
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) থেকে পুলিশি পাহাড়ায় বের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দিনগত রাত ৩টা থেকে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। আজ দুপুর ২টায় পিরোজপুরের তার প্রথম জানাজা হবে। সেখান থেকে তার মরদেহ ঢাকায় আনা না হলে আগামীকাল ১৬ আগস্ট বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর রাত তিনটার দিকে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পুলিশ বের করতে চাইলে জামায়াত শিবির কর্মীরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন এবং দাঁড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা জামায়াত শিবির কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে গাড়ির পাশ থেকে চলে যান। এসময় তারা ঢাকায় জানাজার দাবিতে স্লোগান দেন। ফজরের নামাজের পর অ্যাকশনে যায় পুলিশ। ভোর ৫টার কিছু পর হাসপাতালে বাইরে থেকে টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।এতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে পিছু হটে জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা। এসময় মাওলানা সাঈদীর মরদেহ বের করতে গেলে অ্যাম্বুলেন্সের চাকা পাংচার এবং গ্লাস ভেঙে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ সদস্যরা পাংচার হওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি নিজেরা ঠেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। শাহবাগ মোড় পেরিয়ে বারডেম হাসপাতালের সামনে ঠেলে আনার পর অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে মাওলানা সাঈদীর মরদেহ তুলে দেন। পরবর্তীতে সেই অ্যাম্বুলেন্সটি পুলিশি নিরাপত্তায় পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। বর্তমানে শাহবাগ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পিরোজপুরে পৌছার সাথে সাথেই মাওলানা সাঈদীর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে বলে জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে যোগাযোগ করেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।