
মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে প্রশ্ন ফাঁস করত একটি চক্র। যাদের মধ্যে সাতজনই ডাক্তার। মেডিকেলে বিগত ১৬ বছরে প্রশ্নফাঁস হয়েছে ১০ বার। এতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধ উপায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি করিয়ে শত কোটি টাকা আয় করেছে চক্রটি। চক্রের ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটির অন্তত ৮০ সক্রিয় সদস্য প্রায় ১৭ বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধ উপায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি করিয়ে শতকোটি টাকা আয় করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে সিআইডি।
আজ রোববার ১৩ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি হেডকোয়ার্টারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৩০ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ১২ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, পাবলিক পরীক্ষা এলেই এক শ্রেণির চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সিআইডির তদন্তে বিগত ১৬ বছরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধ উপায়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে শত কোটি টাকা আয়ের প্রমাণ মিলেছে। এই চক্রের সদস্য ৮০ জন হলেও ৭ জন চিকিৎসকসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
২০২০ সালে মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় দায়ী ব্যক্তিরা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় অর্থোপেডিক ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। তাদের অনেকেই প্রাইমেট মেডিকো ও থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত বলে জানান সিআইডি প্রধান। সিআইডি প্রধান জানান, ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র পেয়ে যারা চিকিৎসক হয়েছেন বা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ছেন তাদের অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিআইডি। তাছাড়া, গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেওয়া বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের চেক এবং অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার কাছ থেকে একটি গোপন ডায়েরি উদ্ধার করা হয়, যেখানে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তার চক্রের অন্যান্য সদস্যের নাম রয়েছে। সেসব সদস্যকে ধরতে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে অন্তত ১০ বার এই চক্র মেডিকেলের প্রশ্নফাঁস করেছে। এদের ব্যাংক অ্যঅকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো মানিলন্ডারিং মামলায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।