
শিশুদের ডায়াবিটিস শুনতে অবাক লাগলেও এই রোগের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, দেশে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ডায়াবিটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
চিকিৎসকদের মতে, টাইপ-২ ডায়াবিটিসের জেরে শিশুদের বার বার মূত্রত্যাগ, অতিরিক্ত খিদে, তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যে কোনও ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকখানি বেড়ে যায়। মূলত খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম ও বাড়তি ওজনের সমস্যাকেই টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসাবে নির্ধারিত করা হয়। ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় হুমকি ওজন বেড়ে যাওয়া। যেসব শিশুদের এই রোগ হচ্ছে তাদের দুই-তৃতীয়াংশেরই শরীরের ওজন বেশী। শহুরে খাদ্যাভাসে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের তালিকাই দীর্ঘ থাকে। শিশুদের জলখাবারে ম্যাগি, পাউরুটি, কর্নফ্লেক্সের আধিক্য দেখা যায়। তাই রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।দিনের অধিকাংশ সময়েই এক জায়গায় বসে হয় পড়াশোনা করা কিংবা ভিডিয়ো গেম খেলেই সময় কাটে শহুরে শিশুদের।
এই অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জেরেই ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এবার শিশুদের মধ্যে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমানোর উপায়সমূহ জেনে নেওয়া যাক-
১. শিশুদের খেলার মাঠের বদলে ভিডিয়ো গেমের রিমোট হাতে বেশি দেখা যায়। তাদের মাঠে গিয়ে খেলার প্রতি উৎসাহিত করে তুলুন। প্রতি দিন অন্তত ঘণ্টাখানেক দৌঁড়ঝাপ করা ভীষণ জরুরি।
২. শিশুর ওজন বেড়ে গেলেই সতর্ক হোন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুর উপযুক্ত একটি ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিতে পারেন। ৩. কেক, চকোলেট কুকিজ় কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার বরাবরই শিশুদের বড় প্রিয়। তবে শিশুদের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ায় রাশ টানা জরুরি।
এছাড়া, তাদের ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার উপরেও লাগাম টানতে হবে।