ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য চীনা রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মনে করেন, যারা মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের উপযোগী নয় বলে দাবি করে আসছেন, তারা কখনোই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যাননি।

ইয়াও বলেন, ‘এটা খুব অদ্ভুত। বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাপনের জন্য কক্সবাজারের পরিস্থিতি উপযুক্ত কি না তারা এই প্রশ্নের উত্তর দেননি। এ বিষয়ে তাদের নিজেদেরই নিজেদের প্রশ্ন করা দরকার।

রোহিঙ্গা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে জর্জরিত করছে। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কক্সবাজার ক্যাম্পে হত্যা, বন্দুকযুদ্ধ, অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার চলছে। সম্প্রতি বহিরাগত সহায়তাও কমেছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য-রেশন প্রতি মাসে ১২ থেকে কমিয়ে ৮ মার্কিন ডলার করা হয়েছে, যা টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়। সব পক্ষই ক্রমবর্ধমানভাবে উপলব্ধি করেছে যে, এখন প্রত্যাবাসনই একমাত্র উপায়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তার দৃঢ় সংকল্প ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন সুবিধার শর্ত জোরদার করতে সাহায্য করেছি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনার ব্যবস্থা করেছি এবং দুই পক্ষকে উৎসাহিত ও সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।’ তার মতে, চীনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ের কাছ থেকে সম্মান, স্বীকৃতি ও আস্থা অর্জন করেছে এবং দুই দেশকে একে অপরের প্রতি তাদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে। ফলে ইতিবাচক কিছু ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য চীনা রাষ্ট্রদূতের

আপডেট সময় : ০১:২৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মনে করেন, যারা মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের উপযোগী নয় বলে দাবি করে আসছেন, তারা কখনোই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যাননি।

ইয়াও বলেন, ‘এটা খুব অদ্ভুত। বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনযাপনের জন্য কক্সবাজারের পরিস্থিতি উপযুক্ত কি না তারা এই প্রশ্নের উত্তর দেননি। এ বিষয়ে তাদের নিজেদেরই নিজেদের প্রশ্ন করা দরকার।

রোহিঙ্গা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে জর্জরিত করছে। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কক্সবাজার ক্যাম্পে হত্যা, বন্দুকযুদ্ধ, অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার চলছে। সম্প্রতি বহিরাগত সহায়তাও কমেছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য-রেশন প্রতি মাসে ১২ থেকে কমিয়ে ৮ মার্কিন ডলার করা হয়েছে, যা টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়। সব পক্ষই ক্রমবর্ধমানভাবে উপলব্ধি করেছে যে, এখন প্রত্যাবাসনই একমাত্র উপায়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তার দৃঢ় সংকল্প ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন সুবিধার শর্ত জোরদার করতে সাহায্য করেছি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনার ব্যবস্থা করেছি এবং দুই পক্ষকে উৎসাহিত ও সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।’ তার মতে, চীনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ের কাছ থেকে সম্মান, স্বীকৃতি ও আস্থা অর্জন করেছে এবং দুই দেশকে একে অপরের প্রতি তাদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে। ফলে ইতিবাচক কিছু ঘটছে বলে মনে হচ্ছে।