অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মেয়রসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
  • ১৬৭৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভোলার লালমোহন পৌরসভার মেয়র ও তার শ্যালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা বাদী হয়ে দুদ‌কে এ মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯১২ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরস্পর যোগসাজশ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বিপুল পরিমাণে আত্মসাৎ করেছেন তারা। মামলার আসামিরা হলেন- লালমোহনের পৌরমেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন, তার শ্যালক কামাল হোসেন রিয়াজ, পিরোপজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও লালমোহন পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বনিক এবং লালমোহন পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. নিজাম উদ্দিন।

লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাজার এলাকায় লালমোহন পৌর অডিটোরিয়ামের (পার্ট-১, পার্ট-২ ও পার্ট-৩) নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পাদন না করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লালমোহন পৌর অডিটোরিয়াম (পার্ট-১, পার্ট-২ ও পার্ট-৩) এর নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্মাণকাজের জন্য মোট তিনজন ঠিকাদার দরপত্র জমা দেন। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেয়র তুহিনের শ্যালক কামাল হোসেন রিয়াজের মেসার্স রিয়াজ স্টোরকে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার দিন ছিল ২০২০ সালের ২৫ মে। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার কামাল হোসেন রিয়াজ কাজের ৮০ ভাগ শেষ করে ওই বছরের ২১ জুলাই ৮৭ লাখ ১১ হাজার ১৪০ টাকা উঠিয়ে নেন। পৌর অডিটোরিয়ামের বাকি কাজ শেষ না করেই নির্বাহী প্রকৌশলী মের্সাস রিয়াজ স্টোরকে বিল দেওয়ার জন্য মেয়রকে সুপারিশ করেন। মেয়র চূড়ান্ত বিলের অনুমোদন দেন। এর মাধ্যমে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের এক কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৯ টাকা উত্তোলন করে নেয়। গত ১৫ মার্চ গণপূর্ত বিভাগের চার সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলী টিম নিয়ে বাস্তবায়িত নির্মাণকাজের পরিমাপ গ্রহণ করা হয়। নিরপেক্ষ প্রকৌশলী এক কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার কাজ সম্পাদন হয়েছে বলে দেখতে পান।

দুদক বলছে, আসামিরা নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯১২ টাকা বেশি নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। মামলা তদন্তকালে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মেয়রসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভোলার লালমোহন পৌরসভার মেয়র ও তার শ্যালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা বাদী হয়ে দুদ‌কে এ মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯১২ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরস্পর যোগসাজশ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বিপুল পরিমাণে আত্মসাৎ করেছেন তারা। মামলার আসামিরা হলেন- লালমোহনের পৌরমেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন, তার শ্যালক কামাল হোসেন রিয়াজ, পিরোপজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও লালমোহন পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বনিক এবং লালমোহন পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. নিজাম উদ্দিন।

লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাজার এলাকায় লালমোহন পৌর অডিটোরিয়ামের (পার্ট-১, পার্ট-২ ও পার্ট-৩) নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পাদন না করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে লালমোহন পৌর অডিটোরিয়াম (পার্ট-১, পার্ট-২ ও পার্ট-৩) এর নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্মাণকাজের জন্য মোট তিনজন ঠিকাদার দরপত্র জমা দেন। এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেয়র তুহিনের শ্যালক কামাল হোসেন রিয়াজের মেসার্স রিয়াজ স্টোরকে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার দিন ছিল ২০২০ সালের ২৫ মে। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার কামাল হোসেন রিয়াজ কাজের ৮০ ভাগ শেষ করে ওই বছরের ২১ জুলাই ৮৭ লাখ ১১ হাজার ১৪০ টাকা উঠিয়ে নেন। পৌর অডিটোরিয়ামের বাকি কাজ শেষ না করেই নির্বাহী প্রকৌশলী মের্সাস রিয়াজ স্টোরকে বিল দেওয়ার জন্য মেয়রকে সুপারিশ করেন। মেয়র চূড়ান্ত বিলের অনুমোদন দেন। এর মাধ্যমে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের এক কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৯ টাকা উত্তোলন করে নেয়। গত ১৫ মার্চ গণপূর্ত বিভাগের চার সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলী টিম নিয়ে বাস্তবায়িত নির্মাণকাজের পরিমাপ গ্রহণ করা হয়। নিরপেক্ষ প্রকৌশলী এক কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার কাজ সম্পাদন হয়েছে বলে দেখতে পান।

দুদক বলছে, আসামিরা নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯১২ টাকা বেশি নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। মামলা তদন্তকালে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও আসামি করা হবে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।