
অন্যান্য সব বাজারের মতই অস্থির মাছের বাজারও। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের সঙ্গে জোট বেঁধেছে খুচরা বিক্রেতারা। দুয়ে মিলে নানা অজুহাতে ইচ্ছেমতো পকেট কাটছে ভোক্তার। এদের কারণে খুচরায় তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা। এই বাড়তি দামে অসহায় চাষির কোনো লাভ হচ্ছে না। তবে গরিবের পাত থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ। দামের কারণে তাদের আমিষে ধরেছে টান। সামর্থ্য না থাকায় খাবার তালিকা থেকে অনেক আগেই বাদ পড়েছে মাংস। আমিষের স্বাদ নিতে যারা মাছ কিনতেন তাদেরও মাথায় হাত পড়েছে।
চাষিরা বলছেন, শ্রমিকের মজুরি এবং মাছের খাবারের দাম বেড়েছে , এমনকি পুকুরের জমি লিজের দামও বাড়তি। এরপরও চাষি পর্যায়ে মাছের দাম বেড়েছে খুবই কম। এর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে। এটা করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। তারা চাষিদের কাছ থেকে কম দামে কিনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে। খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে কিনে লাভসহ বিক্রি করায় দাম প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে। পালটা অভিযোগ করছেন খুচরা বিক্রেতারা। তারা বলেন, চাষি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা নিরুপায়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফিশ ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হামিদুল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, মাছের খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহণ খরচ, বিদ্যুৎ বিল ও মজুরি বাড়ার কারণে মূলত মাছের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। মাছের খাদ্যের মান ভালো না হওয়ার কারণেও উৎপাদন খরচ বাড়ছে। তবে চাষি পর্যায়ে যে হারে দাম বেড়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা তার চেয়ে উচ্চদামে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করছেন। মাছ চাষ করে একজন চাষি কেজিতে ১০ টাকা লাভ করতে পারছেন না। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীরা একদিনের ব্যবধানেই কেজিতে ৪০-৫০ টাকা লাভ করছেন।

প্রতিনিধির নাম 










