
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার এসবি নিটিং নামের একটি পোশাক কারখানার কয়েকজন কর্মী আজ শুক্রবার ২৫ আগস্ট ছুটির দিনে দল বেঁধে মাইক্রোবাসে করে সিলেটে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নরসিংদীর শিবপুরে বেপরোয়া গতির ট্রাকের সাথে তাদের মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ৭ জন নিহত ও ৪ জন গুরতর আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শিবপুরের ঘাসিরদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাতজন হলেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মীর মোতাহারের ছেলে মো. সবুজ (৩২), ঝালকাঠির রাজাপুরের আবদুল গণি হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার (২৭), বরিশালের মুলাদীর মজিবর সিকদারের ছেলে আরিয়ান সিকদার (২৫), জামালপুরের সরিষাবাড়ীর দুখু মিয়ার ছেলে রাজু আহমেদ (৩৭), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মৃত আইয়ুব খানের ছেলে আল আমিন খান (২৭), মাদারীপুরের কালকিনির তোফায়েল হাওলাদারের ছেলে আবদুল আওয়াল (৪০) ও কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার নুরু মোল্লার ছেলে বাবুল মোল্লা (৪০)। এ ছাড়া আহত চারজনের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন সাকি, পারভেজ ও দোয়েল।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বলছে, গতকাল দিবাগত রাত তিনটার কাছাকাছি সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পাথরবোঝাই একটি ট্রাক ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে মাইক্রোবাসটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। ঘাসিরদিয়া এলাকায় অন্য একটি গাড়িকে দ্রুতগতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় সামনে চলে আসা মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। পরে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠান এবং নিহত ৫ জনের লাশ উদ্ধার করেন। হাসপাতালটিতে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আরও ২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁদের মৃত্যু হয়। আহত ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ কবির হোসেন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস ও পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। ট্রাকটির চালকও আটক আছেন। নানা মাধ্যমে হতাহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে খবর জানানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।