
আজ শনিবার ৫ আগস্ট দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পেশাজীবী সমাবেশে মির্জা ফখরুল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, আগের মতোই জোর করে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। এখনই গুলি করতে শুরু করেছে। এখনই রাতে বাড়িতে থাকতে দেয় না। মিথ্যা মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির হয়।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপিপন্থী সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) পেশাজীবী সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে পরপর দুটো নির্বাচনকে হাস্যকর করে দিয়ে এ সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। আবারও ক্ষমতায় যেতে পাঁয়তারা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘ডিসির (জেলা প্রশাসক) পরিবর্তন, এসপির (পুলিশ সুপার) পরিবর্তন, পোস্টিং (পদায়ন), প্রশাসনে হাজার হাজার লোককে পদোন্নতি। একটাই উদ্দেশ্য, তারা ভাবছে আগের মতোই আবার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করেই তারা আবার বৈতরণি পার হবে।’
ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা পরপর দুটি নির্বাচনে কারচুপি করে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে।’ জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসনের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়ান। অন্যায্য আদেশ জনগণ মেনে নেবে না। নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান।’
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ।