
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কর্মকাণ্ড ছিল এই দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মবেশী পাকিস্তানের এজেন্ট। সেটা ইতিহাসে প্রমাণিত। আর সে এই এজেন্ট থাকায় রাজাকারদের পক্ষে ছিল। কাজেই জিয়াকে খুনি বলতে কেন কুণ্ঠাবোধ হয়?
আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যতদিন জিয়ার মতো খুনি কুশীলবের মুখোশ জাতির কাছে উন্মোচিত না হবে, ততদিন এই দেশের বিভাজন দূর হবে না। আর এক্ষেত্রে আমরা আগেও বলেছি, আর এখনও বলছি, বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক। তার মাধ্যমে জিয়ার মতো পেছনের কালপ্রিটদের জাতি চিনুক।
বুধবার, ২৩ আগস্ট দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ : স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুকন্যার অঙ্গীকার শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদল।তিনি বলেন, কর্নেল রশিদ, ফারুকরা একাধিক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে জিয়ার সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছেন জানিয়েছেন। আর জিয়া যদি জড়িত না থাকত, তাহলে কেন তার জুনিয়রদের এই জঘন্য কাজের জন্য গ্রেফতার করল না? বরং উল্টো তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে পরিকল্পনায় সহায়তা করেছে।হানিফ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৯ মে ঢাকা থেকে পাকিস্তানের বিগ্রেড কমান্ডার আসলাম বেগ, জিয়াকে একটা চিঠি লিখেছিল, যেটা এখন ইতিহাসের দলিল। জিয়াকে লেখা চিঠিতে আসলাম বেগ লিখেছিলেন, উই আর হ্যাপি উইথ ইউর জব। গো এহেড, উই উইল এ্যাসাইন মোর জব। এর মানে আমরা তোমার (জিয়া) কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট। জিয়া এমন কী কাজ করেছিলেন যে পাকিস্তানের ব্রিগেড কমাণ্ডার তার ওপর খুশি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পরে পাকিস্তানিদের সাথে দেখা হলে গোলাগুলি ছাড়া আর কিছু হয়নি। সেই সময়ে এত বন্ধুত্ব থাকার তো কিছু নয়। তিনি কোন কোন কাজ করছিলেন? এতেই প্রমাণ হয় জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের দায়িত্ব ছিল সিলেটে। আমি সিলেটে বহু জায়গায় জনসভা করেছি। সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভবাজার, সুনামগঞ্জে জনসভায় জিজ্ঞেস করেছি- জিয়া পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে জানা আছে কিনা, আমাকে জানাইয়েন। জিয়া যুদ্ধ করেছে আমি ইতিহাসে এমন তথ্য পাইনি। আজ পর্যন্ত কেউ জানাতে পারেনি। তাহলে জিয়া যুদ্ধের সময় কী করেছিলেন- প্রশ্ন রাখেন তিনি।আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন জিয়াউর রহমান।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আত্মস্বীকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে তাদের বিচারের আওতায় না এনে বরং তাদেরকে পুরস্কৃত করেছিলেন। জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন এটাই তার বড় প্রমাণ। আর না হলে খুনিদের বিচার না করে কেন দূতাবাসে নিয়োগ দিবে, প্রমোশন পুর্নবাসন করবে।