ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শতবার পেছাল

আজ সোমবার ৭ আগস্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুনের ১১ বছর পাঁচ মাস ২৬ দিন পূর্ণ হলো।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নাহার হত্যা মামলায় শত ধার্য তারিখেও র‌্যাব আদালতে প্রতিবেদন দাখিল না করায় আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম নতুন এ দিন ধার্য করেন।

তদন্ত শেষ না হওয়ার বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে র্যাব এই সাংবাদিক দম্পতির মামলাটি তদন্ত করছে। তবে একটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য যত ধরনের উপাদান প্রয়োজন হয়, তার সব কটি এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিয়মিতভাবে আদালতকে আমরা অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসছি।’

সাগর-রুনি খুনের প্রকৃত কারণ কী, কারা খুনে জড়িত, সেটি সুনিশ্চিতভাবে বলার মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ এখনো র্যাবের কাছে আসেনি। তবে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে। ১০০তম বার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা।

তদন্তের অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে ঢাকা মহানগরের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এত বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের তদন্তের অগ্রগতি না হওয়াটা বিব্রতকর। তবে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সেটি তদন্ত প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জমা দেওয়া উচিত। আর উচ্চ আদালত কিন্তু তদন্ত সংস্থাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিতে পারেন।’

১০০তম বার সময় নিয়েও সাগর-রুনি খুনের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার ঘটনা ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, ১০০তম বার সময় নিয়েও যখন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে না; প্রকৃত খুনি শনাক্ত হয় না, তখন সাংবাদিক সমাজ ব্যথিত, বিস্মিত। অথচ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনি ধরার অঙ্গীকার করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশে কোনো সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সাংবাদিক খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের দেশে সেটি হচ্ছে না। ফলে সাংবাদিক খুন করেও বিচারের বাইরে থেকে যাচ্ছেন খুনিরা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান মন্তব্য করেন, সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনের মামলাটি যতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে খুনিদের শনাক্ত করা উচিত ছিল, তার কোনোটিই হয়নি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শতবার পেছাল

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩

আজ সোমবার ৭ আগস্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুনের ১১ বছর পাঁচ মাস ২৬ দিন পূর্ণ হলো।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নাহার হত্যা মামলায় শত ধার্য তারিখেও র‌্যাব আদালতে প্রতিবেদন দাখিল না করায় আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম নতুন এ দিন ধার্য করেন।

তদন্ত শেষ না হওয়ার বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে র্যাব এই সাংবাদিক দম্পতির মামলাটি তদন্ত করছে। তবে একটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য যত ধরনের উপাদান প্রয়োজন হয়, তার সব কটি এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিয়মিতভাবে আদালতকে আমরা অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসছি।’

সাগর-রুনি খুনের প্রকৃত কারণ কী, কারা খুনে জড়িত, সেটি সুনিশ্চিতভাবে বলার মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ এখনো র্যাবের কাছে আসেনি। তবে তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে। ১০০তম বার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা।

তদন্তের অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে ঢাকা মহানগরের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এত বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের তদন্তের অগ্রগতি না হওয়াটা বিব্রতকর। তবে তদন্তের ফলাফল যাই হোক, সেটি তদন্ত প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জমা দেওয়া উচিত। আর উচ্চ আদালত কিন্তু তদন্ত সংস্থাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিতে পারেন।’

১০০তম বার সময় নিয়েও সাগর-রুনি খুনের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার ঘটনা ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, ১০০তম বার সময় নিয়েও যখন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে না; প্রকৃত খুনি শনাক্ত হয় না, তখন সাংবাদিক সমাজ ব্যথিত, বিস্মিত। অথচ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনি ধরার অঙ্গীকার করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশে কোনো সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সাংবাদিক খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের দেশে সেটি হচ্ছে না। ফলে সাংবাদিক খুন করেও বিচারের বাইরে থেকে যাচ্ছেন খুনিরা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান মন্তব্য করেন, সাংবাদিক সাগর-রুনির খুনের মামলাটি যতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে খুনিদের শনাক্ত করা উচিত ছিল, তার কোনোটিই হয়নি।