র‍্যাগিংয়ের নামে খুন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
  • ১৬৮৫ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শেখ সাদিকুর রহমান নামের এক ছাত্রকে র‍্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পাঁচ দিন পর আজ সোমবার সকালে তাঁর ভাই মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কাপ্তাই থানায় মামলা করেছেন।

নিহত শেখ সাদিকুর রহমানের বাড়ি ময়মনসিংহের পাগলা উপজেলায়। বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির জাহাঙ্গীর ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলার ৫৬ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

মামলার এজাহারে নিহতের ভাই মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, মৃত্যুর আগে একাধিকবার র‍্যাগিংয়ের নামে নির্যাতিত হয়েছেন সাদিকুর। একবার জোরপূর্বক কক্ষে ঢুকে তাঁর চুল ও দাড়ি ফেলে দিয়েছিলেন কয়েকজন ছাত্র। ছাদ থেকে পড়ে সাদিকুরের মৃত্যু হয়েছে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখমের দাগ ছিল। এ ছাড়া তাঁর দুই পায়ের নখ ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃতের ভাই বলছেন তাদের ধারণা, সাদিকুরকে ছাত্রাবাসের সানশেড থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী তাঁর। সাদিকুরকে চুল-দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী খুনে জড়িত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৬ জুলাই গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ সাদিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে জানানো হয়—দোতলার ছাদ থেকে পড়ে সাদিকুর আহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ১৯ জুলাই মৃত্যু হয় সাদিকুরের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবদুল মতিন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, র‍্যাগিং কিংবা হামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন। শিক্ষার্থীর পরিবার যেহেতু থানায় মামলা করেছে, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে উদ্‌ঘাটন করবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ঈদের আগেও সাদিকুরের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। তাঁর পাশের কক্ষেও ভাঙচুর করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাদিকুর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময়ও তাঁর মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেন,‘এই তো, আর দেড় বছর কোনোমতে পার করতে পারলেই বাঁচি।’

কাপ্তাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যার অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

র‍্যাগিংয়ের নামে খুন

আপডেট সময় : ১২:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শেখ সাদিকুর রহমান নামের এক ছাত্রকে র‍্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পাঁচ দিন পর আজ সোমবার সকালে তাঁর ভাই মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কাপ্তাই থানায় মামলা করেছেন।

নিহত শেখ সাদিকুর রহমানের বাড়ি ময়মনসিংহের পাগলা উপজেলায়। বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির জাহাঙ্গীর ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলার ৫৬ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

মামলার এজাহারে নিহতের ভাই মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, মৃত্যুর আগে একাধিকবার র‍্যাগিংয়ের নামে নির্যাতিত হয়েছেন সাদিকুর। একবার জোরপূর্বক কক্ষে ঢুকে তাঁর চুল ও দাড়ি ফেলে দিয়েছিলেন কয়েকজন ছাত্র। ছাদ থেকে পড়ে সাদিকুরের মৃত্যু হয়েছে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখমের দাগ ছিল। এ ছাড়া তাঁর দুই পায়ের নখ ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃতের ভাই বলছেন তাদের ধারণা, সাদিকুরকে ছাত্রাবাসের সানশেড থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী তাঁর। সাদিকুরকে চুল-দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী খুনে জড়িত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৬ জুলাই গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ সাদিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে জানানো হয়—দোতলার ছাদ থেকে পড়ে সাদিকুর আহত হয়েছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ১৯ জুলাই মৃত্যু হয় সাদিকুরের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবদুল মতিন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, র‍্যাগিং কিংবা হামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন। শিক্ষার্থীর পরিবার যেহেতু থানায় মামলা করেছে, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে উদ্‌ঘাটন করবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ঈদের আগেও সাদিকুরের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। তাঁর পাশের কক্ষেও ভাঙচুর করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাদিকুর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময়ও তাঁর মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেন,‘এই তো, আর দেড় বছর কোনোমতে পার করতে পারলেই বাঁচি।’

কাপ্তাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যার অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।