ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ ঘরোয়া টোটকা

আমাদের স্বাভাবিক রক্তচাপ হল ১২০/৮০ এমএমএইচজি। তবে কোনও কারণে ব্লাড প্রেশার ১৪০/৯০-এর উপরে পৌঁছে গেলেই হাই ব্লাড প্রেশার বলে গণ্য করা হবে।

হাই ব্লাড প্রেশার ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে কিডনি, চোখ, হার্ট সহ দেহের একাধিক অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে অনেকেই হিমশিম খান। অনেক সময়ে সব কিছুর পরেও রক্তচাপ কমানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

তাই বেশি বাড়াবাড়ি হওয়ার আগেই বাড়িতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে হয়তো অনেকটাই সমস্যা কমতে পারে। সুস্থ থাকতে চলুন জেনে নেওয়া যাক হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের ৫টি ঘরোয়া টোটকা-

১. নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আপনাকে নিয়মিত এক্সারসাইজ করতেই হবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করতে পারলেই এই অসুখকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কারোর শরীর চর্চায় অনীহা থাকলে রোজ ৩০-৫০ মিনিট হাঁটতে পারেন।

২. রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। ময়দা, চিনি, সাদা ভাত, কেক, প্যাটি, বার্গার, সাদা পাঁউরুটির মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এমনি আটার রুটির বদলে জোয়ার, বাজরা, রাগির রুটি খেতে পারেন।

সাধারণ ইডলি-ধোসার বদলে সুজি বা রাগির ইডলি খান। হোল-হুইট গ্রেনের আটা পাঁউরুটি খান। ওজন যত নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, তত রক্তচাপও কম থাকবে।

৩. নুন রয়েছে সোডিয়াম যা কিনা শরীর জল ধরে রাখে। আর এই কারণেই বাড়ে প্রেশার। তাই হাই প্রেশার রোগীদের যেন তেন প্রকারেণ নুন খাওয়া কমাতে হবে। বিশেষত, ভাতের পাতে নুন খাওয়া তো চলবেই না। এতেই দেখবেন উপকার পাবেন। আপনার ব্লাড প্রেশার হবে নিম্নমুখী।

৪. প্রেশার রোগীদের ডায়েটে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছে ডাক্তাররা। আসলে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খেলে রক্তনালী রিল্যাক্স করার সুযোগ পায়। ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই হাই প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তাই ডায়েটে শাক, সবজি ও ফল বেশি পরিমাণে রাখার চেষ্টা করুন। এমনকী খেতে হবে দুধ ও দই। এইসব খাবার নিয়মিত খেলেই কিন্তু স্বাস্থ্যের হাল ফিরবে।

৫. ধূমপান, মদ্যপান অবশ্যই কমিয়ে ফেলুন। ধূমপান ছেড়ে দিন। মদ্যপান করুন খুব সীমিত ভাবে। হালের গবেষণা বলছে অ্যালকোহল প্রায় ১৬ শতাংশ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। নিকোটিনও আমাদের রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি সহজ ঘরোয়া টোটকা

আপডেট সময় : ১১:২০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩

আমাদের স্বাভাবিক রক্তচাপ হল ১২০/৮০ এমএমএইচজি। তবে কোনও কারণে ব্লাড প্রেশার ১৪০/৯০-এর উপরে পৌঁছে গেলেই হাই ব্লাড প্রেশার বলে গণ্য করা হবে।

হাই ব্লাড প্রেশার ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে কিডনি, চোখ, হার্ট সহ দেহের একাধিক অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে অনেকেই হিমশিম খান। অনেক সময়ে সব কিছুর পরেও রক্তচাপ কমানো মুশকিল হয়ে পড়ে।

তাই বেশি বাড়াবাড়ি হওয়ার আগেই বাড়িতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে হয়তো অনেকটাই সমস্যা কমতে পারে। সুস্থ থাকতে চলুন জেনে নেওয়া যাক হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের ৫টি ঘরোয়া টোটকা-

১. নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আপনাকে নিয়মিত এক্সারসাইজ করতেই হবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করতে পারলেই এই অসুখকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কারোর শরীর চর্চায় অনীহা থাকলে রোজ ৩০-৫০ মিনিট হাঁটতে পারেন।

২. রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। ময়দা, চিনি, সাদা ভাত, কেক, প্যাটি, বার্গার, সাদা পাঁউরুটির মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এমনি আটার রুটির বদলে জোয়ার, বাজরা, রাগির রুটি খেতে পারেন।

সাধারণ ইডলি-ধোসার বদলে সুজি বা রাগির ইডলি খান। হোল-হুইট গ্রেনের আটা পাঁউরুটি খান। ওজন যত নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, তত রক্তচাপও কম থাকবে।

৩. নুন রয়েছে সোডিয়াম যা কিনা শরীর জল ধরে রাখে। আর এই কারণেই বাড়ে প্রেশার। তাই হাই প্রেশার রোগীদের যেন তেন প্রকারেণ নুন খাওয়া কমাতে হবে। বিশেষত, ভাতের পাতে নুন খাওয়া তো চলবেই না। এতেই দেখবেন উপকার পাবেন। আপনার ব্লাড প্রেশার হবে নিম্নমুখী।

৪. প্রেশার রোগীদের ডায়েটে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছে ডাক্তাররা। আসলে পটাশিয়াম যুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খেলে রক্তনালী রিল্যাক্স করার সুযোগ পায়। ফলে খুব কম সময়ের মধ্যেই হাই প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তাই ডায়েটে শাক, সবজি ও ফল বেশি পরিমাণে রাখার চেষ্টা করুন। এমনকী খেতে হবে দুধ ও দই। এইসব খাবার নিয়মিত খেলেই কিন্তু স্বাস্থ্যের হাল ফিরবে।

৫. ধূমপান, মদ্যপান অবশ্যই কমিয়ে ফেলুন। ধূমপান ছেড়ে দিন। মদ্যপান করুন খুব সীমিত ভাবে। হালের গবেষণা বলছে অ্যালকোহল প্রায় ১৬ শতাংশ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। নিকোটিনও আমাদের রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল।