
গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই এক এক ধাপ এক এক রকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়। ঠিক তেমনি বাচ্চা লালন পালনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
জন্মের পর পর বাচ্চাকে বুঝতে পারা, ব্রেস্টফিডিং করানো, রাত জেগেও সারাদিন বাচ্চার সেবাযত্ন করা এমন অনেক অনেক চ্যালেঞ্জ। তেমনি বাচ্চার সাড়ে চার থেকে ছয় মাসের সময় মায়ের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হলো বাচ্চার শক্ত খাবার নিয়ে। মায়ের মনে তখন হাজারো প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়।
শক্ত খাবার শুরুর ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে বাচ্চার মধ্যে খাবার শুরু কোন লক্ষ্মণ আছে কিনা। লক্ষ্মণ থাকলে বাচ্চাকে সলিড আস্তে আস্তে সময় নিয়ে ধৈর্যের সাথে শুরু করতে হবে। শুরু করার সময় কিছু জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেনঃ
১) শুরুতে দিনে একবার করে শক্ত খাবার দিয়ে শুরু করবেন। এরপর ৭-১০ দিন পর দিনে দুইবার করে দিবেন এবং তারও ৭-১০ দিন পর দিনে তিনবার করে দিবেন।
২) বাচ্চার এক বছর বয়স পর্যন্ত চিনি ও লবন না দেওয়া ভালো। লবন বাচ্চার কিডনির জন্য ভালো না। আর চিনি বাচ্চার সঠিক খাদ্যাভ্যাস গঠনে অন্তরায়। এছাড়া দাঁতের ক্ষয় সহ অন্য সমস্যা হয়।
৩) যেকোন নতুন খাবার টানা ৩ দিন দিয়ে দেখতে হবে বাচ্চার এলার্জির সমস্যা হয় কিনা। যদি না হয় তাহলে এরপর নতুন কিছু দেওয়া উচিত। একসাথে কয়েক রকম নতুন জিনিস না দেওয়া ভালো।
৪) বাচ্চাকে শক্ত খাবারের শুরু থেকেই অল্প করে পানি দিতে হবে। পানি বাচ্চার হজমে সাহায্য করে।
৫) মনে রাখবেন এক বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চার প্রধান খাবার হলো দুধ। দুধের পাশাপাশি এই সময়টা হলো বাচ্চাকে খাবারের সাথে পরিচয় করানোর সময়। এই সময়টা বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের, রঙের এবং গঠনের খাবারের সাথে পরিচয় করানোর সময়।
৬) কোনভাবেই ডিভাইস দেখিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করবেন না।
বাচ্চার সলিড দেওয়ার শুরুতে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; নিজে এই নিয়ে পড়াশুনা করুন, জ্ঞানার্জন করুন। প্রত্যেক বাচ্চার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ছোট থেকেই তৈরি করতে হয় এবং সেই দায়িত্বটা আমাদের নিজেদেরই।
ড. নাঈমা আলমগীর
প্রিনাটাল ও প্যারেন্টিং কোর্স ইন্সট্রাকটর, রৌদ্রময়ী স্কুল