদন খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে যেকোনো সময় দুই আসামির ফাঁসি কার্যকরে আর বাধা নেই। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার ২৫ জুলাই আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। জাহাঙ্গীরের ভাই সোহরাবের করা রিটের শুনানি শেষে ১৭ জুলাই বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট খারিজ করে আদেশ দেন। পরে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত চাওয়া হয়।
গত ৮ জুলাই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, রাবি শিক্ষক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা কারাবিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন। তবে, সেই আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। তার চিঠি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাঁচ জুলাই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। এখন কারাবিধি মেনেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে। সে সময় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কামাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ায় ফাঁসি কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। এখন জেলকোড অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের ধাপগুলো এক এক করে বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে বুধবার (৩ মে) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ৮ বিচারপতির বেঞ্চ ২১ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেন। পরে নিয়মানুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় রাজশাহীর আদালতে পাঠানো হয়। এরপর রাজশাহীর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন।