ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুদকের হেফাজত থেকে ‘অদৃশ্য’ বেক্সিমকোর তারেক আলম, কী ঘটেছিল আড়ালে?

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬৪৮ বার পড়া হয়েছে

তারেক আলম

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকাশ ডিজিটাল টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক আলমকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর সহায়তায় দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারেক আলমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের সন্দেহেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বলে আলোচনায় রয়েছে।

তবে আটকের পরপরই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী তারেক আলম মুক্তি পান। তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল কিনা, নাকি দুদকের হেফাজত থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়—এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর দুদক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করলেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। দুদক কভার করা একাধিক সাংবাদিকের মতে, হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচারের সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। এ নিয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আকাশ ডিজিটাল টিভির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, তারেক আলম বর্তমানে অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন না। তিনি দেশে অবস্থান করছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন—এ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, আটকের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দেশত্যাগ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী কর্পোরেট গোষ্ঠী তারেক আলমের আটকের তথ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অপসারণের কথাও শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত টিম কাজ করছে।

এ অবস্থায় চলমান তদন্তের মধ্যেই একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন দুদক কমিশনারদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তারেক আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদকের হেফাজত থেকে ‘অদৃশ্য’ বেক্সিমকোর তারেক আলম, কী ঘটেছিল আড়ালে?

আপডেট সময় : ১২:৪০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকাশ ডিজিটাল টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক আলমকে আটক করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর সহায়তায় দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারেক আলমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের সন্দেহেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় বলে আলোচনায় রয়েছে।

তবে আটকের পরপরই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী তারেক আলম মুক্তি পান। তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল কিনা, নাকি দুদকের হেফাজত থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়—এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর দুদক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করলেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। দুদক কভার করা একাধিক সাংবাদিকের মতে, হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচারের সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। এ নিয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আকাশ ডিজিটাল টিভির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, তারেক আলম বর্তমানে অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন না। তিনি দেশে অবস্থান করছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন—এ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, আটকের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি দেশত্যাগ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী কর্পোরেট গোষ্ঠী তারেক আলমের আটকের তথ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অপসারণের কথাও শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত টিম কাজ করছে।

এ অবস্থায় চলমান তদন্তের মধ্যেই একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন দুদক কমিশনারদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তারেক আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।