
প্রকৃতির অপূর্ব রূপ সজ্জিত মনপুরা দ্বীপ। সময়ের চাকা ঘুরতে ঘুরতে এর বয়স এখন দাঁড়িয়েছে ৮শ বছরে।
ভোলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপাসাগরের কোলঘেষে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা দ্বীপ উপজেলা মনপুরার অবস্থান। সাগরের কোল ঘেষে জন্ম নেওয়ায় স্থানীয়দের কাছে মনপুরা সাগর কন্যা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, আটশ বছরের আগে পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল মনপুরা। এর নির্দশন হিসেবে এখনো দ্বীপটিতে ঘুরে বেড়ায় কেশওয়ালা লোমশ কুকুর। বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভূমি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। চতুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ-শ্যামল ঘেরা মনপুরা। সুবিশাল নদী , চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগানে সমৃদ্ধ।
শীত মৌসুমে এর চিত্র ভিন্ন ধরনের। সুন্দর সাইরেরিয়া থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখিদের আগমনে চরাঞ্চলগুলো যেন নতুন রুপ ধারন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে শীত মৌসুমে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। এর মধ্যে সিংহভাগই ভোলায় অবস্থান করে। তখন সাগর কন্যার মনপুরার চরে অতিথি পাখিদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়। মনপুরার রয়েছে ৮/১০টি বিচ্ছিন্ন চর।
এগুলো হচ্ছে চর তাজাম্মল, চর জামশেদ, চর পাতিলা, চর পিয়াল, চর নিজাম, লালচর, বালুয়ারচর, চর গোয়ালিয়া ও সাকুচিয়ার চর। আর চরগুলো দেখলে মনে হবে কিশোরীর গলায় মুক্তর মালা। চরগুলোতে রয়েছে মানুষের বসতি। যাদের জীবন যাত্রার মানও কিছুটা ভিন্ন ধরনের। জেলে, চাষী, দিন মজুর, কৃষক ও খেয়া পার করে জীবকা নির্বাহ করেন এখানকার বেশীরভাগ মানুষ। তাই সবুজের সমারোহ আর পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত বিচ্ছিন্ন সাগর কন্যা মনপুরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বের দাবি রাখে।
মনপুরার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ। ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চযোগে মনপুরা আসা যায়। সন্ধ্যায় লঞ্চে উঠে সকাল ১০টায় পৌঁছা যায় মনপুরায়। এছাড়াও ভোলা থেকেও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে যাতায়াত করা যায়।