
গত ছয় বছরে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দূর করতে খরচ হয়েছে ৫৭৯০ কোটি টাকা, কিন্তু নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন না হয়ে আরও প্রকট আকার ধারন করেছে। এখন ভারী বৃষ্টিতে বছরে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার ডুবছে নগর। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বিপুল টাকা খরচ করেও এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন ও সিডিএ পরস্পরকে দায়ী করছে। এবারের জলাবদ্ধতায় সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বহদ্দারহাটের বাড়ির উঠান ও সামনের রাস্তাও ডুবে যায়। শুক্রবারের মতো গতকালও রিকশা চড়ে ঘরে ঢুকতে হয়েছে মেয়রকে। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার দুই দফায় অন্তত ৫০টি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সিডিএ খালগুলো থেকে দৃশ্যত বাঁধ অপসারণ করলেও মাটি রয়ে গেছে। তাতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা জলকপাটগুলোর কাজও শেষ করতে পারেনি। এদিকে আবার সিডিএ এর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, সিটি করপোরেশন ঠিকমতো নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার করছে না। নতুন খালটি খনন করতে পারেনি। এ কারণে নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন ও সিডিএ পরস্পরকে দায়ী করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দুটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার কাজ চলছে। গত ছয় বছরে ৫ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরেও সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী।
আগামী বছরের জুনে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।