পাইরেসির শিকার ‘সুড়ঙ্গ’

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
  • ১৬৮০ বার পড়া হয়েছে
এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘সুড়ঙ্গ’ এরই মধ্যে ব্যাপক ব্যবসাসফল সিনেমার মধ্যে নাম লিখিয়েছে। এখনো এই সিনেমাটি হলে হলে রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সিনেমা হলে। দেশ ছাড়িয়ে ছবিটি কলকাতা, আমেরিকাতেও প্রদর্শনী হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যেই পাইরেসির শিকার হয়েছে সিনেমাটি।
ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পর ছোট ছোট কিছু ভিডিও ফাঁস হয়েছিল। সিনেমা সংশ্লিষ্টরা এসব ব্যাপারে বেশ আপত্তি জানিয়েছিল। এবার পুরো সিনেমাই ফাঁস হলো অনলাইনে।
একাধিক সাইটে সুড়ঙ্গ সিনেমাটির হলপ্রিন্ট দেখা যাচ্ছে বিনামূল্যে। সুড়ঙ্গের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির এক কর্মকতা বলেন, এখন পর্যন্ত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা আমাদের এখানে আসেনি। পাইরেসির খবর শোনার পর আমরা ইউটিউব ও ফেসবুকের ৪০০ থেকে ৫০০ ভিডিও নামিয়ে ফেলেছি। আরও কিছু বাকি আছে। অন্য মাধ্যমগুলো থেকে সিনেমার ভিডিও নামানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, ‘সুড়ঙ্গ’ পাইরেসি হলো কীভাবে? সেটি কি মাস্টার কপি নাকি হল থেকে অন্য ক্যামেরায় রেকর্ড করা? আবার কেউ বলছেন, বাংলাদেশে তো পাইরেসি হয় না, এটা নিশ্চয়ই কলকাতার কোনো হল থেকে পাইরেসি হয়েছে। এমন প্রশ্ন আর সন্দেহের খানিক উত্তর মিলেছে ছবিটির সম্পাদক সিমিত রায় অন্তরের অনুসন্ধানে।
তার মতে, ছবিটি বাংলাদেশ থেকেই পাইরেসি হয়েছে। এবং সেটি সিনেমা হল থেকে। সিমিতের ভাষ্য, সুড়ঙ্গ’র পাইরেসি কপি পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝলাম, এটা কোনো রেগুলার শো চলাকালীন রেকর্ড করা হয়নি। কারণ, ভিডিওতে দর্শকদের কোনো রিঅ্যাকশন সাউন্ড নাই। দর্শকদের হাসির শব্দ নেই, কোনো উচ্চবাচ্য নেই! তার মানে, এটা দর্শকশূন্য হলে রেকর্ড করা হয়েছে। ক্যামেরাকে ট্রাইপডে রেখে ভিডিওটি করা হয়েছে। ক্যামেরার কোনো ধরনের নড়াচড়া দেখা যায়নি। অতএব, এটার সঙ্গে সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ জড়িত।
একটা ফাঁকা হলে ট্রাইপডে ক্যামেরা সেট করে আড়াই ঘণ্টার সিনেমা রেকর্ড করা তো সম্ভব না, যদি হল কর্তৃপক্ষ এতে জড়িত না থাকে। সিমিতের বক্তব্য স্পষ্ট, যে হল থেকে এই ছবিটি চুরি হলো সেটির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত। তা না হলে, ফাঁকা হলে পুরো সিনেমা চালিয়ে ভিডিও ধারণ করা অসম্ভব। সিমিতের পর্যবেক্ষণে এ-ও বোঝা গেছে, ছবিটি কোন দেশ থেকে পাইরেসি করা হয়েছে। কারণ, অনেকেই বলতে চাইছিলেন কলকাতা যাওয়ার পরই ছবিটি চুরি হলো অনলাইনে। তবে সিমিতের ভাষ্য ভিন্ন, ‘সুড়ঙ্গ’ বাংলাদেশ থেকেই পাইরেসি হয়েছে। ভারতের সিনেমা কপি আর বাংলাদেশের কপির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে, যা শুধু আমরাই (পরিচালক, সম্পাদক ও প্রযোজক) জানি। এরমধ্যে একটার কথা বলি, তা হলো পেপসির টাইটেল কার্ড। যা ভারতের অংশে ছিল না। শুধু মুভি-সিরিজ ডাউনলোড ওয়েবসাইটে নয়, ইউটিউবেও ছড়িয়ে পড়েছে ‘সুড়ঙ্গ’র অসংখ্য কপি। তবে এটা সরানোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
ছবিটির নির্মাতা রায়হান রাফী জানান, কপিরাইট ক্লেইমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইউটিউবের সব কপি বন্ধ করা হয়েছে। তবে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে এখনও রয়ে গেছে কিছু কপি। সেগুলো ব্লক করার বিষয়ে কাজ চলছে। তবে কি এই ভয়ংকর পরিকল্পিত ডাকাতি যে বা যারা করেছেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন! জবাবে নির্মাতা বলেন, আমরা সব পর্যবেক্ষণ করছি। সহজে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এই ছবিটির সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির পুনর্জন্মের বিষয় জড়িত। ফলে এটাকে গলাটিপে হত্যা করার মতো ঘটনা। আমরা দেখছি বিষয়টি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইরেসির শিকার ‘সুড়ঙ্গ’

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘সুড়ঙ্গ’ এরই মধ্যে ব্যাপক ব্যবসাসফল সিনেমার মধ্যে নাম লিখিয়েছে। এখনো এই সিনেমাটি হলে হলে রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সিনেমা হলে। দেশ ছাড়িয়ে ছবিটি কলকাতা, আমেরিকাতেও প্রদর্শনী হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যেই পাইরেসির শিকার হয়েছে সিনেমাটি।
ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পর ছোট ছোট কিছু ভিডিও ফাঁস হয়েছিল। সিনেমা সংশ্লিষ্টরা এসব ব্যাপারে বেশ আপত্তি জানিয়েছিল। এবার পুরো সিনেমাই ফাঁস হলো অনলাইনে।
একাধিক সাইটে সুড়ঙ্গ সিনেমাটির হলপ্রিন্ট দেখা যাচ্ছে বিনামূল্যে। সুড়ঙ্গের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির এক কর্মকতা বলেন, এখন পর্যন্ত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা আমাদের এখানে আসেনি। পাইরেসির খবর শোনার পর আমরা ইউটিউব ও ফেসবুকের ৪০০ থেকে ৫০০ ভিডিও নামিয়ে ফেলেছি। আরও কিছু বাকি আছে। অন্য মাধ্যমগুলো থেকে সিনেমার ভিডিও নামানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, ‘সুড়ঙ্গ’ পাইরেসি হলো কীভাবে? সেটি কি মাস্টার কপি নাকি হল থেকে অন্য ক্যামেরায় রেকর্ড করা? আবার কেউ বলছেন, বাংলাদেশে তো পাইরেসি হয় না, এটা নিশ্চয়ই কলকাতার কোনো হল থেকে পাইরেসি হয়েছে। এমন প্রশ্ন আর সন্দেহের খানিক উত্তর মিলেছে ছবিটির সম্পাদক সিমিত রায় অন্তরের অনুসন্ধানে।
তার মতে, ছবিটি বাংলাদেশ থেকেই পাইরেসি হয়েছে। এবং সেটি সিনেমা হল থেকে। সিমিতের ভাষ্য, সুড়ঙ্গ’র পাইরেসি কপি পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝলাম, এটা কোনো রেগুলার শো চলাকালীন রেকর্ড করা হয়নি। কারণ, ভিডিওতে দর্শকদের কোনো রিঅ্যাকশন সাউন্ড নাই। দর্শকদের হাসির শব্দ নেই, কোনো উচ্চবাচ্য নেই! তার মানে, এটা দর্শকশূন্য হলে রেকর্ড করা হয়েছে। ক্যামেরাকে ট্রাইপডে রেখে ভিডিওটি করা হয়েছে। ক্যামেরার কোনো ধরনের নড়াচড়া দেখা যায়নি। অতএব, এটার সঙ্গে সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ জড়িত।
একটা ফাঁকা হলে ট্রাইপডে ক্যামেরা সেট করে আড়াই ঘণ্টার সিনেমা রেকর্ড করা তো সম্ভব না, যদি হল কর্তৃপক্ষ এতে জড়িত না থাকে। সিমিতের বক্তব্য স্পষ্ট, যে হল থেকে এই ছবিটি চুরি হলো সেটির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত। তা না হলে, ফাঁকা হলে পুরো সিনেমা চালিয়ে ভিডিও ধারণ করা অসম্ভব। সিমিতের পর্যবেক্ষণে এ-ও বোঝা গেছে, ছবিটি কোন দেশ থেকে পাইরেসি করা হয়েছে। কারণ, অনেকেই বলতে চাইছিলেন কলকাতা যাওয়ার পরই ছবিটি চুরি হলো অনলাইনে। তবে সিমিতের ভাষ্য ভিন্ন, ‘সুড়ঙ্গ’ বাংলাদেশ থেকেই পাইরেসি হয়েছে। ভারতের সিনেমা কপি আর বাংলাদেশের কপির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে, যা শুধু আমরাই (পরিচালক, সম্পাদক ও প্রযোজক) জানি। এরমধ্যে একটার কথা বলি, তা হলো পেপসির টাইটেল কার্ড। যা ভারতের অংশে ছিল না। শুধু মুভি-সিরিজ ডাউনলোড ওয়েবসাইটে নয়, ইউটিউবেও ছড়িয়ে পড়েছে ‘সুড়ঙ্গ’র অসংখ্য কপি। তবে এটা সরানোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
ছবিটির নির্মাতা রায়হান রাফী জানান, কপিরাইট ক্লেইমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইউটিউবের সব কপি বন্ধ করা হয়েছে। তবে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে এখনও রয়ে গেছে কিছু কপি। সেগুলো ব্লক করার বিষয়ে কাজ চলছে। তবে কি এই ভয়ংকর পরিকল্পিত ডাকাতি যে বা যারা করেছেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন! জবাবে নির্মাতা বলেন, আমরা সব পর্যবেক্ষণ করছি। সহজে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এই ছবিটির সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির পুনর্জন্মের বিষয় জড়িত। ফলে এটাকে গলাটিপে হত্যা করার মতো ঘটনা। আমরা দেখছি বিষয়টি।