
নওগাঁয় আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটির সদস্য শফিকুর রহমান ওরফে মামুনকে (৪৫) গত বুধবার দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় পিটিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় শফিকুর রহমানের ছোট ভাই শাফিউর রহমান বাদী হয়ে দুই দিন আগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় আজ শুক্রবার ৪ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত মামলা নেয়নি পুলিশ। শফিকুর রহমান ও তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদের নির্দেশে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পর শহরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য হামলাকারীরা হাতে লোহার রড ও লাঠি নিয়ে শহরে মহড়া দেন। শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় শফিকুর রহমানের অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন তাঁরা। হামলার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রকাশ্যে দিবালোকে হাসপাতালের করিডরে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে হামলাকারীদের চেনা যাবে। হামলার পর নাসিমের সন্ত্রাসী বাহিনী মুক্তির মোড়ে আমার অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আমার ওপর হামলার পর আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য নাসিমের লোকজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মালেকের কার্যালয়, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলামের বাসা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে রড-লাঠি নিয়ে মহড়া দেয়। এসব ঘটনার পরও পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা রেকর্ড করছে না।’
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ বলেন, ‘বুধবার পুলিশি সুরক্ষায় নাসিমের লোকজন আমার কার্যালয়ের সামনে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে যায়। পুলিশ সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা বাদ দিয়ে তাঁদেরই সুরক্ষা দিচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করতে এসব করা হচ্ছে। নওগাঁয় এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আগে কখনোই ছিল না। এতে খুবই খারাপ নজির সৃষ্টি হচ্ছে।’ নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়সাল বিন আহসান আজ শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে বিষয়টি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। আর পুলিশি সুরক্ষায় মহড়া দেওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।’
পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে মামলা রেকর্ড করা হবে। বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমানের ওপর হামলার পর তাঁর ছোট ভাই শাফিউর রহমান ওই দিন সন্ধ্যায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি ওই দিন হাসপাতাল এলাকাতেই যাইনি। আপনারা চাইলে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা বাহিনী, ডিএসবি-এনএসআই সদস্যদের কাছ থেকে খোঁজ নিতে পারেন। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’