তেল উৎপাদন না করেও শীর্ষে সিঙ্গাপুর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩
  • ১৭১৮ বার পড়া হয়েছে

এক্সনমবিল, শেল, বিপি, সিঙ্গাপুর পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, সেম্বকর্প মেরিন, কেপেল করপোরেশন, পেট্রোচায়না, সিএনওসিসি, সৌদি আরামকো -এমন কোনো বড় বৈশ্বিক তেল কোম্পানি নেই যারা সিঙ্গাপুরে কাজ করে না। অথচ এই দেশটিতে উৎপাদিত হয় না কোনও তেল। দেশটিতে প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকলেও তারা এখন উন্নত দেশ। ২০২২ সালে দেশটির মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৬৭ হাজার ডলারের বেশি।

ভূকৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে একটি ছোট দেশ অর্থনীতিতে কতটা এগিয়ে যেতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সিঙ্গাপুর। তেল উৎপাদন না করেও সিঙ্গাপুর কীভাবে তেল সরবরাহ কেন্দ্র হয়ে উঠল, সেটাই অনেকের হয়তো প্রশ্ন। এর কারণ হচ্ছে তেল পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন। সিঙ্গাপুরে যেসব তেল কোম্পানি কাজ করছে, তাদের দৈনিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল। ফলে তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধন কেন্দ্র। সেই সঙ্গে এক্সনমবিল ও বিপির মতো কোম্পানিগুলো সেখানে অপরিশোধিত তেল শোধনের পর নানা ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যও উৎপাদন করে, যেমন গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েল ইত্যাদি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এসব পণ্য সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করে। ফলে তেলশিল্পে সিঙ্গাপুরকে অপ্রাসঙ্গিক করে রাখার সুযোগ নেই।

সিঙ্গাপুরের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে জাহাজে তেল ভর্তির ক্ষেত্রেও তাদের বন্দর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র। গত কয়েক বছরে তারা বার্ষিক ৪৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৪ কোটি টন তেল বিক্রি করেছে এই উদ্দেশ্যে, যা বিশ্বের সব জাহাজের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবেশজনিত উদ্বেগের কারণে সিঙ্গাপুর এখন সব জাহাজে তেল দেয় না, দেখেশুনে পরিবেশবান্ধব মানদণ্ড পূরণ করে তারা এই তেল বিক্রি করছে।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর।

সামগ্রিকভাবে সিঙ্গাপুরের সরকারি নীতি অত্যন্ত ব্যবসাবান্ধব। তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক নেওয়ার কারণে সিঙ্গাপুরের সুনাম দুনিয়াজোড়া। এ ছাড়া অনেক খাতে তারা কর নেয় না। লভ্যাংশ, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ, উপহার-উপঢৌকন পাওয়া—কোনো কিছুর ওপর সেখানে শুল্ক দিতে হয় না। সোনা-রুপার কেনাবেচাও কর নেই। এই বাধাহীন লেনদেনের কারণে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। সেটাই দেশটিকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে।

তথ্যসূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস, বিবিসি ও ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেল উৎপাদন না করেও শীর্ষে সিঙ্গাপুর

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩

এক্সনমবিল, শেল, বিপি, সিঙ্গাপুর পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, সেম্বকর্প মেরিন, কেপেল করপোরেশন, পেট্রোচায়না, সিএনওসিসি, সৌদি আরামকো -এমন কোনো বড় বৈশ্বিক তেল কোম্পানি নেই যারা সিঙ্গাপুরে কাজ করে না। অথচ এই দেশটিতে উৎপাদিত হয় না কোনও তেল। দেশটিতে প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকলেও তারা এখন উন্নত দেশ। ২০২২ সালে দেশটির মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৬৭ হাজার ডলারের বেশি।

ভূকৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে একটি ছোট দেশ অর্থনীতিতে কতটা এগিয়ে যেতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সিঙ্গাপুর। তেল উৎপাদন না করেও সিঙ্গাপুর কীভাবে তেল সরবরাহ কেন্দ্র হয়ে উঠল, সেটাই অনেকের হয়তো প্রশ্ন। এর কারণ হচ্ছে তেল পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন। সিঙ্গাপুরে যেসব তেল কোম্পানি কাজ করছে, তাদের দৈনিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল। ফলে তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধন কেন্দ্র। সেই সঙ্গে এক্সনমবিল ও বিপির মতো কোম্পানিগুলো সেখানে অপরিশোধিত তেল শোধনের পর নানা ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যও উৎপাদন করে, যেমন গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েল ইত্যাদি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এসব পণ্য সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করে। ফলে তেলশিল্পে সিঙ্গাপুরকে অপ্রাসঙ্গিক করে রাখার সুযোগ নেই।

সিঙ্গাপুরের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে জাহাজে তেল ভর্তির ক্ষেত্রেও তাদের বন্দর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র। গত কয়েক বছরে তারা বার্ষিক ৪৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৪ কোটি টন তেল বিক্রি করেছে এই উদ্দেশ্যে, যা বিশ্বের সব জাহাজের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবেশজনিত উদ্বেগের কারণে সিঙ্গাপুর এখন সব জাহাজে তেল দেয় না, দেখেশুনে পরিবেশবান্ধব মানদণ্ড পূরণ করে তারা এই তেল বিক্রি করছে।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর।

সামগ্রিকভাবে সিঙ্গাপুরের সরকারি নীতি অত্যন্ত ব্যবসাবান্ধব। তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক নেওয়ার কারণে সিঙ্গাপুরের সুনাম দুনিয়াজোড়া। এ ছাড়া অনেক খাতে তারা কর নেয় না। লভ্যাংশ, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ, উপহার-উপঢৌকন পাওয়া—কোনো কিছুর ওপর সেখানে শুল্ক দিতে হয় না। সোনা-রুপার কেনাবেচাও কর নেই। এই বাধাহীন লেনদেনের কারণে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। সেটাই দেশটিকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে।

তথ্যসূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস, বিবিসি ও ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ।