ঘুরে আসুন সোনারগাঁ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩
  • ১৬৯৬ বার পড়া হয়েছে

কর্মব্যস্ত জীবনে খুব লম্বা ছুটি পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। তাই অল্প সময় নিয়েই  ঢাকার খুব কাছেই এক দিনে গিয়ে চলে আসা যায় এমন ট্যুরিস্ট স্পটগুলো এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অল্প সময়ে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে চলে যেতে পারেন এমন একটি বেড়াবার জায়গা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গদেশের প্রাচীনতম রাজধানী সোনারগাঁ। এখানে দেখার মতো রয়েছে দারুণ সব স্থাপনা। ঢাকার খুব কাছে হেরিটেজ ট্যুরিজমের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। একদিনের ছুটি হাতে নিয়েই দেখে আসতে পারেন ইতিহাসের এই প্রাচীন নগরী।

প্রাচীনকালে সোনারগাঁ’র নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। ঈশা খাঁ ছিলেন এ অঞ্চলের শাসক। তাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এর নাম রাখা হয় “সোনারগাঁ”।

সোনারগাঁ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। ঢাকা থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এর অবস্থান। একসময় সোনারগাঁ ছিল মসলিন কাপড় তৈরির  প্রসিদ্ধ স্থান। সোনারগাঁয়ে তৈরি মসলিনের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ও কদর ছিল, যে ঐতিহ্য এখন আবার ফিরে আসছে নতুন রূপে।

সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বহু নিদর্শন লালন করছে। যে বাড়িতে জাদুঘর করা হয়েছে, তার আদি নাম বড় সরদারবাড়ি।

এই সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা দেশের কিংবদন্তি শিল্পী, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। এটা ছিল তৎকালীন বাংলার শাসক ঈশা খাঁর বাড়ি। বলা যেতে পারে, এটি মুসলিম ঐতিহ্যের এক অনন্য স্থাপনা। বাংলার স্থাপত্যশৈলীর সব নিদর্শন যেন একসঙ্গে গাঁথা এই বাড়িতে। বহুল আলোচিত এই বাড়িটির আয়তন ২৭ হাজার ৪০০ বর্গফুট। ৬০০ বছরের পুরোনো এই ভবনটির সংস্কার করে এর প্রাচীন রূপ ফিরিয়ে আনা হয়।

১৯৯৬ সালে জাদুঘরটি নতুনভাবে স্থাপন করা হয় শিল্পাচার্যের নামে। বিশাল এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এখানকার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভেতরে আছে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লি আর বিশাল এক লেক।

প্রতি শুক্রবার থেকে বুধবার, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্য়ন্ত দর্শনার্থীদের জন্য তা খোলা থাকে। তবে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জুমার নামাজের জন্য জাদুঘর বন্ধ থাকে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে এক হাজার বছরের পুরোনো নগরী যা পানাম নগরী নামে পরিচিত। পানাম নগরে ৫২টি পুরোনো ভবন রয়েছে। যেকোন সময় পানাম নগরে প্রবেশ করা যায়। টিকেট মূল্য জনপ্রতি ১৫ টাকা।

২০০৮ সালে সোনারগাঁয়ে নির্মিত হয় বাংলার তাজমহল। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। অসম্ভব সুন্দর করে সাজানো গোছানো এই তাজমহল দেখতে গুণতে হবে জনপ্রতি ১৫০ টাকা।

সবই তো জানা হলো, ভাবছেন ঐ শহরে যাবেন কিভাবে? খুব সহজ। আপনি যেকোনো সময় ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে গুলিস্তান এসে বাসে চড়ে চলে যেতে পারেন সোনারগাঁয়ে । ঢাকার গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁ যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে।

গুলিস্তানের বোরাক, দোয়েল বা স্বদেশ পরিবহনে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামতে পারবেন। সিএনজি বা রিকশা নিয়ে সরাসরি যেতে পারবেন লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে। সেখান থেকে ১০ মিনিটেই যাওয়া যায় পানাম নগরীতে। নন-এসি বা এসি—যেকোনো বাসেই আপনি যেতে পারেন। এ ছাড়া আপনি রিজার্ভ গাড়ি বা বাইকেও যেতে পারবেন খুব সহজেই। খাবার দাবার নিয়েও ভাবনা নেই। ভালো মানের রেস্তোরাঁ পেয়ে যাবেন আশে পাশেই। রয়েছে বেশ কিছু রিসোর্ট তাই যদি কেউ রাতে থেকে যাবার প্ল্যান করেন, সেও সম্ভব! সরকারি অতিথিদের জন্য রয়েছে জাদুঘর ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব গেস্টহাউস বাংলো।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুরে আসুন সোনারগাঁ

আপডেট সময় : ১২:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩

কর্মব্যস্ত জীবনে খুব লম্বা ছুটি পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। তাই অল্প সময় নিয়েই  ঢাকার খুব কাছেই এক দিনে গিয়ে চলে আসা যায় এমন ট্যুরিস্ট স্পটগুলো এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অল্প সময়ে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে চলে যেতে পারেন এমন একটি বেড়াবার জায়গা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গদেশের প্রাচীনতম রাজধানী সোনারগাঁ। এখানে দেখার মতো রয়েছে দারুণ সব স্থাপনা। ঢাকার খুব কাছে হেরিটেজ ট্যুরিজমের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। একদিনের ছুটি হাতে নিয়েই দেখে আসতে পারেন ইতিহাসের এই প্রাচীন নগরী।

প্রাচীনকালে সোনারগাঁ’র নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। ঈশা খাঁ ছিলেন এ অঞ্চলের শাসক। তাঁর স্ত্রী সোনাবিবির নামানুসারে এর নাম রাখা হয় “সোনারগাঁ”।

সোনারগাঁ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। ঢাকা থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এর অবস্থান। একসময় সোনারগাঁ ছিল মসলিন কাপড় তৈরির  প্রসিদ্ধ স্থান। সোনারগাঁয়ে তৈরি মসলিনের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ও কদর ছিল, যে ঐতিহ্য এখন আবার ফিরে আসছে নতুন রূপে।

সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বহু নিদর্শন লালন করছে। যে বাড়িতে জাদুঘর করা হয়েছে, তার আদি নাম বড় সরদারবাড়ি।

এই সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা দেশের কিংবদন্তি শিল্পী, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। এটা ছিল তৎকালীন বাংলার শাসক ঈশা খাঁর বাড়ি। বলা যেতে পারে, এটি মুসলিম ঐতিহ্যের এক অনন্য স্থাপনা। বাংলার স্থাপত্যশৈলীর সব নিদর্শন যেন একসঙ্গে গাঁথা এই বাড়িতে। বহুল আলোচিত এই বাড়িটির আয়তন ২৭ হাজার ৪০০ বর্গফুট। ৬০০ বছরের পুরোনো এই ভবনটির সংস্কার করে এর প্রাচীন রূপ ফিরিয়ে আনা হয়।

১৯৯৬ সালে জাদুঘরটি নতুনভাবে স্থাপন করা হয় শিল্পাচার্যের নামে। বিশাল এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এখানকার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভেতরে আছে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লি আর বিশাল এক লেক।

প্রতি শুক্রবার থেকে বুধবার, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্য়ন্ত দর্শনার্থীদের জন্য তা খোলা থাকে। তবে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জুমার নামাজের জন্য জাদুঘর বন্ধ থাকে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে এক হাজার বছরের পুরোনো নগরী যা পানাম নগরী নামে পরিচিত। পানাম নগরে ৫২টি পুরোনো ভবন রয়েছে। যেকোন সময় পানাম নগরে প্রবেশ করা যায়। টিকেট মূল্য জনপ্রতি ১৫ টাকা।

২০০৮ সালে সোনারগাঁয়ে নির্মিত হয় বাংলার তাজমহল। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। অসম্ভব সুন্দর করে সাজানো গোছানো এই তাজমহল দেখতে গুণতে হবে জনপ্রতি ১৫০ টাকা।

সবই তো জানা হলো, ভাবছেন ঐ শহরে যাবেন কিভাবে? খুব সহজ। আপনি যেকোনো সময় ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে গুলিস্তান এসে বাসে চড়ে চলে যেতে পারেন সোনারগাঁয়ে । ঢাকার গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁ যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে।

গুলিস্তানের বোরাক, দোয়েল বা স্বদেশ পরিবহনে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় নামতে পারবেন। সিএনজি বা রিকশা নিয়ে সরাসরি যেতে পারবেন লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে। সেখান থেকে ১০ মিনিটেই যাওয়া যায় পানাম নগরীতে। নন-এসি বা এসি—যেকোনো বাসেই আপনি যেতে পারেন। এ ছাড়া আপনি রিজার্ভ গাড়ি বা বাইকেও যেতে পারবেন খুব সহজেই। খাবার দাবার নিয়েও ভাবনা নেই। ভালো মানের রেস্তোরাঁ পেয়ে যাবেন আশে পাশেই। রয়েছে বেশ কিছু রিসোর্ট তাই যদি কেউ রাতে থেকে যাবার প্ল্যান করেন, সেও সম্ভব! সরকারি অতিথিদের জন্য রয়েছে জাদুঘর ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব গেস্টহাউস বাংলো।