টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৩
  • ১৬৮৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি- অনলাইন।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদের মিলাদ মাহফিলে পুরাতন বাসভবন থেকে অংশ নেবেন সরকারপ্রধান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফুল দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এরপর সেখানে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ধানমণ্ডি থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যান বনানী কবরস্থানে। সকাল সাড়ে ৭টায় সেখানে জাতির পিতার পরিবার সদস্য ও অন্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পাশাপাশি ফুল ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ করেন ও বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের গুলিতে সপরিবারে মারা যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। সেই রাতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরকে হত্যা করে।

নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকট আত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় দুজনই সেদিন প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুকে জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় দাফন করা হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৩

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জেলা প্রশাসন আয়োজিত সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদের মিলাদ মাহফিলে পুরাতন বাসভবন থেকে অংশ নেবেন সরকারপ্রধান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফুল দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এরপর সেখানে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ধানমণ্ডি থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যান বনানী কবরস্থানে। সকাল সাড়ে ৭টায় সেখানে জাতির পিতার পরিবার সদস্য ও অন্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পাশাপাশি ফুল ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ করেন ও বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের গুলিতে সপরিবারে মারা যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। সেই রাতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরকে হত্যা করে।

নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকট আত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় দুজনই সেদিন প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুকে জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় দাফন করা হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।