
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম রবিবার (১ অক্টোবর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে জানান অপহরণের একদিন পর ২৯ আগস্ট রঙিন পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে হত্যা করা হয় হৃদয়কে। মুরগিকে পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে বিক্রি করে দিতো খামারে কর্মরত নৃ-গোষ্ঠীর শ্রমিকরা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেন পোল্ট্রি খামারের ম্যানেজার শিবলী সাদিক হৃদয় (১৯)। এ কারণে খামারে কর্মরত ওই শ্রমিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বাগবিতণ্ডাও হয় তার। তখন থেকে শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নেয় হৃদয়কে উচিৎ শিক্ষা দেবে। আর উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাকে খামার থেকে অপহরণ করে চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রঙিন পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে গলা কেটে হত্যা করে লাশ কলা পাতা দিয়ে ডেকে দেয়। লাশ যাতে শনাক্ত না হয় এ জন্য ছুরি দিয়ে শরীর থেকে মাংস পৃথক করে ফেলে দেয়। উমংচিং মারমা এবং অং থুই মারমা হৃদয়কে অপহরণের পরিকল্পনা করে। উচিংথোয়াই মারমা এবং তার অন্যতম সহযোগী ক্যাসাই অং চৌধুরীকে বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামে কাজ আছে বলে ডেকে আনে। তাদেরকে দিয়ে হৃদয়কে হত্যা করা হয়। এরপর মাথাসহ শরীর বিচ্ছিন্ন করা হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া যুবক উচিংথোয়াই মারমা ও তার অন্যতম সহযোগী ক্যাসাই অং চৌধুরীকে শনিবার গ্রেফতারের পর তারা র্যাবকে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানাতে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের সীমান্তভর্তি রঙিন পাহাড় থেকে হৃদয়ের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উমংচিং মারমা নামে গ্রেফতার এক অপহরণকারীর দেখানো মতে পাহাড়ি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে লাশ নিয়ে ফেরার পথে পুলিশের কাছ থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি উমংচিং মারমাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।