
মাদারীপুরে ১০ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করার দায়ে কাজীসহ বরের চাচা ও কনের বাবাকে এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ১০ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে কাজী অফিসে বসে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন খবরে নজরদারি রাখে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা। পরে কালকিনির ভাটাবালী গ্রামের নুরুল ইসলাম চৌকিদারের ছেলে ইতালি প্রবাসী রুবেল চৌকিদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিক কাজীসহ বর ও কনের পরিবারের লোকজনকে আটক করেন কর্মকর্তারা। পরে খবর দেওয়া হয় সদর উপজেলা প্রশাসনকে।
এক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ফারুক কাজী, বরের চাচা জয়নাল হাওলাদার ও কনের বাবা ওসমান শেখকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাদের পাঠানো হয় কারাগারে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিয়মিত এই অভিযান চলবে বলেও জানান ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদারীপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কনা জানান, পরিপূর্ণ বয়সের আগেই কোনো বিয়ে নয়। সরকারের এই পদক্ষেপ পালনে কঠোর অবস্থানে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও প্রশাসন। এই কাজ যারা করবে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কোথায়ও বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হলে কঠোরভাবে তা প্রতিরোধ করা হবে। আয়োজক, কাজীসহ সবাইকে আইনের আওতায় আসতে হবে।

বাংলাপ্রেস নিউজ ডেস্ক 










