
প্রযুক্তির দুনিয়াতে প্রোগ্রামিং নামটা যেমন অনেক পরিচিত তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। এক কথাই তথ্য প্রযুক্তির মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে প্রোগ্রামিং। তবে প্রোগ্রামিং করার জন্য প্রয়োজন প্রোগ্রামার আর প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য প্রোগ্রামিং শিখতে হয়, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
তাহলে এই দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? কেনইবা অন্য কিছুর পিছনে সময় না দিয়ে প্রোগ্রামিংয়ের পিছনে সময় দেওয়া দরকার একজন শিক্ষার্থীদের জন্য? আজকে এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
প্রোগ্রামিং কি?
প্রোগ্রামিং হচ্ছে সেট অফ ইন্সট্রাকশনস (set of instructions), যা কম্পিউটারকে বলে তার কি করা দরকার। অর্থাৎ, কম্পিউটারকে দিয়ে কোনো কাজ করাবার জন্য প্রোগ্রামিং এর প্রয়োজন হয়। কম্পিউটার নিজে থেকে কিছু চিন্তা করতে পারেনা এবং কিছু করতেও পারেনা। আর এই জন্য আমাদেরকে প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে কম্পিউটারকে বলে দিতে হয় যে তার কি করতে হবে।
চলুন আরেকটু ভাল করে বোঝা যাক যে প্রোগ্রামিং জিনিসটা আসলে কি বা কিভাবে কাজ করে। মনে করুন আপনি ইউটিউব ভিজিট করলেন, স্ক্র করছেন আর একটি ভিডিও আপনার পছন্দ হলো আর আপনি ভিডিওটির উপর ক্লিক করলেন আর ভিতিওটি চালু হয়েগেল। কিন্তু আপনার ডিভাইস কিভাবে বোঝল যে ভিডিওটির উপর কেউ ক্লিক করলে এটি ওপেন করতে হবে? আপনার ডিভাইসকে এই জিনিসটি শিখিয়ে দিয়েছে কোনো এক প্রোগ্রামার বা অনেক প্রোগ্রামার। আর তারা সেটি বুঝিয়েছে প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে।
বা ধরুন আপনি একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন কিনলেন। এখন মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করলে যে টাইম সেট করেন আর সেই টাইম অনুযায়ীই খাবার গরম হয় এবং টাইম শেষ হয়েগেলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন নিজে থেকে অফ হয়ে যাই, এই সব কিন্তু হয় প্রোগ্রামিংয়ের কারণে। অর্থাৎ, যত ইলেকট্রনিকস ডিভাইস দেখতে পান তার মধ্যে কোনো না কোনো ভাবে প্রোগ্রামিংয়ের সম্পর্ক থাকে। আশা করি এখন বোঝতে পেরেছেন যে, প্রোগ্রামিং কি।
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিংয়ের গুরুত্ব
এখন মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ? এর মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা হচ্ছে আগামী প্রজন্ম যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর বর্তমান পৃথিবীর ভবিষ্যৎ হচ্ছে প্রযুক্তি। যেই দেশের প্রযুক্তি যত উন্নত সেই দেশের শক্তি, ভবিষ্যৎ, জীবনধারা ততটাই উন্নত।
এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যদি প্রোগ্রামিংয়ে পারদর্শী হয় তাহলে তারা দেশের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কেননা প্রযুক্তির দুনিয়াতে কিছু করবার জন্য প্রোগ্রামিং হচ্ছে মুল অস্ত্র। বর্তমানে একটা কথা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, পঞ্চম শিল্প বিপ্লবে প্রোগ্রামিং ছাড়া টিকে থাকে অসম্ভব।
আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে এবং এরই মধ্যে অনেক যুগান্তকারি কর্ম সম্পন্নও করেছে। অনেক শিক্ষার্থীই এখন বিভিন্ন অ্যাপ, সফটও্যার, রোবট সহ অনেক কিছু প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে ডেভেলাপ করছে। যা বোঝাই যে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহী। শুধু এর সংখ্যা বর্তমানে তুলনামূলক অনেক কম।
তাছাড়া প্রোগ্রামিং শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শিখাই। আর কোনো কিছু ডেভেলাপ করা মানে এক বা একাধিক সমস্যা সমাধান করা। তাই প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে প্রবলেম সলভিং স্কিলও বাড়ে। তাই দেশের উন্নয়ন, প্রযুক্তির দুনিয়াই কিছু করার জন্য, জানার জন্য এবং আরও নানান কারণে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শিখা প্রয়োজন।
কিভাবে একজন শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিং শিখতে পারবে?
পুরো বিশ্বই এখন একটি পাঠশালাতে রূপান্তরিত হয়েগেছে। কিছু শিখার জন্য এখন আর কষ্ট করতে হয়না। আর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা তো আরো সহজ হয়েগেছে। বর্তমান সময়ে এসে যদি কোনো শিক্ষার্থী বলে যে সে রিসোর্সের অভাবে প্রোগ্রামিং শিখতে পারছে না তাহলে বোঝতে হবে যে সে ফাঁকিবাজি করছে। কেননা এখন প্রোগ্রামিং শিখার জন্য রিসোর্সের কোনো কমতি নেই। শুধু শিখার ইচ্ছা থাকতে হবে এবং অনেক হার্ডওয়ার্ক করতে হবে।
তারপরও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্তে কিছু উপাই বা ধাপ বলে দিচ্ছি যেন যেকোনো শিক্ষার্থী সহজেই তার প্রোগ্রামিং শিখার যাত্রা শুরু করতে পারে।
প্রোগ্রামিং শিখার ধাপ সমূহ –
- প্রোগ্রামিং ভাষা নির্বাচন: প্রোগ্রামিং শিখার সময় একজন শিক্ষার্থী যেই ভুলটা সবচেয়ে বেশি করে তা হচ্ছে প্রোগ্রামিং ভাষা নির্বাচন। দেখা যাই যে প্রোগ্রামিং শিখতে চাই কিন্তু কোন প্রোগ্রামিং ভাষাটি শিখবে সেইটা নির্বাচন করতে পারেনা এবং এই একটা জিনিস করতে যেয়ে অনেকটা সময় নষ্ট করে ফেলে। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে বর্তমানে ৭০০ এর বেশি প্রোগ্রামিং ভাষা রয়েছে বিশ্বে। তার মধ্যে অল্প সংখ্যাক বহুল ভাবে ব্যবহার করা হয়। এখন এই অল্প সংখ্যা ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যেই কনফিউজ হয়ে যাই সবাই। তাই আমি বলব যেকোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সিলেক্ট করে শিখা শুরু করে দেন, সেইটা পাইথন, জাভা, জাভাস্ক্রিপ্ট, সি/সি++ বা যেইটাই হোক না কেন।
- ইউটিউব: প্রোগ্রামিং ভাষা নির্বাচনের পর ইউটিউবে যেয়ে সেই ভাষা শিখার টিউটোরিয়াল দেখা শুরু করে দেন। আপনি যদি ভিডিও দেখে শিখতে পছন্দ করে তাহলে ইউটিউব সবচেয়ে ভাল জায়গা প্রোগ্রামিং শিখার জন্য।
- ডকুমেন্টেশন: আর আপনি যদি পড়তে বেশি পছন্দ করে থাকেন তাহলে উক্ত প্রোগ্রামিং ভাষার ডকুমেন্টেশন পড়েও শিখতে পারেন বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট যেমন w3school, tutorials point এবং অন্যান্য যেই ওয়েবসাইট আছে সেখান থেকেও চাইলে শিখতে পারেন।
- ধৈর্য: এরপর আপনার শুধু শিখার ধৈর্য প্রয়োজন। শিখতে কঠিন লাগলে ছেড়ে দিলে চলবে না। লেগে থাকতে হবে যতই কষ্ট হোক না কেন। মূল কথা হচ্ছে, চেষ্টা করলে আপনিও একজন সফল প্রোগ্রামার হতে পারবেন।
সর্বশেষ মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে যে, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সকল শিক্ষার্থীদের উচিত প্রোগ্রামিং শিখা। এমনকি প্রযুক্তির জগৎ-এ যদি সে কিছু করতে নাও চাই তাহলে অন্তত প্রোগ্রামিং সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা আবশ্যক সকল শিক্ষার্থীদের জন্য। বর্তমানে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশকে আরও ডিজিটালাইজ করবার জন্য এই দেশের শিক্ষার্থীরাই অবদার রাখবে আর তাদের এই যাত্রাই সহযোগী যোদ্ধা হবে প্রোগ্রামিং।