
বাংলাদেশ বর্তমানে বেশ কিছু দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করার বিষয়ে আলোচনা করছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি দেশ চীনের নেতৃত্বে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্লক ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে’ (আরসেপ) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আরসেপে অন্তর্ভুক্ত হলে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাড়ার সম্ভাবনার চিত্র সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে আরসেপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।
গতকাল মঙ্গলবার ১আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আসিয়ানসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো আরসেপের অন্তর্ভুক্ত। ফলে বাংলাদেশের এতে সংযুক্ত থাকা যৌক্তিক হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সভায় কিছু পূর্বসতর্কতাসহ আরসেপে বাংলাদেশের যোগদানের পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, আরসেপকে চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক ব্লক বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়াও এই জোটের সদস্য। ভারতও আরসেপে যোগদানের বিষয়ে আলোচনা করে রেখেছে। দেশটি চাইলে আরসেপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারবে। আরসেপভুক্ত দেশগুলো নিজেদের শুল্ক কমানোর জন্য ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় নিয়েছে। বাংলাদেশ আরসেপে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করলে আরসেপভুক্ত ১৫ দেশ এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।