
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়ে ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে ঘানার পার্লামেন্ট। সর্বশেষ তিন দশকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি এবার বিষয়টি আইনে পরিণত করছে। খবর ভয়েস অব আমেরিকা।
গত মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) এই বিষয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সিদ্ধান্তে ‘স্বাগত’ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডোকে বিধানে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করার আহ্বানও জানিয়েছে মানবাধিকার গোষ্ঠীটি।
বর্তমান আইনের অধীনে ঘানায় গণহত্যা, জলদস্যুতা, চোরাচালান, হত্যা কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়। ১৯৬০ সালের ফৌজদারি ও অন্যান্য অপরাধ আইনের অধীনে ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে এই শাস্তি কার্যকর হতে পারে।
আইন থাকলেও দেশটি বিগত ৩০ বছরে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি। চলতি সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পার্লামেন্ট মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণভাবে রদ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বিলটি উত্থাপন করেন বিরোধী সংসদ সদস্য ফ্রান্সিস-জেভিয়ার সোসু। একে ঘানার গণতন্ত্রের জন্য ‘একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত’ উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা এখন থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করার আহ্বানও জানান তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষের রেকর্ড অনুসারে, এই মুহূর্তে ঘানায় মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা বন্দির সংখ্যা ১৭৬ জন, যাদের ছয়জন নারী। আশা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট আকুফো-আডো আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিলটিতে সম্মতি দেবেন। এর মাধ্যমে ঘানা ৫৫টি আফ্রিকান দেশের মধ্যে ২৯টির একটি লিগে যোগ দেবে, যারা মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে।
এমন নয় যে ঘানার সবপক্ষ আইন প্রণেতাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ঘানা ইউনিভার্সিটির ধর্মীয় প্রভাষক হ্যারি আগবানু বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডের বিলুপ্তি মানুষের জন্য আইন হাতে তুলে নেয়ার জন্য একটি প্রণোদনা হবে।