
আজকাল কিছু শিশুর মাঝে বাড়াবাড়ি রকমের জেদ দেখা যায়, যা কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এমন আচরণের কারণ হতে পারে – “এনটাইটেলমেন্ট কমপ্লেক্স”।
৯টি চিহ্ন দেখে আপনি যাচাই করতে পারেন আপনার সন্তানের এনটাইটেলমেন্ট কমপ্লেক্স আছে কিনা :
১. ভালো আচরণের জন্য সবসময় ঘুষ আশা করে।
২. সাহায্য করার জন্য আগ্রহী হয় না।
৩. অন্যদের চেয়ে নিজেকে নিয়েই বেশি চিন্তিত।
৪. কিছু ভুল হলে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়।
৫. হতাশা সামলাতে পারে না।
৬. দোকানে গেলেই একটি ট্রিট প্রয়োজন হয়।
৭. ভুল করলে উদ্ধারের আশা করে।
৮. মনে করে, কোন নিয়ম তার জন্য প্রযোজ্য না।
৯. আরো চাই, আরো চাই – স্বভাব।
শিশু বিশেষজ্ঞ দের মতে এর জন্য মূলত দায়ী অভিভাবকদের অতিরিক্ত আহ্লাদ। তাই এখন থেকে সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের সময়ে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সেই সাথে নিচের পরামর্শ গুলো মেনে চলতে পারেন-
১. আপনার শিশুকে বলুন, এখন থেকে মাঝে মধ্যে তাকে “না”-ও শুনতে হবে, যেটা অবশ্যই তার ভালোর জন্য। আপনিও সেইমত নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন।
২. কোনোভাবেই শিশুর কোনো বাহানা বা নাটককে প্রশ্রয় দিবেন না। আপনি শক্ত অবস্থানে না থাকলে ও প্রতিবার আপনার আবেগের সুযোগ নিবে।
৩. আগে থেকেই ওদেরকে মন্দ আচরণের পরিণাম সম্পর্কে বলে রাখুন।
৪. যেকোন জিদের শুরুতেই শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিতে পারলে খুব সহজে বিড়ম্বনা এড়ানো যায়।
হঠাৎ আপনার অভিব্যক্তি চেইন্জ করে খুব উত্তেজিত হয়ে বলুন, “দেখো, দেখো, ওটা কি!” আর তারপর কথার মোড় ঘুরিয়ে নিন।
৫. শিশুর প্রতিটি ভালো কাজের প্রতি খেয়াল রাখুন এবং উৎসাহ দিন। জিদের পরিবর্তে ভালো কাজের বিনিময়ে কিছু উপহার দিতে পারেন, যেমন কপালে একটু চুমু।
৬. শিশুর জন্য সব সময় দামী খেলনা বাছাই করবেন না। ওর সৃজনশীলতা বাড়াবে এমন কম মূল্যের জিনিসও উপহার হতে পারে। ওকে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখলেজেদ কমবে।
৭. শিশুকে তার বয়স উপযোগী কাজের দায়িত্ব দিন, যেমন টেবিল মোছা, গাছে পানি দেয়া। এতে শিশুর আত্মমর্যাদা বাড়বে, স্কিল উন্নত হবে, মানুষের কাজের কদর করবে।
৮. শিশুকে ডিভাইস এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার থেকে দূরে রাখুন। এগুলো শিশুর অস্থিরতা বাড়িয়ে দিবে, যা শিশুর জিদ নিয়ন্ত্রণ করতেও বাঁধা দিবে।
-ফারিহা মুশাররাত
ইন্সট্রাক্টর, হোমস্কুল উইথ নূর